সুশান্ত বর্মন

যারা কবিতা পড়েন না, তারা যখন কবিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তখন কিছু বলতে ইচ্ছা করে না সুশান্ত বর্মন


[সুশান্ত বর্মন। ১৯৭৩ সালে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতীরে পাঁচগাছী ইউনিয়নভুক্ত একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতার চাকুরীসুত্রে বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা শেষে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মান ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী (১৯৯৪) অর্জন করেন রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে৷ সম্পাদনা করেছেন কুড়িগ্রামের নারী লেখকদের নির্বাচিত কবিতার সংকলন ‘দিঘি’, প্রবন্ধের পত্রিকা ‘ব্যবচ্ছেদ’ (প্রথম সংখ্যা)৷ বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) হিসেবে কর্মরত৷ ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে পরিচালনা করছেন বাংলা ভাষায় বই বিষয়ক একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট ‘গ্রন্থগত’ (granthagata.com)৷ বইপ্রেমী ও সাহিত্যানুরাগী এই মানুষটির ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে রয়েছে পাঁচ সহস্রাধিক বই৷ বইপাঠে তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তুলতে তিনি প্রতি বছর ব্যক্তিগতভাবে নানারকম উদ্যোগ নিয়ে থাকেন৷ যার মধ্যে অনতম হলো, কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠাগার খুঁজে বের করা এবং সেখানে নিজের বেতনের টাকা বই কিনে উপহার দেয়া৷ কথাবলির পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নূর মোহাম্মদ কলিম।]

নূর মোহাম্মদ কলিম : এই কথাটি প্রচলিত যে, ‘বাঙলাদেশে কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারনত বাঙলা বিভাগে সেই ছাত্ররাই ভর্তি হয় যারা অন্য কোনো বিভাগে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়েছে৷’ প্রথমত, একজন বাঙলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই৷ দ্বিতীয়ত, আপনি কেন বাঙলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, তা জানতে চাই৷

সুশান্ত বর্মন : প্রচলিত বয়ানটি যথার্থ নয়। আমার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ বিষয় হিসেবে 'বাংলা'কে আগে থেকেই ভয় পেত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রত্যাশীদের প্রায় প্রত্যেকের 'বাংলা' বিষয়ে ভীতি আছে। তারা জানে যে সম্মান শ্রেণীর প্রত্যেকটি বিষয়ই কঠিন, কিন্তু বাংলা আরও কঠিন। অন্য বিষয়গুলোতে মুখস্তবিদ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন হলেও হতে পারে, কিন্তু বাংলায় সম্ভব না। এখানে চিন্তা করতে হয়, বিভিন্ন পরস্পরবিরোধী তত্ত্বকথার চুলচেরা বিশ্লেষণের সামর্থ থাকতে হয়। প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর নতুন প্রজন্ম মুখস্থবিদ্যায় অসাধারণ পারদর্শী। তারা জানে যে বাংলা তাদের জন্য নয়। আর এখন তো নিজস্ব পছন্দের চাইতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার জানামতে বাংলায় ভর্তির সুযোগ পেতে হলে এইচএসসিতে 'বাংলা' বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নম্বর থাকতে হয়। না থাকলে জাবি বিষয়টিতে ভর্তির সুপারিশ করে না। কেউ অন্য বিষয়ে ভর্তি হতে ব্যর্থ হলে তাকে বাংলায় পাঠানো যেতে পারে, যদি তার নির্দিষ্ট নম্বর থাকে। তবে, কোথাও সুযোগ না পেয়ে কেউ মন খারাপ করে নিজে থেকে যেচে এসে বাংলায় ভর্তি হয়েছে, এমন ঘটনা বোধহয় বিরল।

সম্পূরক প্রশ্নটির উত্তরে জানাই যে আমাদের সময়ে ১৯৯১ সালে সম্মান শ্রেণীতে পছন্দের বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো। নানাবিধ পারিবারিক, সামাজিক কারণে বাংলায় ভর্তি হয়েছি।


