‌কৌস্তুভ শ্রী

কবিতা খুব অপ্রয়োজনীয় জিনিস। তবে যার প্রয়োজন হয়, তার একেবারে জীবন বাঁচাতেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে ‌কৌস্তুভ শ্রী


[‌কৌস্তুভ শ্রী। মূলত কবি। গান করেন, ছবি আঁকেন। পেশায় স্থপতি। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯১, রাজশাহী।  প্রথম বই কবিতার বের হয় ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায়। নাম ‘মহাপ্রয়াণ সড়ক’। ২০২০ সালের বইমেলায় তার দ্বিতীয় কবিতার বই প্রকাশ হবে, নাম 'নদীর নামের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই'। এই প্রকাশিতব্য বইটির সূত্র ধরে কথাবলির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কবিতা, গান, ছবি, জীবন, মৃত্যু-সহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।]

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : 'নদীর নামের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই' এমন সুন্দর একটি নাম মাথায় কখন এলো? প্রকাশিতব্য এই কবিতার বইটিতে 'নদীর নামের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই' এই নামে কি কোনো কবিতা আছে?

কৌস্তুভ শ্রী : আমাকে নদী খুব টানে। জল খুব টানে। পৃথিবীতে আসার আগে মায়ের জঠরে যখন পানিতে ছিলাম, সেই সময়ের কিছু আমার মনে পড়ে না। তবে আমার মনে হয়, আমি যখন ফিরে যেতে চাই, লুকিয়ে যেতে চাই, ঘুমিয়ে যেতে চাই, ভালোবাসা পেতে চাই, মমতা পেতে চাই, তখন আমার মায়ের পেটের সেই পানির থলির কথা মনে পড়ে, আর মনে হয়, সেখানে যেই 'আমি'টা ছিল, তার সঙ্গে আমার দেখা হতো যদি! সেই আশায় আমি তাকে চিঠি লিখি। আমাকে নিয়ে যাবার কথা বলি। এই পৃথিবীর কথা তাকে জানাই। আমার মনে হয় আমি আর সে, এই দুই নদীর দেখা হবে একদিন, মায়ের জঠরের সেই পানির থলির সাগরে আমরা গিয়ে মিলিত হবো একদিন। এই জীবনের শেষে। এই জীবন থেকে নিয়ে যাব শুধু আমাদের নাম। কারণ পৃথিবীতে নদীর নামের নামের চেয়ে সুন্দর কিছু ছিল না।

নির্ঝর : প্রকাশিতব্য এই বইটিতে 'নদীর নামের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই' এই নামে কি কোনো কবিতা আছে?

শ্রী : বইটা মূলত চিঠির সিরিজ। যেই বোধের কথা বললাম, নামটা ওটার নির্যাস। এই নামে কোনো কবিতা নেই।

নির্ঝর : আপনি তো ছবিও আঁকেন। নিয়মিতিই কি আঁকেন? নাকি কখনো-সখনো?

শ্রী : আমি ছবি আঁকি কখনো সখনো। ছোটবেলায় জলরং ভালো লাগতো। এখনো তাই। তবে তখন ভালো লাগার কারণ জানতাম না। এখন জানি। জলরং এর একটা অনিশ্চয়তা আছে। এর প্রতিটা স্ট্রোকের একটা নিজস্ব গতিপথ আছে, সেই গতিপথ নির্ধারন করে দেয় পরের স্ট্রোক টা কেমন হবে। আমি যখন রং দিচ্ছি, আমি নিজেও জানি না এটা ঠিক কেমন দেখাবে, ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে। কোন রঙের সঙ্গে গিয়ে মিশবে। আমার মনে হয় এটা আমার সঙ্গে কথা বলে। আর আপনি যদি কথা বলার একটা সঙ্গী পান, তার কাছে আপনি যেতে চাইবেন। আমিও তাই ছাড়তে পারি না। চাইও না।

‌নির্ঝর : ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখেন, নাকি হঠাৎ লিখতে শুরু করেছেন?

