জেনিফার ডাউডনা

জেদ এমন এক গুণ যা আমাকে বিজ্ঞানের জগতে অনেক কিছু করতে সাহায্য করেছে জেনিফার ডাউডনা


[জেনিফার ডাউডনা। রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ। জন্ম ১৯৬৪ সালে  যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে।  তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধারে আণবিক জীববিজ্ঞান, কোষ জীববিজ্ঞান ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি হাওয়ার্ড হিউস মেডিকেল ইনস্টিটিউটে গবেষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এছাড়াও তিনি ইনোভেটিভ জিনোমিক্স ইন্স্টিটিউটের পরিচালক, জৈবচিকিৎসা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের লি কা শিং চ্যান্সেলর অধ্যাপক এবং ইউসি বার্কলির জীববিজ্ঞানের উপদেষ্টা মণ্ডলীর পদে আসীন। তার পিতা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। মাতা শিক্ষায় স্নাতোকত্তর সম্পন্ন করে গৃহিনী ছিলেন। ৭ বছর বয়সে পিতার থিসিসের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তারা মিশিগান থেকে হাওয়াইয়ে স্থানান্তরিত হন। ডাউডনা অল্প বয়সে জনপ্রিয় বিজ্ঞানে বই দ্বারা প্রভাবিত হন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন অবস্থায় জেমস ওয়াটসন রচিত ‘দ্য ডাবল হেলিক্স’ বইটা তার চিন্তায় বিশাল প্রভাব ফেলে। একদিন বাবা বইটা ডাউডনার হাতে তুলে দিলেন। ডিএনএ গবেষণার অগ্রদূত জেমস ওয়াটসনের করা এই ডাবল হেলিক্স-এর ছবিটিই ঘুরিয়ে দেয় জেনিফারের জীবনের মোড়। এছাড়াও উচ্চবিদ্যালয়ের রসায়ন শিক্ষিকা মিস ওং এর প্রভাবও  তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছেন। ডাউডনা ক্যালিফোর্নিয়া পমোনা কলেজে জৈবরসায়নে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হন। এই সময় নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সন্দেহ হলে তার ফরাসী শিক্ষক তাকে বিজ্ঞান নিয়েই লেগে থাকতে অনুপ্রাণিত করেন।  ফ্রেড গ্রিমান এবং করউইন হানশ—দুই রসায়ন অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ডাউডনাকে প্রভাবিত করেন। ১৯৮৫ সালে পমোনা কলেজ থেকে জৈব রসায়নে স্নাতক শেষ করে  ১৯৮৯ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে জীববৈজ্ঞানিক রসায়ন ও আণবিক ঔষধবিদ্যায় পিএইচডি সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি একেবারে শুরুর দিককার আরএনএ গবেষণায় অবদান রাখেন। সেলফ-রেপ্লিকেটিং ক্যাটালাইটিক আরএনএ এর নকশা নিয়ে তিনি জ্যাক সজটাকের অধীনে পিএইচডিতে কাজ করেছেন। তবে ক্রিসপার বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী হিসেবেই মূলত ডাউডনা সুপরিচিত। তিনি ক্রিসপার দ্বারা জিন সম্পাদনার মৌলিক কাজে জড়িত ছিলেন এবং এর উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। ২০১১ সালে ডাউডনা এবং ইমানুয়েল শারপেঁতিয়ের সর্বপ্রথম ব্যাক্টেরিয়ার ব্যবহৃত এনজাইম ক্রিসপার/ক্যাস৯ যে মনুষ্য নকশাকৃত জিন সম্পাদনায় ব্যবহার করা যেতে পারে, সে ব্যাপারে প্রস্তাবনা রাখেন। এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বৈপ্লবিক আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃত। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে মৌলিক প্রোটিন, কোষবিদ্যা, উদ্ভিদ ও প্রাণীর রোগের চিকিৎসায় ক্রিসপার/ক্যাস৯ প্রযুক্তি ব্যবহারে একাধিক গবেষকদল গবেষণারত আছেন। ২০১২ সালে ডাউডনা ও তার সহকর্মীরা ডিএনএর জিনোম সম্পাদনার এক নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। এই প্রযুক্তির ব্যবহারে সময় ও শ্রম দুটোই নাটকীয়ভাবে কমে আসে। তাদের এই আবিষ্কার ক্যাস৯ নামক এক প্রোটিনের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে যা স্ট্রেপোকক্কাস ব্যাক্টেরিয়ার ‘ক্রিসপার’ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় উপলব্ধ্য। এই প্রোটিন কাঁচির মতো আক্রমণকারী ভাইরাসের ডিএনএ ব্যাক্টেরিয়ার ডিএনএ থেকে কেটে ফেলতে সক্ষম। ডাউডনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারের হল, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস একটি অপ্রচলিত নিয়মে ভাইরাস আক্রান্ত প্রোটন সংশ্লেষণে সক্ষম। তার এই আবিষ্কার শরীরের কোন কোষের ক্ষতি না করেই নতুন ধরনের ঔষধ আবিষ্কারে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২০২০ সালে ক্রিসপার প্রযুক্তি আবিষ্কারে সহকর্মী ইমানুয়েল শারপেঁতিয়ের সঙ্গে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পদক লাভ করেন। জিনম এডিটিংয়ের জন্য নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য তাঁদেরকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর এডিটর ইন চিফ সুসান গোল্ডবার্গ ২০১৯ সালে ডাউডনা’র এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার নেন ‘উইমেন: দ্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইমেজ কালেকশন-এর জন্য। সেই সাক্ষাৎকারের পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওয়েবসাইটে। সেখান থেকেই সাক্ষাৎকারটি কথাবলির জন্যে অনুবাদ করেছেন অপূর্ব জামান।]