নূর মোহাম্মদ কলিম :  আপনি সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারি তৈরির জন্য বেশ কয়েক বৎসর ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিশদে জানতে চাচ্ছি৷

সুশান্ত বর্মন : আমি মনে করি বাঙালি জাতির হাজার বৎসরের শ্রেষ্ঠ অর্জন একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এই জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় একটি অনুভূতি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পর মুক্তিযুদ্ধ শব্দটি উচ্চারণ করাই দুরূহ ছিল। প্রায় বিশ বৎসর ধরে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে নিরন্তর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজে দারুণ সহায়তা দিতে পারে একটি 'মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারি'। আমি দেশের প্রত্যেকটা থানায় একটি 'মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারি' স্থাপনের প্রস্তাব বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পত্রিকার কাছে সরাসরি ও ইমেইলের মাধ্যমে সাত আট বৎসর ধরে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কারও কোনরকম আগ্রহ আমি দেখিনি। অথচ মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারির এক একটি ছবি শত বক্তৃতার কাজ করত। দেশের প্রান্তিক মানুষেরা নিজের চোখে পাকিস্তানী ও রাজাকারদের অপকর্মের ছবি দেখতে পেত। দেশবিরোধীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হত না।

বর্তমান সরকার দেশের প্রত্যেকটা জেলা ও উপজেলায় 'মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন' তৈরি করছে। এটা একটা দারুণ সুযোগ। এই প্রজেক্টের যে রূপরেখা অনলাইনে পাওয়া গেছে, তাতে জানা যায় যে এই কমপ্লেক্স ভবনটি প্রাথমিকভাবে পাঁচতলা ভিত্তির উপরে তিনতলা ভবন হিসেবে তৈরি হবে। এর উপরের তলা মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস ও অন্যান্য কাজকর্মের জন্য রেখে নিচের দুটি তলা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হবে। প্রস্তাবপত্রের কোথাও এই ভবনের দায়িত্ব-কর্তৃব্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেবার কাজটি উল্লেখ নেই। অর্থাৎ এত টাকা দিয়ে বানানো ভবনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-দর্শন জাতির হৃদয়ে বিকশিত করার জন্য কোন কাজ করবে না। দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার অজুহাতে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক মার্কেট ভবন হিসেবে ব্যবহার হবে। কী হতাশার কথা, তাই না! অথচ এটা একটা দারুণ সুযোগ ছিল।

আমার প্রস্তাব হল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি থানা/উপজেলা ও জেলা সদরে যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণ করা হল, তার নিচের তলাটিতে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারি তৈরি করা হোক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রকাশিত ১০০টি ছবির যে প্যাকেটটি আছে সেই ছবিগুলো গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হোক। মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ছবি বা উপাদান একই গ্যালারিতে প্রদর্শন করা যেতে পারে। হাতের কাছে হওয়ায় এই গ্যালারি দেশের প্রান্তিক গ্রামীন মানুষেরা সপরিবারে সহজে ভ্রমণ করতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের বেশ কয়েকটি ছবি আছে, যেগুলো দেখলে যে কোন মানুষ মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় শিহরিত হবে। চার মাসের ছোট্ট শিশু রেহানা'র জামা কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চিত্র গ্যালারিতে থাকা গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় প্রসব করা মা ও শিশুর ছবিটি যদি সাধারণ মানুষকে দেখানো যায়, তাহলেই সরকারের উদ্দেশ্য অনেকাংশে সফল হয়ে যাবে।

আমি এই বিষয়টি দেশের সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের সুধীজন অনেককে জানিয়েছি। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারতাম, তাহলে হয়তো তিনি বুঝতেন। তার একটি মাত্র আদেশে এই কাজটি হয়ে যেতে পারে।

 
নূর মোহাম্মদ কলিম :  জন্ম-মৃত্যুর মাঝখানের জীবন সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী?