‌শ্রী : হুট করেই তো সব হয়। আমিও হুট করেই আবিষ্কার করেছি যে আমি কবিতা লিখছি। আমি আসলে এমন একটা পরিবেশে বড় হয়েছি যেখানে আমার বাবার কন্ঠে কবিতা আবহ সংগীত হয়ে বাজতো। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমিও কবিতা পড়তাম। তখন এটাই স্বাভাবিক মনে হতো। ভালো লাগা মন্দ লাগা ছিল না। একটু বড় হয়ে একদিন বাবার কণ্ঠে জীবনানন্দ শুনে দেখি গলার কাছে হৃদপিণ্ড উঠে এসেছে আমার। সেদিন বুঝলাম আমি কবিতার কাছে বাঁধা পড়ে গেছি। এ ছাড়া আমার চলবে না। আরো পরে যখন নিজের ভেতরে যা হয়, সেকথা বলতে  চাইলাম, দেখলাম আমি কবিতা লিখছি।

‌নির্ঝর : হ্যাঁ, হুট করেও অনেক কিছু হতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে। আবার শৈশব থেকেও পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে হয়। সে যাই হোক। আপনার প্রিয় কবি কে? আপনার উপর তার প্রভাব কেমন?

‌শ্রী : আমার প্রিয় কবি নির্মল হালদার। আমার উপর তাঁর বা অন্যকারো প্রভাব নেই।

নির্ঝর : নির্মল হালদারের কবিতা কেনো ভালো লাগে?

শ্রী : স্বগতোক্তি। নির্মলের কবিতা পড়লে মনে হয় না কেউ জ্বালাময়ী ভাষণ দিচ্ছে। মনে হয় না কেউ সবাইকে কিছু জানাতে চাচ্ছে। খুব নিবিড়, একান্ত মনে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাপারটা পছন্দ করি। অর্থাৎ কবিতা যখন নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া, যে পড়ছে, সে যেন একান্ত কথা শুনে ফেললো। কিন্তু শুনে ফেলল, কারণ আমি তাকে সে অধিকার দিলাম। অধিকার দিলাম আমাকে বোঝার, সহমর্মী হবার এবং তার নিজের কথা আমাকে বলার। প্রতিষ্ঠার মুখে লাথি মারার কথাও যখন নির্মল বলেন, সেটা থেকে লাথি মারার শব্দটা আসে না। শব্দ আসে তার ভেতরের হাহাকারের। আমার মনে হয়, এই হাহাকারের শব্দ যে সত্যিই শুনলো, সে তো দুখি হলো। সাধারণ লোকের মতো দুখি৷ এইতো চাই।

‌নির্ঝর : সুখ আর শান্তির মধ্যে পার্থক্য কী?

‌শ্রী : শান্তি দিয়ে নিজস্ব সত্যের খোঁজ পাওয়া যায়। যেই স্থান, যেই সময়, যেই মানুষ, যেই কাজ আমাকে শান্তি দিয়েছে, শুধু সেইসব আমার জীবনের সত্য। যেমন সেসব কবিতা এবং মানুষ আমাকে টানে যার কাছে গেলে জলের স্রোতের মতো শব্দ পাই। অর্থাৎ সরল, স্নিগ্ধ এবং তেজি। আর সুখ কী তা আমি জানি না। এ ছাড়াই দিব্যি চলে যাচ্ছে।

‌নির্ঝর : আপনার কবিতা পড়ে মনে হয় আপনার মধ্যে অস্তিত্বের  যন্ত্রণা প্রবল। তো অস্তিত্বের যন্ত্রণার সঙ্গে আপনি কেমন করে বোঝাপড়া করেন?

‌শ্রী : আমি আগেই বলেছি যে আমি ফিরে যেতে চাই প্রায়ই। তবে সেটা না থাকা নয়। থাকা, কিন্তু অন্যভাবে। তাই এই পৃথিবীর শেষে আরেকটা পৃথিবীকে দেখি। হয়তো সেটার কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু কিছু চাওয়াটা কিন্তু সেটার একটা আকার দেয়। ওইটুকু দেখতে পারাটাই আমার কবিতা। সকলেই বাঁচার চেষ্টা করে। কবিতা আমার বর্মের মতো। কবিতা আমার আত্মরক্ষার বিষের মতো।

‌নির্ঝর : হ্যাঁ, কবিতা আসলেই এক প্রকার আত্মরক্ষার কৌশল। এই কথা একদিন আমাকে কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছিলেন। এইবার বলেন কবিতার চিরন্তনতা বিষয়ে আপনার মত কী?

