ম্যাক্স টেগমার্ক

পারমাণবিক অস্ত্রের মতো কৃত্রিম অতিবুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই না ম্যাক্স টেগমার্ক


 

ম্যাক্স টেগমার্কে জিজ্ঞাসা করুন কেন মানুষকে তার নতুন বই পড়তে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আলোচনায় অংশ নিতে হবে এবং আপনি একটি অপ্রত্যাশিত উত্তর পাবেন। তিনি বলেন,  বই বিক্রি সম্পর্কে ভুলে যান, এটি মহাজগতের ভাগ্যের বিষয়। মহাবিশ্বের ভাগ্য হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের ছোট গ্রহে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে।

লাইফ 3.0 : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সময়ের মানুষ” তার সর্বশেষ বইতে টেগমার্ক  প্রথম ব্যাখ্যা করে কিভাবে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা একটি কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা এবং আমাদের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ তৈরির দিকে পরিচালিত করবে।

সাক্ষাৎকারটি spectrum.ieee.org এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, কথাবলির পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেন শিশির মোরশেদ

 

গত সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ইয়ান লিক্যান এর সাথে আপনার আলাপ হয়, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের একজন। লিক্যান বলেছিলেন যেহেতু আমরা এখনো জানি না কৃত্রিম অতিবুদ্ধিমত্তা কিরকম হবে তাই এখনই সেফটি মেকানিজম নিয়ে গবেষণা শুরু করাটা একটা অপরিণত সিদ্ধান্ত হবে। আপনি কেন দ্বিমত পোষণ করছেন?

ম্যাক্স টেগমার্ক: শুধুমাত্র কি ধরণের ভুল হতে পারে জানিনা দেখে আমরা ভাবনা থেকে বিরত থাকতে পারি না। এটাই সেফটি ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল কথা। আপনি আসন্ন সম্ভাব্য বিপযয় নিয়ে ভাবতে পারেন, যাতে তা প্রতিরোধ করা যায় । অনেকে সেফটি ইঞ্জিনিয়ারিং এর  সাথে আতঙ্কপবনতার পার্থক্য করতে পারে না। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের বিজ্ঞানীরা যখন রকেটে করে মহাকাশচারীদের চাঁদে পাঠিয়েছিলেন তারা আতংকিত ছিলেনা, তারা অত্যান্ত নিখুঁতভাবে চিন্তা করেছিলেন কি ধরণের ভুল হতে পারে এবং তা করেছিলেন মিশনকে সফল করার জন্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আমাদের এভাবে ভাবতে হবে। আমি এই রকেট রূপকটি অনেক পছন্দ করি। এখন পযন্ত, অন্য কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে শুধুমাত্র প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করার জন্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকটা প্রথমদিকার রকেট গবেষণার মতো তখন তাদের ভালো রকেট মোটর ছিলোনা - যখনি তারা ভালো মোটর পেলো তখনি তারা রোকেটকে নিয়ন্ত্রণ করার কাজে নেমে পড়লো।  

আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কে পরিচালনা করার কথা ভাবতে হবে। আজকের এই ভুলেভরা অপরিণত কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাকে আমরা কি ভাবে পরিবর্তন করবো যাতে আমরা একে বিশ্বাস করতে পারি। মেশিনকে আমরা কিভাবে বোঝাবো আমাদের লক্ষ্যের কথা, কিভাবে দিবো লক্ষ্যে স্থির থাকার শিক্ষা?

 

আপনার বইতে ১২টি সম্ভাব্য ভবিষতের ব্যাখ্যা আছে যেখানে মানুষের কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা সৃষ্টির চেষ্টা থেকে শুরু করে ইউটোপিয়া, এমনকি মানুষের বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও। অনলাইনে আপনি মানুষকে ভোট দিতে বলেছেন কোনটিকে তারা অধিকতর সম্ভাব্য মনে করে।আমরা এখনও কীর্ত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা তৈরী করা থেকে অনকে দূরে জেনেও মানুষের এখনই কেন এটা নিয়ে ভাবাকে আপনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন?