সুশান্ত বর্মন : সময়টুকু মূল্যবান। এই মহার্ঘ জীবন আনন্দ ও সৃষ্টিশীল কাজে ব্যয় করা উচিত।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  লিখতে কেমন লাগে? ছোটবেলায় কি লেখালিখি করতেন?

সুশান্ত বর্মন :  লিখতে কষ্ট লাগে। যতক্ষণ লিখি ততক্ষণ এক যন্ত্রণার মধ্যে থাকি। হ্যাঁ, নবম-দশম শ্রেণী থেকে লেখালিখি করি।

নূর মোহাম্মদ কলিম : এখন কি কোনোকিছু লিখছেন বা অনুবাদ করছেন?

সুশান্ত বর্মন :  এখন তামিলভাষার প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন 'থিরুক্কুরাল' অনুবাদ করছি।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  আপনি অনিয়মিতভাবে ননফিকশন অনুবাদ করেন জানি৷ অনুবাদ করতে কোন কোন ব্যাপারগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয় বলে অভিজ্ঞতার আলোকে আপনি মনে করেন?

সুশান্ত বর্মন :  এগুলো ঠিক অনুবাদ নয়, বাংলায় রূপান্তরের চেষ্টা। কয়েকটি সাক্ষাৎকার মাত্র। ননফিকশন অনুবাদ করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হয়। ফিকশনে বোঝানোর সুবিধার্থে মূল বিষয়টি ঠিক রেখে ঘুরিয়ে, একটু বাঁকা করে অন্য শব্দ ব্যবহার করার সুযোগ আছে। কিন্তু ননফিকশনে এটা করা অনেকসময় কঠিন হয়ে পড়ে। অনুবাদ করতে গিয়ে শব্দের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়। কারও কথা বলার ভঙ্গি বা আবেগ ভিন্নরকম, শব্দ ব্যবহারে একেকজনের দক্ষতা একেকরকম। ভাষায় ব্যবহৃত প্রবাদ ও প্রবচন অনেক সময় অনুবাদকে জটিল করে তোলে। এছাড়া ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল, সংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঘটনাবলী এসব সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকাটা অনুবাদকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  একজন শিক্ষক হিসেবে আপনার পাঠদানের প্রিয় বিষয় কী?

সুশান্ত বর্মন :  আমার 'বাংলা' বিষয়ের সবকটি অংশ আমার প্রিয়। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সাহিত্যতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস কোনটিই আমার অপ্রিয় নয়।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  শিক্ষকতা উপভোগ করেন?

সুশান্ত বর্মন :  হ্যাঁ, অবশ্যই। মন যত খারাপ থাকুক, শ্রেণীকক্ষে ঢুকলে মন ভাল হয়ে যায়।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  আপনার কি বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক বিশ্বাস আছে?

সুশান্ত বর্মন :  না, ঠিক সেই অর্থে কোন বিশেষ ধরণের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা আমি পরিচালিত হই না।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  আপনি কী ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন?

সুশান্ত বর্মন :  সব ধরণের বই পড়তে পছন্দ করি। তবে আমার জানা নেই, এমন কোন নতুন প্রসঙ্গ আলোচনা করা হয়েছে, এমন বই বেশি ভাল লাগে।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  এখন কোন বইটি পড়ছেন?

সুশান্ত বর্মন :  আনোয়ার পাশা'র লেখা "রবীন্দ্র ছোটগল্প সমীক্ষা"।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের আলোচনা-সমালোচনা চর্চা কেমন হচ্ছে?

সুশান্ত বর্মন :  খুব কম। আমরা আলোচনা সমালোচনা করার সামর্থ হারিয়ে ফেলেছি। ভিন্নমত শ্রবণ করার শক্তি বিসর্জন দিয়েছি। এমতাবস্থায় যা হচ্ছে তা চর্বিতচর্বণ মাত্র। অবশ্য আমরা বাংলা সাহিত্যজগতে নতুন কিছু সৃষ্টি করতেও পারছি না। আলোচনা-সমালোচনা হবে কী নিয়ে?