‌শ্রী : কবিতা বা যে-কোনো শিল্প মাধ্যমের কাজই চিরন্তন হতে পারে। না হলেও ক্ষতি নেই। তবে, যাকে আমরা মহৎ বলি, তা-ই টিকে থাকে। আর যে-কোনো মহৎই সরল। সরলতা হলো একটা গভীর জলাধারের মতো। তল পাওয়া যায় না। অথচ ডুব দিলে শান্তি লাগে।

‌নির্ঝর : আপনার কাছে সুন্দরের সংজ্ঞা কী?

শ্রী : সুন্দর আমার কাছে দৈব কিছু। কবিতাও তাই। এর কোনো ব্যাখ্যা থাকে না।

‌নির্ঝর : আপনি কি ফেমিনিস্ট কোনো ভাবে?

‌শ্রী : আমি অবশ্যই ফেমিনিস্ট, কারণ আমি আজ নারী হিসেবে যেটুকু জীবন উপভোগ করছি তার পেছনে চুপ করে না থাকা নারীদের বিপ্লবের ইতিহাস আছে। আমি সেটা অস্বীকার করতে পারি না। এবং আমার পরে যে-সকল নারী আসবে, তাদের জীবন যেন আমার চেয়েও উপভোগ্য হয়, সেজন্য আমিও চুপ করে থাকি না।

‌নির্ঝর : আপনার সময়ের কবিদের কবিতায় প্রেম ও যৌনতা কীভাবে আসা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

‌শ্রী : কবিতা খুব অপ্রয়োজনীয় জিনিস। তবে যার প্রয়োজন হয়, তার একেবারে জীবন বাঁচাতেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে৷ এটা ভাস্কর্যের মতো না। এটা অনেকটা চাকা ঘুরিয়ে মাটির পাত্রকে আকার দেবার মতো। এটা আপনার হাতে থাকলেও এর নিজস্ব গতিপথ আছে। নিজস্ব আকার নেয়ার ক্ষমতা আছে। তাই আপনাকে এক্ষেত্রে শিথিল হতে হবে। এখানে উচিত অনুচিতের কাঠামো আনতে আমি রাজি না। তবে একটা কথা বলব, সেটা হলো আমার যে বোধ, সেটার প্রতি যদি আমি সৎ থাকি, সেটুকু যদি আমার নাগালের সব থেকে সুন্দরতম উপায়ে প্রকাশ করে যাই, বাগাড়ম্বর না করে; তাহলে নতুন ভাষা আসে। সেটা আমি প্রেম, যৌনতা, অস্তিত্ব, মৃত্যু, যে কথাই বলতে চাই না কেন৷ নিজস্ব এবং অভূতপূর্ব ভাষা নিয়েই তো নতুন কবি আসেন।

‌নির্ঝর : ফিকশন লেখার বিষয়ে কী ভাবেন?

‌শ্রী : আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে কবিতাই আমার শেষ গন্তব্য। আমি যা বলতে চাই, কবিতাতেই আমি তা বলতে পারি। ফিকশন বা গদ্য কবির নিজের জন্য জরুরি হলেও হতে পারে। এটা আমার কাছে শান্তি পাবার মতো কোনো ব্যাপার নয়। তবে কবির জন্য নিজের জীবনযাপনটাই তার শ্রম। গদ্যের জন্য আরো কিছু শ্রমের প্রয়োজন আছে। আমার কাছে এখনো সেটা কঠিন বলে মনে হয়। কিছুটা সহজ হয়ে আসলে লিখব বা প্রকাশ করব। সেটা বেশ কিছু কাল বেঁচে থাকলে জীবনের শেষ দিনগুলোর দিকেও হতে পারে। অথবা আগামীকালও হতে পারে।

‌নির্ঝর : আমার কাছে মনে হয় কবিতার কোনো সীমা, বাউন্ডারি থাকা উচিত নয়। আপনার কী মনে হয়?