ম্যাক্স টেগমার্ক: এই সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ গুলো আমার এই জন্য ভালো লাগে যে, আমি সম্ভাবনা গুলো নিখুঁত ভাবে ব্যাখ্যা করার যত কঠোর চেষ্টা করিনা কেন এমন কোন সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেই যেখানে আমার কোনো সন্দেহ নেই। স্বর্গ কল্পনা করার থেকে নরক কল্পনা করা অনেক কঠিন এবং বিশ্বের ধর্মগুলোতেও তা  দেখা যায়।

কিন্তু মহৎ কিছু প্রত্তাশা করলে এবং আমাদের হীন চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক সহযোগিতায় লক্ষ্যে স্থির থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত সমাজে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে এবং আমার এখনই অনেক দলে বিভক্ত। হলিউডের সাইন্স ফিকশন সিনেমা গুলোতে ভবিষ্যৎ সবসময় বিশৃঙ্খল এবং অনাকাঙ্খিত। আমি যখন বন্ধুদের জিজ্ঞাস করি ৩০ থেকে ৫০ বছর পর তারা সমাজকে কিভাবে দেখতে চায়, দেখা যায় তারা আসলে সেভাবে চিন্তা করেনি, তারা শুধুমাত্র যেগুলো না হলে ভালো হয় তার কথা বলে।

ভাবুন কত ইঞ্জিনিয়ার জুল ভার্ন এর আন্তঃগ্রহ ভ্রমণ টেলিযোগাযোগ এর বর্ণনা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছে। এই কারণে আমি একটি আশাবাদী বই লিখতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষের ভাবা উচিত কোন ধরনের ভবিষ্যতে তারা প্রত্যাশা করে। যদি মানুষ এটা সম্পর্কে চিন্তা না করে, তবে পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

এই ১২টি  ভবিষতের মধ্যে কোনটিকে আপনার অধিক সম্ভাবনীয় মনে হয়?

ম্যাক্স টেগমার্ক: আমি সত্যি পছন্দ করিনা মানুষ যখন প্রশ্ন করে ভবিষ্যতে কি হবে, আমি বরং বলি আমরা এখন কি করতে পারি যাতে ভবিষ্যৎটা ভালো হয়।

প্রযুক্তিকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যত তৈরি করতে পারি, যতক্ষণ পযন্ত আমরা প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং একে পরিচালনা করার  প্রজ্ঞার দৌড়ে জিততে পারবো। আমরা এখনও ভুল থেকে শেখার পুরানো কৌশল ব্যবহার করছি। আমরা আগুন আবিষ্কার করলাম, অনেক কিছু পুড়িয়ে আমরা অগ্নি নির্বাপক উদ্ভাবন করলাম। আমরা গাড়ির আবিষ্কার করলাম, অনেক দুর্ঘটনার পর আমরা সিট বেল্ট উদ্ভাবন করলাম। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের মতো কৃত্রিম অতিবুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই না। প্রথমবারেই এটা আমাদের ঠিক ভাবে করা দরকার, কারণ দ্বিতীয় বার সুযোগ নাও পেতে পারি।

তার মানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দরকার, আমরা এখন পযন্ত আমরা যা করছি তা অনেকটা ছেলেমানুষি। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার বিলিয়ান ডলার বিনিয়োগের অধিকাংশই প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করার গবেষণায় ব্যায় হচ্ছে। আমি গবেষণা কমাতে বলছি না, আমি নিরাপত্তার উপর গবেষণার বাড়ানোর পক্ষে পরামর্শ দিচ্ছি।

 

আপনি "ফিউচার অফ লাইফ ইনস্টিটিউট" প্রতিষ্ঠা করেন, যার উদ্বেগে ২০১৫ সালের পুয়ের্তো রিকোতে আয়োজিত কনফারেন্সে সকল গবেষকরা একত্রিত হন এবং ইলন মাস্ক   কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করেন। এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং গবেষকরা আপনাদের অনুসরণ করেছেন।

ম্যাক্স টেগমার্ক: হ্যাঁ, কিন্তু আমরা আরও বেশি প্রত্যাশা করেছিলাম। চেয়েছিলাম নতুন চিন্তার বীজ বপন করতে, আশা ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বড় বিনিয়োগ কোম্পানিগুলো এগিয়ে আসবে … আসলে সে রকম কিছুই ঘটেনি। আশা করছি আমার এমন সরকার পাবো যারা AI নিরাপত্তার গবেষণাকে কম্পিউটার গবেষণাতে অন্তুর্ভুক্ত করবে, যাতে নিরাপত্তা গবেষণা কিছু বিনিয়োগ পায়। যেমন পারমাণবিক নিরাপত্তা গবেষণা ছাড়া পারমাণবিক শক্তি গবেষণা কখনোই হতে পারে না।

 

পুয়ের্তো রিকোর সম্মেলনে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা গবেষণা অগ্রাধিকার পায়। যেহেতু কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা এখনো সুদূর ভবিষ্যতের বিষয়, তাহলে এখন কোন ধরণের ব্যাবহারিক কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষণা হতে পারে? এবং আপনি কি দার্শনিক এবং নীতিনির্ধারকদেরও  যুক্ত করার কথা চিন্তা করছেন?