 

সুসান গোল্ডবার্গ: সরাসরি গভীরে ডুব দেওয়া যাক, জানতে চাই: আপনি কি নিজেকে নারীবাদী মনে করেন?

জেনিফার ডাউডনা: ভালো প্রশ্ন। আমি বলব, আমি একজন বিকাশমান নারীবাদী। কারণটাও আপনাকে বলছি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি খুব প্রবল ভাবে চাইতাম যাতে কেউ আমাকে “নারী বিজ্ঞানী” হিসেবে না দেখে, বরং যেন স্রেফ একজন বিজ্ঞানী হিসেবে দেখে, লিঙ্গ-নিরপেক্ষ। আমি হয়ে উঠতে চেয়েছিলাম একজন পেশাজীবী যে কিনা আমি যে কাজ করছিলাম তাতেই নিবেদিত, কিন্তু লিঙ্গের কারণে সে কোনো সুবিধা পায় না বা অসুবিধার সম্মুখীন হয় না। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অন্তর্গত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ব্যাপারে অনেকেরই এই অনুভূতি হয় বলে আমি মনে করি। জন্মসূত্রে নিয়তির বিধান হিসেবে পাওয়া কোনো বিশেষ পরিচয় যার ওপর ব্যক্তির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন কিছুর চাইতে বরং ব্যক্তি হিসেবে তাদের মৌলিক পরিচয় যা, এবং তাদের যা অবদান তা দিয়েই তারা মূল্যায়িত হতে চায়। তাই ব্যাপারটি আমার জন্য বাস্তব ছিল, সম্ভবত যখন আমার বয়স ৪০-এর কোঠায়। কিন্তু গত প্রায় এক দশক ধরে এ ধরনের পক্ষপাতমূলক ব্যাপার আমার খুব কাছেই ঘটতে দেখেছি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি অনিচ্ছাকৃত, কিন্তু আমি নারীর বিরুদ্ধে পক্ষপাত দেখতে পাই। এর ফলে আমি আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠি এবং বুঝতে পারি, মেয়েরা যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে মেয়েদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, এবং যে ভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মেয়েদেরকে দেখা হয়, বিশেষ করে তাদের পেশাদার ভূমিকায়, সেগুলির ব্যাপারে খুব বেশি সরব হওয়া দরকার। এই ইস্যুগুলিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার। নিশ্চিত করা দরকার, নারীরা যাতে সমাজে তাদের অবদান রাখতে পারে এমন পন্থায় যেটিকে তারা নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে—হতে পারে মা হওয়ার মধ্য দিয়ে, বা পেশাদার কোনো কাজে নিয়োজিত হওয়ার মাধ্যমে, অথবা দুটোর সমন্বয়ের মাধ্যমে।

সুসান গোল্ডবার্গ: আগামী দশ বছরে নারীদের জন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি হওয়া জরুরী বলে মনে করেন?

জেনিফার ডাউডনা: হুম, কী বলব? এখানে অনেক ধরনের ক্লিশে প্রচলিত রয়েছে, যেমন, শিশুর উন্নততর যত্নের ব্যবস্থা করা অথবা একই ধরনের কাজের জন্য একই পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি অর্জন। আমি মনে করি যে বিষয়টি আসলেই দরকার তা হল এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া যাতে নারীরা অনুভব করে যে পেশাদার জীবনের সকল ক্ষেত্রে তারা স্বাগত। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য, বোর্ডরুম, নেতৃত্বদান, এবং আমার মতো একাডেমিক কাজ, সব ক্ষেত্রেই এটা দরকার। এ মুহূর্তে আমরা জনগণের বিশাল এক অংশকে এখান থেকে বাদ দিচ্ছি কারণ তাঁরা নিজেদেরকে অবদান রাখার যোগ্য মনে করেন না অথবা সাদরে গৃহীত হন না। তাই এই সমস্ত উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে নারীদের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা থেকে যাচ্ছে। একটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে আমার অধীনে কর্মরত নারীদের মধ্যে আমি প্রায়ই দেখি যে তারা নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দিহান। জানি না ব্যাপারটা সাংস্কৃতিক কিনা, তবে আমি মনে করি সাধরণত নিজের সক্ষমতা নিয়ে ছেলেদের চাইতে মেয়েরাই বেশি সন্দেহ পোষণ করে--হোক তা তাদের কোর্সে সফল হওয়ার ব্যাপারে, কিংবা ফেলোশিপের আবেদনে সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে, বা কোনো চাকরি, প্রমশনের ব্যাপারে, কর্পোরেট আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্বদানের ব্যাপারে।