‌শ্রী : সীমা থাকলেই বা কী আর না থাকলেই বা কী। সীমার বাইরে লোকে যায় না? বাউন্ডারি থাকলে ভেতরে যাবার রাস্তাও থাকে। জানালা দরজা থাকে, কড়া নাড়া যায়। ভেতরে যাওয়া যায়, থেকে যাওয়া যায়, চলে আসা যায়। চুরি করে ঢোকা যায়, আবার দরজা ভেঙেও ফেলা যায়। আমার কবিতা যদি আমার কথা বলে, আমি তো একটা পৃথিবী। আমি কত কী বহন করছি; আমার সময়, আমার পূর্বপুরুষের সময়, আমার অজ্ঞাত দিন। আমার বাড়ি, আমার চারপাশের ছাদ। পথের ধুলো, পথের মানুষ। আকাশে ওড়া যুদ্ধের বিমান অথবা পাখির ছবি। পোষ্য বেড়ালের মৃত্যুর মতো অদ্ভুত ক্ষত। আমার মতো লোকেদের হাতে মেখে ভাত খাওয়ার অভ্যাস, টাই বেঁধে চাকরির খোঁজ। পুরো সময়, পুরো দেশ, পুরো পৃথিবী এঁটে যায় আমার মধ্যে। এর আর পাঁচিল কীসের। কেনই বা কেউ তুলবে। তবে আমার কাছে এর সীমার অন্য মানে আছে। যেটা আগেও বলেছি, আমার কবিতা আমার একান্ত কথা। এ কথা সে-ই শুনতে পেল, যাকে আমি অধিকার দিলাম এবং সেও আমাকে অধিকার দিল তাকে বলার। এটা আমার কাছে প্রথমবার লুকিয়ে কাউকে ঘরে ঢোকানোরমতো। এরপর হয়তো তার কাছে একটা আলাদা চাবিই রেখে দিই৷

‌নির্ঝর : আপনার একটা স্বপ্নের কথা বলেন। 

‌শ্রী : ঘুমালে দুঃস্বপ্ন দেখি। তাই বাস্তবটাই স্বপ্ন। বেঁচে থাকাটাই স্বপ্ন। মরে যাওয়াটাও। 

নির্ঝর : মরে যাওয়াটাকে কেন স্বপ্ন? বেঁচে থাকার স্বপ্নের কারণগুলি দৃশ্যমান। তাই বলাবাহুল্য। কিন্তু কেউ যখন বলে মরে যাওয়াটও তার স্বপ্ন তখন প্রশ্ন জাগে, কেন লোকটা মরে যেতে চায়, নিশ্চয়ই গভীরতর কোনো বেদনা তার ভিতরে আছে, এই যা।

শ্রী : কবির গভীর বেদনা থাকবে না? বেঁচে থাকাটা স্বপ্ন মনে হলে মরে যাওয়াটাও স্বপ্ন। কারণ দুটোই বাস্তব।তাছাড়া, যে মরে যেতে চাইলো, সে তো বেঁচে থাকতেই চেয়েছিল।

‌নির্ঝর : মৃত্যুকে কীভাবে দেখেন?

‌শ্রী : জীবন আমার কাছে মৃত্যুর উৎসব। আমি যেখানেই পা ফেলি, সেটাই তো কত লোকের লাশে মিশে যাওয়া মাটি; তার উপরে আমার যে ছোট্ট জীবন, তারও সেই একই গন্তব্য। কাজেই আমার জীবনের যতসবযজ্ঞ, মৃত্যুই তার উপলক্ষ্য। বেঁচে থাকার যে যাত্রা, তার পথের নাম মহাপ্রয়াণ সড়ক।

নির্ঝর : আপনি তো গানও করেন। আপনার গান করা, গানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বলেন।