নূর মোহাম্মদ কলিম : শূন্য এবং প্রথম দশকের বাঙলাদেশের কবিতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই৷

সুশান্ত বর্মন :  স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা কবিতায় তেমন কেউই বৈশিষ্ট্যসম্পদে ধনী নন। প্রত্যেক দশকেই একাধিক কবি আছেন, যারা অপার সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। এদের প্রত্যেকের ছিল অপরিসীম মেধা ও সাহস। কবিতায় নতুন চিহ্ন-চিত্র নির্মাণে এদের প্রত্যেকেই ছিলেন শক্তিমান। কিন্তু আমাদের এঁদো ডোবা পুকুরে সবই তলিয়ে যায়। এই নশ্বর পৃথিবীর কোন কিছু চিরস্থায়ী নয়। এটাই আমাদের সান্তনা। অন্যরা বিতর্ক, দ্বন্দ্ব, নির্মাণে, ভিন্নমতের মুখোমুখি হওয়ার শক্তি অর্জনে সচেষ্ট; আর আমরা, গ্রহণাকাঙ্ক্ষায় আত্মসমর্পিত।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  বর্তমান সময়ের কবিতার বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্নতা ও দুর্বোধ্যতার অভিযোগ বিষয়ে কিছু বলেন। 

সুশান্ত বর্মন :  এই প্রশ্নের উত্তরে বলার মতো তেমন কিছু পাচ্ছি না। যারা কবিতা পড়েন না, তারা যখন কবিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তখন এর উত্তরে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না। কবিতা নিয়মিত পড়তে হয়, নতুন নতুন কবিতার সাথে, কবির ভঙ্গি'র সাথে পরিচিতি হতে হয় তারপর তো আসে অনুধাবনের প্রসঙ্গ। বর্তমান সময়কালে মানুষ অস্তিত্ববাদে বিশ্বাসী। এখানে প্রত্যেকে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন। কেউ কোন কিছু বা কারও সাথে সংযুক্ত হতে আগ্রহী নয়। এমতাবস্থায় সামাজিক যে পরিবর্তন অনিবার্য তাই হয়েছে এবং হবে। কিন্তু শুধুমাত্র কবিতাকে যখন দোষ দেয়া হয়, তখন অন্তত ভাল লাগে এটা ভেবে যে মানুষ কবিতার কাছে আশ্রয় চায়। সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু কবিতার সান্নিধ্য কামনা করে। এতদিন অবহেলায় থাকা কবিতা অভিমান করবে, সাড়া দেবেনা সেটাই তো স্বাভাবিক। 'জনবিচ্ছিন্নতা' ও 'দুর্বোধ্যতা' শব্দগুলো পাঠককেন্দ্রিক। এইসব বিশেষণ পাঠক নির্ধারণ করে নিজের অবস্থান থেকে। কবি বা কবিতার অবস্থান থেকে নয়।

নূর মোহাম্মদ কলিম : কবির কি পাঠকের রুচির সাথে আপোষ করে কবিতা লেখা উচিত?

সুশান্ত বর্মন :  কবি পাঠকের রুচি তৈরি করে, পাঠকের রুচি দ্বারা প্রভাবিত হয় না। কবি কোনও কিছু বা কারও সাথে আপোষ করবে কেন? কোন পরাধীন ব্যক্তি কি কবি হতে পারে?