সুসান গোল্ডবার্গ:  এ কথা সত্য। একদিন এক তরুণী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “ইম্পোস্টার সিন্ড্রমে ভুগতে থাকলে তখন আপনি কি করেন?” (মনোবিজ্ঞানীরা ১৯৭০-এর দশকে এই টার্মটি ব্যবহার শুরু করেন। যারা নিজেদের মেধা নিয়ে সন্দিহান, অথবা নিজেদেরকে প্রতারক ভেবে ভয় পান, অথচ তাদের কর্মকাণ্ড ভিন্ন কথা বলে, তাদের ক্ষেত্রে এই টার্মটি প্রযোজ্য।) আমি তাকে বলেছিলাম, আচ্ছা, আমি এর মধ্য দিয়ে লাঙলের ফলার মতো এগিয়ে যেতে চাই, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করি, যা করার তা করে যাই। কিন্তু আপনি কদাচিৎ কোনো পুরুষ মানুষকে এমন কথা বলতে শুনবেন।

জেনিফার ডাউডনা: ঠিক তাই। এ কারণেই যে কোনো উপায়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

সুসান গোল্ডবার্গ: একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। কোন ঐতিহাসিক চরিত্রের সঙ্গে সবচাইতে বেশি একাত্মতা বোধ করেন?

জেনিফার ডাউডনা: সম্ভবত ডরোথি হজকিন (ব্রিটিশ রসায়নবিদ, যিনি এক্স-রে ব্যবহার করে পেনিসিলিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জৈবরাসায়নিক বস্তুর কাঠামো আবিষ্কার করার জন্য ১৯৬৪ নালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন)। কয়েক বছর আগে আমি তাঁর জীবনী পড়েছিলাম। তাঁর পেশায় একজন নারী হিসেবে তিনি যেভাবে সব রকমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন তা সত্যিই আমাকে আলোড়িত করে। তাঁর একটি পরিবার ছিল, কিন্তু কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। কল্পনা করুন, ব্যাপারটি কতটা চ্যালেঞ্জিং। ভেবে দেখুন তিনি কি পরিমাণ উদ্যমী ছিলেন—তিনি সেরা হতে চেয়েছেন এবং সত্যিকার অর্থে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের কাজটি করতে চেয়েছেন, কিন্তু একই সঙ্গে তিনি একজন দায়িত্বশীল মা এবং স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে চেয়েছেন। ব্যাপারটি আমাকে সত্যিই প্রভাবিত করে।

সুসান গোল্ডবার্গ: জীবীত ব্যক্তিদের মধ্যে কার কথা বলবেন?

জেনিফার ডাউডনা: সম্ভবত মিশেল ওবামা। তাঁকে যতটুকু দেখেছি এবং তাঁর সম্পর্কে যতটুকু পড়েছি তাতে আমার তাকে অসাধারণ মনে হয়। তিনি স্রেফ সবচাইতে সম্মানিত নারী—অসম্ভব স্মার্ট, পেশাদারিত্বের দিক থেকে খুবই পরিপূর্ণ, স্ত্রী ও মা হিসেবে অসাধারণ। যে উৎকৃষ্টতাকে তিনি ধারণ করেন তা আমি নিজের মধ্যে প্রবল ভাবে কামনা করি।

সুসান গোল্ডবার্গ:  আপনি দ্বিতীয় জন যে আমাকে এই কথা বলেছে।

জেনিফার ডাউডনা: আমি অবাক হচ্ছি না।

সুসান গোল্ডবার্গ:  আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত কোনটি?