‌শ্রী : গান ভালোবাসি কারণ আমি, আমার বাবা, আমার মা আমরা তিনজনই গান গাই। একটা সময় পর্যন্ত আমাদের বাসায় আসর বসতো, আমার ওস্তাদজী তালিম দিতেন, আমি গান গাইতাম, বাবা তানপুরা আর মা তবলা বাজাতেন। আমি শাস্ত্রীয় সংগীত গাইতাম। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের গানও গাইতাম। গানটা আমার কাছে একটা স্বস্তিদায়ক উপাদান। আমি মূলত খারাপ থাকলে গান গাই অথবা শুনি, অর্থাৎ স্বস্তি পাবার জন্য। সেই স্বস্তি যে শুধু শান্ত স্নিগ্ধ গানেই আসে, তা না। সবরকমই হতে পারে। তবে ওইযে বললাম, আমার কাছে সুন্দর হলো দৈব কিছু। তাই আমার কোন ধরণের গান ভালো লাগে, তা আমি বলতে পারব না। আমি আসলে জানিনা কীভাবে কোনটা ভালো লেগে যায়।

‌নির্ঝর : আপনার ক্ষেত্রে কবিতা আপনার করা জিডাইনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে?

শ্রী : আমার মনে হয় কবিতার সঙ্গে ছবির বেশি যোগাযোগ আছে। আবার চলচ্চিত্রের সঙ্গে গানের। স্থাপত্য আবার একটু তফাতে একা দাঁড়িয়ে। যেহেতু স্থাপত্যের মধ্যে আদতেই 'বাস করা' হয়। শেষ পর্যন্ত আমার দর্শনকে এবং নীতিকে একটা ব্যবহার উপযোগী শুধু নয়, বাসোপযোগী কিছুতে পরিণত করা। ফিজিক্যাল উপাদান দিয়ে আমার স্পিরিচুয়াল ভাবনার কাঠামো তৈরি করা পর্যন্ত যাত্রাটা কঠিন। এবং সবাইকে নিয়েই তার যাত্রা। যার ইচ্ছা উঁকি দিয়ে গেল, ঘরে ঢুকলো, তাকে আপন করে নিলাম, যে আসলো না, আসলো না; তা হয় না এখানে। এখানে গড়তে হয় এমনভাবে যেন সে আসে। তারা আসে। তবে, আমি বলেছিলাম যে প্রতিটা 'আমি' তো অনেক কিছু বহন করছে। আমি যা দেখেছি, যা দেখছি, যা দেখতে চেয়েছিলাম, সমস্ত কিছুই আমার ভেতরে আছে। আমি যা ই করি না কেন, সেই কাজে আমি থাকব। সেই থাকাটা কেমন, সেটা নিয়ে আমি ভাবতে বসিনা। আমি কাজে মন দিয়ে মনের কথা শুনে কাজ করতে চাই। 

‌নির্ঝর : আপনাকে যদি বলা হয় আপনি আমাকে একটা নদীর মতো বাড়ির ডিজাইন করে দেন, তবে আপনি সেটা কীভাবে করবেন, আপনি প্যাটার্ন ধরবেন, নাকি এসেন্স?

‌শ্রী : আপনার বাড়ি করার সময় আমি চাইব যে আপনি যেমনই হোন না কেন, আপনি যেন এখানে আসেন, এখানে বাস করেন। নদী বা পৃথিবীর যা ই বলিনা কেন, সকলেই আলাদা করে অধিকার করে। তাই আপনার নদী আর আমার নদী এক না। আমাকে জানতে হবে আপনার নদী কেমন। আমার নদীর গল্প আপনাকে চাইলে করতে পারি। দুটো নদী মিশে যেতে পারে। আবার নাও মিশতে পারে। তবে আপনার নদীর স্রোতই এখানে শক্তিশালী। এখানে প্যাটার্ন এবং এসেন্স দুটোই মিশবে।

নির্ঝর : আচ্ছা। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ শ্রী, কথাবলির সঙ্গে সুন্দর সব কথা বলার জন্যে।

শ্রী : আপনাকেও ধন্যবাদ, নির্ঝর।