নূর মোহাম্মদ কলিম :  সাম্প্রতিক সময়ের বাঙলাদেশের কথাসাহিত্য সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই৷

সুশান্ত বর্মন :  আমার স্বল্প পঠনের আলোকে বলা যায় বাংলাদেশের কথাসাহিত্য এক ঘোর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাবনা হিসেবে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা স্ফুলিঙ্গমাত্র এবং অপ্রতুল। ক্রান্তিকালের অন্তিম সময় সমাগত। বাংলাভাষার অর্থনৈতিক গুরুত্ব নির্মাণ করবে ভবিষ্যত দৃশ্যপট।

দেখুন, আমাদের দেশে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাব্যবস্থার সাথে কোনরকম সংশ্রব রাখে না। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদেরকে কর্মী সরবরাহ করে। কতিপয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান সাহিত্যিকদের করুণা করার ভঙ্গি করে। কিন্তু মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে সাহিত্যিকরাই। আর দেশপ্রেমী মানুষ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনলে উপকৃত হচ্ছে কিন্তু করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোই। উপনিষদে আছে 'সাহিত্যবোধহীন মানুষ পশুর সমান'। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে যে রুচিশীলতা, সংস্কৃতিমানতা'র চর্চা করে, তা কল্পনা করে, বিনির্মাণ করে সাহিত্যিক-শিল্পীগণ। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের ভবিষ্যত আমি ভাবতে চাই না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বাঙালি থাকবে কি না বলা কঠিন। বিদেশী সাহিত্য, বিদেশী সংস্কৃতি, বিদেশী শিল্প-রুচি সবকিছুই যদি বিদেশীটা ভাল লাগে, তাহলে আর বাঙালি থাকে কোথায়? তখন করপোরেট কাদেরকে নিয়ে ব্যবসা করবে তা বলাই বাহুল্য। অথচ অর্থনৈতিক শক্তি যে কোন বিকাশের অন্যতম সহায়ক। বড় বড় প্রতিষ্ঠান কি পনেরো বিশ কোটি টাকার কোন প্রজেক্ট নিতে পারে না সাহিত্যিক তৈরি করার? পাঁচ বৎসর দশ বৎসর ধরে যদি চেষ্টা করা যায়, তাহলে কি মেধাবী লেখক কাউকে বের করে আনা যাবে না? বাঙালি কি এতটাই মেধাহীন? আমি তো মনে করি আমার যে একটা প্রজেক্ট প্রস্তাব আছে, কুড়িগ্রামে একশতটি পাঠাগার তৈরির, সেটা যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে কুড়িগ্রাম থেকেই দশ বৎসরের মধ্যে একাধিক চিন্তাশীল লেখক বের করে আনা সম্ভব। আরও কত ভাবেই না লেখক সাহিত্যিক শিল্পীদের উৎসাহ দেয়া যায়!

বাংলাদেশে বর্তমানে যারা লিখছেন, তারা প্রচন্ডরকমের বিরূপ পরিবেশের মধ্যে তীব্র চাপ সহ্য করছেন। এটা কঠিন কাজ। সবাই এতটা পরিশ্রমী হতে পারেন না। সেজন্যই এখানে শিল্পসফল শিল্পী কম। এমন অবস্থায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে বই লিখিয়ে নেয়। কিন্তু আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টি বুঝতেই পারছে না। এসব দেখে কারও হয়ত মনে হতে পারে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোয় কোন সংস্কৃতিমান, সাহিত্যবোধসম্পন্ন বিনয়ী মানুষ কাজ করে না।

কেউ টাকার জন্য লেখে না। এটা ঠিক। কিন্তু তার পেট যদি অন্য কেউ নিয়মিত ঠাণ্ডা করার দায়িত্ব নিত, তাহলে তিনি আরও বেশি লেখার সুযোগ পেতেন। প্রতিটি লেখা/ আঁকা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ। যদি আন্তর্জাতিক মানের উপাদান তৈরি হয়, তাহলে আখেরে কার লাভ? সেই সাহিত্যিকের একার নাকি সমাজ ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সবার? এসব বিষয় সমাজের ধনী মানুষদেরকে বুঝতে হবে। সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। শুধু নাচ/গান/ খেলাধুলা শিল্প- সংস্কৃতি নয়; এটুকু বোঝার মত শিক্ষা ধনী মানুষদের আছে, এই প্রত্যাশা করি।

ও হ্যাঁ, কয়েকদিন আগে বিবর্তনের পথে ইউরোপ নামে একটি বই পড়ছিলাম। এখানে ১৫ থেকে ১৭ শতকের ইতিহাস আছে। আমি অশেষ দুঃখ নিয়ে দেখলাম ওরা ১৪-১৫ শতকে যা বুঝেছে আমরা এই বিংশ শতকেও তা বুঝতেছি না।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  লেখা এবং বই (ই-বুক) প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে অন্তর্জালকে কীভাবে দেখছেন?