ম্যাক্স টেগমার্ক: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা গবেষণার ক্ষেত্রগুলো অনেক গভীর। অসিলমার কনফারেন্স এর  আগে (জানুয়ারী ২০১৭) আমরা দুই দিনব্যাপী একটা কর্মশালা করেছিলাম সেখানে আমাদের বিনিয়োগ করা সব টীম তাদের গবেষণা উপস্থাপন করে। "ফিউচার অফ লাইফ ইনস্টিটিউট" এর ওয়েবসাইটে আপনি গবেষণা বিষয় এবং প্রকাশনাগুলির একটি তালিকা দেখতে পাবেন।

অধিকাংশ বিনিয়োগ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা এবং সমন্বয়ের মতো মৌলিক কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যায় হচ্ছে। কিন্তু আমরা প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নৈতিক সমস্যা এবং কর্মক্ষেত্রের উপর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এর প্রভাব নিয়ে গবেষণায়ও বিনিয়োগ করছি।  যদি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সব সম্পদ উৎপাদিত হয় তবে তা কিভাবে বিতরণ করা হবে, এরকম প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে তারা। এবং নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে যাতে সভ্যতার উপর কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার এর কল্যানকর প্রভাব পড়ে যা শুধুমাত্র সমীকরণ দ্বারা সম্ভব নয়।

এই গবেষণার মাধ্যমে কি আমরা কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করতে পারবো?

ম্যাক্স টেগমার্ক: এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশ্নগুলি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। হয়তো এখন থেকে কয়েক দশক পর আমরা কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা মোকাবেলা করার কৌশল আয়ত্ত করতে পারবো। বেশিরভাগ দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জ স্বল্প মেয়াদী চ্যালেঞ্জ এর সাফল্যের সাথে সম্পর্কিত।

ধরুন কেউ আপনাকে বললো যে, তারা কৃত্তিম অতিবুদ্ধিমত্তা তৈরির জন্য একটি চমৎকার সিস্টেম পেয়েছে যাকে আপনি ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ... কিন্তু এটা হ্যাক হয়ে যায়। আমরা যদি সাইবার সিকিউরিটি ১০১ সমাধান করতে না পারি, তাহলে সব অগ্রবর্তী কাজই অর্থহীন। তাই যাচাইকরণ, বৈধতা, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা লক্ষ্যের দিকে এক একটা পদক্ষেপ। আমরা এখন স্বচ্ছতা নিয়েও কাজ করতে পারি: যদি আপনি একটি খুব উন্নত সিস্টেমের উপর নির্ভর করেন, তাহলে আপনার এর লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে তা আপনার লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কে প্রবেশন পাবে আর কে পাবে না তা সুপারিশ করার জন্য মেশিন লার্নিং ব্যবহার এর উপর গত বছর একটা তদন্ত হয়। বেরিয়ে আসে এটা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছিলো। কারণ সিস্টেমটি যথেষ্ট স্বচ্ছ ছিল না, এটি এমন কিছু করছিলো যা আমরা চাইনি।

 

আপনি কেন মনে করেন যে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় চেতনা গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত?

ম্যাক্স টেগমার্ক: প্রথমে আমাদের "চেতনা" শব্দটি সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যখন আমি চেতনা সম্পর্কে কথা বলি তা আসলে বিষয়গত অভিজ্ঞতা: এটা কিছু একটার মতো অনুভূত হয়। আমার কাছে এটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয় যে, বিজ্ঞানের এতো গুরুত্বপূর্ণ লোকেরা এখনো লক্ষ্য করেনি যে আমরা এমন একটা জিনিস এখনো বুঝিনি যেটা আমাদের খুব পরিচিত।

আমরা জানি ৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোর অনুভূতি আর ৪০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোর অনুভূতি ভিন্ন: একটিকে আমরা লাল বলি অন্যটিকে বেগুনি। মানুষ এতে অভ্যস্ত, তারা ভুলে যায় এখানে যে পদার্থবিদ্যা আছে আমরা তা বুঝতে পারছি না: কেন আমরা তাদের অন্য কোনো ভাবে অনুভব করতে পারছি না? আমরা জানিনা। এটা সেই ধরনের বিষয়গত অভিজ্ঞতা যা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকেও  ছাড়িয়ে যায়।