জেনিফার ডাউডনা: আপনি যদি সেই মুহূর্তের কথা জানতে চেয়ে থাকেন যা পেশাদার বিজ্ঞানী হিসেবে আমি যা করেছি তার কক্ষপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাহলে আমি বলব হারভার্ডে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের শুরুর সময়টার কথা। আমি হাওয়াইয়ের এক ছোট্ট শহর থেকে এসেছিলাম, এক পাবলিক স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্রী। হারভার্ড মেডিক্যেল স্কুলের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে নিজেকে আবিষ্কার করে আমি অনেকটা বিস্মিতই হয়েছিলাম। তখন আমার আশপাশে ছিল অনেক স্মার্ট লোকজন। এমন পরিবেশে নিজেকে সফল করে তোলার সক্ষমতা নিয়ে আমি বিশেষ আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। এক অসাধারণ বিকেলে আমার উপদেষ্টা নোবেল লরিয়েট জ্যাক জোস্টাক আমার কাছে এসে একটি পরীক্ষা নিয়ে আমার মতামত জানতে চাইলেন। কল্পনা করতে পারেন, একজন গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীর কাছে জানতে চাইছেন এমন একজন যাঁর অবস্থান সাফল্য ও সক্ষমতার দিক থেকে আলোকবর্ষ দূরে। তিনি একটি ধারণার ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চাইছেন? এতে আমি উপলব্ধি করতে পারলাম যে আমার মতামতের মূল্য আছে; তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, তাই হয়তো আমারও নিজের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

সুসান গোল্ডবার্গ: কোন বিষয়টিকে আপনি আপনার সবচাইতে বড় শক্তি মনে করেন?

জেনিফার ডাউডনা: ওহ, সম্ভবত আমার জেদ। আমার মাথায় কোনো আইডিয়া আসলে আমি নাছোড় বান্দার মতো লেগে থাকি। এর কারণে সম্ভবত আমি অনেক সময় কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু আমি মনে করি জেদ এমন এক গুণ যা আমাকে বিজ্ঞানের জগতে অনেক কিছু করতে সাহায্য করেছে।

সুসান গোল্ডবার্গ: কোনটি ছিল আপনার জন্য সবচাইতে বড় বাধা যা আপনি অতিক্রম করে এসেছেন?

জেনিফার ডাউডনা: স্রেফ সন্দেহ যা বিভিন্ন সময় আমাকে পেয়ে বসেছিল। ভেবেছি, “আমার কি আসলেই একজন জৈবরসায়নবিদ হয়ে ওঠার এবং সফল বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার যোগ্যতা আছে?” আমার সংজ্ঞায় সাফল্য বলতে আর্থিক পুরস্কার লাভের সাফল্য অথবা এমনকি পেশাদার স্বীকৃতি অর্জনের সফল্যকে বোঝায় না। এটি আরও বেশি কিছু, এটি এমন এক পর্যায় যেখানে প্রশ্ন আসে, ‘আমি কি সত্যিই বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এমন কিছু করতে পারি যা নিয়ে আমি গর্ব করতে পারব? এবং আমি কি অনুভব করতে পারি যে আমি আমার জীবনে সঠিক পথ বেছে নিয়েছি? সত্যিই কি আমি এমন কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা আমি আসলেই ভালো করতে পারি?’ তরুণ বয়সে অনেক বার আমি ভেবেছি যে প্রশ্নগুলির উত্তর হবে ‘না’, আমি হয়তো ভুল পথে আছি। এবং আবারও আমার জেদ বড় ভূমিকা রাখল, কারণ আমি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই। আমার মাথার মধ্যে একটি কণ্ঠস্বর আছে যা আমি যা করছি তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, কিন্তু অন্যদিকে আরেকটি কন্ঠস্বর আছে যা বলে, ‘কিন্তু তুমি পালিয়ে যাচ্ছ না’। আমি জেদ বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাব কারণ আমি মনে করি, এটাই সঠিক কাজ। আমি মনে করি, একটা পর্যায়ে, আমরা সকলেই এই সন্দেহগুলির মুখোমুখি হই এবং এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বের করে নিই।

সুসান গোল্ডবার্গ: আজকের তরুণ নারীদের প্রতি আপনি কি পরামর্শ দেবেন?

জেনিফার ডাউডনা: প্রথমত, এমনভাবে একটি ঘরে প্রবেশ কর যেন জায়গাটা তোমার অধিকারে। একজন পুরুষ মানুষ তাই করে, কোনো ধরনের অনুশোচনা ছাড়া। অন্য আর যে জিনিসটি আমি তাদেরকে করতে বলব সেটি হল বিজ্ঞতার সঙ্গে জীবন-সঙ্গী বেছে নেওয়া। এমন কাউকে জীবনে সঙ্গী হিসেবে বেছে নাও যে তোমার প্রতি—সন্তানদের ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্তের প্রতি, তোমার ক্যারিয়ারের ব্যাপারে, তোমার জীবনধারার প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে—সম্ভাবনার সম্পূর্ণটুকু অর্জন করার জন্য নারীকে সক্ষম করে তোলার দীর্ঘ পথ যে পাড়ি দেবে।