সুশান্ত বর্মন :  খুব ইতিবাচকভাবে। উপাদান যুগে যুগে পাল্টায়, সারবস্তু টিকে থাকে। কখনও পার্চমেন্টে, কখনও মাটির খন্ডে, পাথরে, কাগজে, ভিনাইল রেকর্ডে, ক্যাসেটের ফিতায় আর সমকালে ডিজিটালরূপে অন্তর্জালের অন্দরে বন্দরে। পাঠকের কাছে লেখা এবং বই পৌছে দিতে ইন্টারনেট খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। এটা আমরা সবাই যত তাড়াতাড়ি বুঝব, ততই মঙ্গল।


নূর মোহাম্মদ কলিম :  লিটল ম্যাগাজিনগুলি সাহিত্য বিকাশে কী গুরুত্ব বহন করে?

সুশান্ত বর্মন :  যে কোন ভাষার সাহিত্য বিকাশে লিটল ম্যাগাজিনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন চিন্তা, নতুন ভঙ্গি, নতুন নির্মাণ প্রকাশের উপযুক্ত জায়গা লিটল ম্যাগাজিন। এটা অনেকটা বিজ্ঞান জার্নালের মত। নতুন গবেষণার বিবরণ কোন জাতীয় পত্রিকা ছাপবে না। কিন্তু সেটা ছাপা প্রয়োজন। সেজন্য বিজ্ঞানীদের নিজস্ব প্রকাশনা আছে। লিটল ম্যাগাজিনও অনেকটা সেরকম। নতুন ভঙ্গিতে একটি কবিতা লেখা হয়েছে, সেটা প্রকাশ করা প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয় পত্রিকাগুলো এই নতুন ভঙ্গির কবিতা ছাপবে না। অতএব আলাদা পত্রিকা দরকার। লেখাটি যদি মানসম্পন্ন হয় তাহলে সেটা প্রখ্যাত হবে, না হলে নেই। কিন্তু প্রকাশ তো হল, অনেকে পড়লেন, মান বিচার করলেন। সেটা জরুরী। এই কাজটাই করে লিটল ম্যাগ। অনেকে এর সাথে বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি শব্দ, চেতনা, তত্ত্ব জুড়ে দেয়। এসব বাহুল্য মাত্র। এরা সবকিছুতে রাজনীতি জুড়ে দিতে চান। যদি তারা রাজনীতি করতে করতে সাহিত্য করতেন, তাহলে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু আসলে তারা সাহিত্য করতে করতে রাজনীতি করতে চান। রাজনীতি মানেই আধিপত্য। তোমারটা বেঠিক, আমারটা সঠিক। তুমি যদি আমার কথা না শোন, না মানো, তাহলে তুমি আমার শত্রু। এই হল রাজনীতি। তার মানে তারা সাহিত্য জগতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপায় মনে করেন লিটল ম্যাগাজিনগুলোকে।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  বাঙলা ভাষায় বই আলোচনা বিষয়ক এখন পর্যন্ত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আপনি৷ এটি সম্পর্কে জানতে চাই৷ কেন এটা শুরু করলেন, উদ্দেশ্য, আর আইডিয়াটি কীভাবে মাথায় এলো?