ঐতিহ্যগত আমরা ভেবেছি বুদ্ধিমত্তা এবং চেতনা উভয় রহস্যময় এবং শুধুমাত্র  জৈব প্রাণের বিষয়। কিন্তু পদার্থবিদ হিসাবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটা শুধু তথ্য প্রক্রিয়াকরণ,  পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুসারে কোয়ার্ক এবং ইলেক্ট্রনকে ব্যবহার করে। অনেকেই বিশ্বাস করে, চেতনা শুধুমাত্র তখনই থাকবে যদি তা কার্বন দ্বারা গঠিত হয়। আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, সিলিকন দিয়ে তৈরি যন্ত্র অনেক বুদ্ধিমত্তা ধারণ করতে পারে। আমি মনে করি সিলিকন দিয়ে এমন কিছু বানানো সম্ভব যাতে সচেতন অনুভুতি থাকবে।

 

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় চেতনা থাকতে পারে কিনা অথবা থাকা উচিত হবে কিনা এসব যেহেতু দীর্ঘ মেয়াদী চ্যালেঞ্জ তাহলে স্বল্পমেয়াদী গবেষণা প্রশ্নগুলি কি কি যেগুলো নিয়ে মানুষ কাজ করতে পারে?

ম্যাক্স টেগমার্ক: বুদ্ধিমত্তায় কোনো গোপন রহস্য নেই, আমি মনে করি চেতনায়ও কোনো গোপন রহস্য নেই, কিন্তু কিছু সমীকরণ আমরা এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি। আমাদের বের করতে হবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কোন বৈশিষ্ট্য চেতনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

গিউলিও টননি একটি তত্ত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, এবং সম্ভবত এটি সঠিক এবং হয়ত এটি ভুল। কিন্তু এটি একটি তত্ত্ব যা দিয়ে আমরা আমাদের পরীক্ষা শুরু করতে পারি, আমাদের সচেতন এবং অবচেতন মস্তিষ্কের কার্য পদ্ধতির দিকে তাকিয়ে দেখতে পারি। যদি আমরা এমন একটি তত্ত্ব খুঁজে পাই যা সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে, মস্তিষ্কের  ঠিক কি ধরণের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কারণে সচেতনতার অনুভূতি তৈরী হয়। তবেই আমরা একে অন্যদের জন্য গুরুত্ব সহকারে তা গ্রহণ করতে পারি: যেমন পোষা প্রাণী, রোবট, জরুরী অবস্থার রোগী।

একটি বুদ্ধিমান এবং নির্বাধ বস্তুর মধ্যে পার্থক্য হলো তারা কিছু নির্দিষ্ট উপায়ে কতটা দক্ষতার সাথে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। একটি সচেতন এবং অচেতন তথ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য হলো  কিছু বৈশিষ্ট যা  আমরা এখনো গাণিতিক সমীকরণ এর সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারিনি।

 

আপনি বইতে বলেছিলেন মহাবিশ্বের সমস্ত গৌরব অর্থহীন যদি তা উপলব্ধি করার জন্য মানুষ না থাকে। সুতরাং মানুষ যদি এমন একটি অতিবুদ্ধিমত্তার AI তৈরি করে যা আমাদের প্রজাতিকে ধ্বংস করে ফেলে, তবে তা একটি মহাজাগতিক ট্রাজেডি হতে পারে?

ম্যাক্স টেগমার্ক: বইয়ে, আমার দুই প্রিয় বিজ্ঞানী বন্ধু স্টিভেন ওয়েইনবার্গফ্রিম্যান ডাইসন এর  চিন্তাকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করেছি। স্টিভেন ওয়েইনবার্গ বলেন, যত আমরা আমাদের এই মহাবিশ্বেকে বুঝার চেষ্টা করছি, তত বেশি একে অর্থহীন মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্রিম্যান ডাইসন একে দেখছেন মহাজাগতিক ইতিহাসের নিরিখে, প্রাণ হলো এই নির্জীব মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র আলোকবর্তিকা - এখনো এটিই মহাবিশ্বকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করার শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে।

আজকের ম্যানহাটানের একটি এরিয়াল ছবি দেখুন এবং একে ১ মিলিয়ন বছর আগে দ্বীপটির একটি ছবির সাথে তুলনা করুন। ক্ষুদ্র প্রাণ এর প্রভাবে দ্বীপ ছিল তখন সবুজ আর এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।  প্রাণ যে ভাবে ম্যানহাটনকে রূপান্তর করেছে ঠিক একই ভাবে আমাদের এই মহাবিশ্বকে রূপান্তর করতে পারবেন না তার কোন কারণ নেই। আমি হতাশাবাদী নই বরং আশাবাদী এবং ফ্রিম্যান ডাইসনের সাথে একমত। আমরাই এই অর্থহীন মহাবিশ্বকে অর্থময় করে তুলছি।