সুশান্ত বর্মন :  বাংলাদেশে বর্তমানে সাধারণ্যে বই পড়ার হার বেশ কম। আর এর জন্য সবাই দোষ দেয় তরুণদের। আমি মনে করি তরুণরা বই পড়ছে না এটা তথ্য হিসেবে সঠিক। কিন্তু না পড়ার কারণ হিসেবে যে সব বিষয়কে দায়ী করা হয় তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সমাজে সার্বিকভাবে বই পড়ার হার কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে আমি অভিভাবকদের বই না পড়াকে দায়ী করতে চাই। প্রবীণগণ নিজেরা কিরকম বই পড়েন তা কিন্তু সামাজিক আলোচনাগুলোতে উহ্য রাখা হয়। অভিভাবকগণ বইমেলা ছাড়া বই কেনেন না, বিভিন্ন উৎসবে বই উপহার দেন না, নিজেরা বই পড়েন না। সন্তান শৈশব থেকে বড় হবার সময়কালে কখনও পিতা-মাতা, আত্মীয় স্বজন, বয়স্ক আপনজন কাউকে বই পড়তে দেখে না। বই নিয়ে কোথাও কোন আলোচনা নেই। পাড়ার মোড়, চায়ের দোকান, পানের দোকান কোথাও কেউ বই নিয়ে গল্প করে না। রাস্তায়, কর্মস্থলে, আড্ডাখানায় কখনও নতুন বই, বইয়ের বিষয় বা শিল্পমান এমনকি প্রচ্ছদ নিয়েও কোনরকম উত্তেজনা নেই। অনেকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈশ্বিক নানারকম সমস্যার অজুহাত টানবেন। কিন্তু এইসব সমস্যা তো অন্য কোন কাজে বাধা দিচ্ছে না, নিরুৎসাহিত করছে না। বর্তমানের বাংলাদেশী সমাজে বই পড়া কোন কাজ নয়। বই না পড়া কোন অসম্পূর্ণতা নয়। নতুন বিষয়ে আগ্রহ অনাবশ্যক আবেগ মাত্র। এরকম বইবিমুখ সামাজিক বাস্তবতার দায় তরুণদের নয়, সম্পূর্ণরূপে অভিভাবকগণের। 

আমি দেখেছি আমার শিক্ষার্থীরা বই পড়তে চায়। নতুন বইয়ের বর্ণ-গন্ধ তাদেরকে আলোড়িত করে। কিন্তু সমাজে এর সুযোগ কম। আমরা পাড়ায় পাড়ায় দেশী-বিদেশী, বৈধ-অবৈধ টাকায় নানারকম দৃষ্টিনন্দন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে যতোটা উৎসাহী, একটি পাঠাগার তৈরিতে ততোটাই নিরুৎসাহী। আমাদের রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বাজার, পার্ক, রাস্তার মোড়, নদীর পাড় কোথাও কোন পাঠাগার নেই। বইয়ের সাথে আমাদের কোথাও কোনরকম সংশ্রব নেই। এরকম বইবিদ্বেষী সমাজে তরুণ প্রজন্ম বইপ্রেমী হবে না, সেটাই তো স্বাভাবিক। এর জন্য তাদেরকে দোষ দেয়া সম্পূর্ণভাবে নিজের দোষ ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র।

আমি আমার শিক্ষার্থীদের কাছে বইকে নিয়ে যেতে চাই। পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার তৈরির সামর্থ আমার নেই। ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার দেশের ইউনিয়ন বা গ্রাম পর্যায়ে যায় না; সম্ভবও না। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমি শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি যেতে পারি। নিরিবিলি কোন একান্ত সময়ে ওদেরকে জানাতে পারি আকর্ষণীয় একটি বইয়ের কথা। আর এজন্য ওয়েবসাইটের কোন বিকল্প নেই। একজন আগ্রহী পাঠক দেশবিদেশের যে কোন জায়গায়, যে কোন সময়ে, যে কোন অবস্থানে থেকে, নিজের পড়ার চেয়ারে বসে, বিছানায় শুয়ে 'গ্রন্থগত' ওয়েবসাইট ভ্রমণ করতে পারবে। জেনে নিতে পারবে তার পছন্দের বিষয়ের কোন বই সম্পর্কে।

আমি দেখেছি বাংলাদেশে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোতে বইয়ের আলোচনা থাকে সবার শেষে, বা এক কোণে। অর্থাৎ বইয়ের আলোচনা প্রসঙ্গ হিসেবে প্রাধান্য পাবার উপযোগী নয়। এই মনোভঙ্গীর বিপরীতে আমার অবস্থান। আমি মনে করি বই নিজেই প্রসঙ্গ হিসেবে প্রাধান্য পাবার যোগ্য। প্রধান আলোচ্য হিসেবে বই বিবেচিত হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ উপায়ে বইয়ের কথা বলা এবং প্রধান আলোচ্য হিসেবে বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যে 'গ্রন্থগত' ওয়েবসাইটের জন্ম। এখানে আমি বিভিন্ন রকমের-বিষয়ের-প্রসঙ্গের বইয়ের আলোচনা করি। সংক্ষেপে বইটির বিবরণ পাঠকের সামনে উপস্থাপন করি। আমার প্রত্যাশা এই বর্ণনা পাঠককে বইটির প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। সে সম্পূর্ণ বইটি পড়তে চাইবে।

আমি মনে করি এক বইমেলাতে যত ভাল বই বের হয়, তার পরিমাণ সারা বছর সান্নিধ্য দেবার মত। একজন উৎসাহী বিদগ্ধ পাঠক হয়তো সব বই পড়তে চাইবেন। কিন্তু এগুলোর খবর সারা বৎসর সহজলভ্য নয়। বইপ্রেমী পাঠক 'গ্রন্থগত' থেকে এসবের খোঁজ পেতে পারেন। কৌতুহলী পাঠক বইয়ের কিয়দংশ পাঠ করে মূল বই সংগ্রহে উৎসাহী হতে পারেন। সন্তানপ্রেমী অভিভাবক 'গ্রন্থগত' থেকে শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের কথা জেনে, সন্তানের হাতে সেই বই তুলে দিতে পারেন। এইসব কল্পনা এখন আর অবান্তর নয়।

নূর মোহাম্মদ কলিম :  গ্রন্থগত ওয়েবসাইটটির কাজ কীভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন? পাঠকদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

সুশান্ত বর্মন : অনেককে পাশে পাচ্ছি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে বই রিভিউ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আমি নিজেও লিখছি। সব মিলে বই সমালোচনা প্রকাশের কাজ অর্থাৎ গ্রন্থগত ওয়েবসাইটের কাজ বেশ সাবলীল গতিতে চলছে।কোন সমস্যা হচ্ছে না। ধীরে ধীরে চলছে। লেখা তো আর নিয়মিত প্রকাশ হয় না। গ্রন্থগত তো আর কোন পত্রিকা নয়।

পাঠকদের ভাল সাড়া পাচ্ছি। 'গ্রন্থগত' ওয়েবসাইটে দিন দিন ভিজিটর বাড়ছে। বাংলা ভাষাভাষী শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বই পড়তে চান, তারা নেটে পছন্দের বই খোঁজেন। অনেকে বিভিন্ন বই সম্পর্কে জানতে চেয়ে ফোন করেন, মেইল করেন। এসব আমার ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তরুণ প্রজন্ম বইপ্রেমী নয়- এমন ধারণা ভুল। আমরা প্রবীণগণ, অভিভাবকগণ নিজেদের ব্যর্থতার দায় তরুণদের ঘাড়ে চাপিয়ে ভারমুক্ত থাকতে চাই। আমরা নিজেরা বই পড়ি না, তাই বলে তরুণদের বই পড়ার আগ্রহ নেই- ঘটনা তা নয়। আমার 'গ্রন্থগত' ওয়েবসাইটের ভিজিটর বৃদ্ধি এ কথারই প্রমাণ করে।