মুর্শিদা জামান

এক ক্লাসমেট বেঞ্চে কলম দিয়ে আমার নামের পাশে লিখেছিলো ‘সাহিত্যিক’ মুর্শিদা জামান


 

[মুর্শিদা জামান। কবি ও গল্পকার। জন্ম ১৯৮৩ সালে ঝালকাঠিতে। বেড়ে উঠেছেন খুলনা শহরে। পড়াশোনা করেছেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বাঙলা সাহিত্যে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি।’ তার সঙ্গে কথাবলির পক্ষ থেকে সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছি সম্প্রতি। — নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।]


আপনার লেখালেখির শুরুটা নিয়ে বলুন?

খুব ছোট বেলা হতেই লেখার জগৎ টেনেছিল আমাকে। এর জন্য যথেষ্ট পরিবেশও পেয়েছিলাম সে সময়। এবং অসাধারণ সব মানুষ জন আমার শৈশব ঘিরে ছিলেন। যাদের ব্যক্তিত্ব ও কর্মকান্ড বেশ আকর্ষণ করতো। প্রভাবিত করেছে তো বটেই। শৈশবের সময়টি কেটেছে খুলনা শহরে। যখন বেশ বুঝতে শিখি, নব্বইয়ের স্বৈরশাসক পতনের উত্তাল সময় তখন। পাড়ার বড়রা কলোনির মাঠে মঞ্চ করে নাটক, কবিতা, গান সমানে করে যাচ্ছিল। চারদিকে জেগে ওঠার প্রলয় তখন। রাতভর চলতো সেইসব নাটক। তাছাড়াও প্রচুর বই পড়তেন আম্মু। যে স্কুলে পড়তাম সেখানেও এসবের চর্চা হতো। ক্লাস ফোর থেকেই বন্ধুরা মিলে বড়দের মত করে লিখতাম। সেই শুরু। এরপর তিরানব্বই-এর শেষদিকে আমাদের আচমকা খুলনা ছেড়ে চলে আসতে হয়। আমার বাবার মূল বাড়ি পাবনার চাটমোহরে। সেখানে জমি কেনা, বাড়ি করা এবং বসবাস করা এ সবই আমাকে অদ্ভুত এক জগতের দিকে ঠেলে দেয়। ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েও আমার যেন বয়স বেড়ে গিয়েছিল তখন। অচেনা মানুষ, অচেনা ভাষা এবং সম্পূর্ণ নতুন এক জীবনধারা আমাকে একলা আর বিরহী করে তুলেছিল। প্রচন্ড যন্ত্রনাদায়ক কৈশোর এ প্রবেশ করবার সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক ডিলিউশনে ভুগতে থাকলাম। এবং সেই সময় লেখাই ছিল আমার আশ্রয়। প্রেমের কবিতা দিয়ে ভরা থাকত খাতা। যার ফলে আম্মুর কাছ থেকে প্রচুর বকা খেতে হয়েচে। যা হোক, কীভাবে যেন আম্মু বুঝেও ফেললেন একদিন; আমাকে দিয়ে আসলে কিছুই হবে না এক লেখা ছাড়া। এবং তাঁর নিরব সমর্থন ও প্রশয়েই এখনও লিখেই যাচ্ছি।

ছোটোবেলায় কিছু হতে চাইতেন?

কী যে চমৎকার এক শৈশব ছিল আমার! চারপাশে কেবল সুন্দরের চর্চা। কেউ গাইছে, কেউ নাচছে আবার কেউ আঁকছে। চাকরির পাশাপাশি বাবা তখন বি. এ. (ডিগ্রি) পড়তেন। সারাদিন অফিস করে আবার রাত জেগে পড়তেন বলে বাসায় অদ্ভুত এক পরিবেশ ছিল। তখন টিভি এত ছিল না ঘরে ঘরে। কারো থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য আমরা দেখার সুযোগ পেতাম। কিন্তু প্রায় সকলের ঘরে প্রচুর বই পড়া হতো। লেখকদের প্রতি কি সম্মান আর ভক্তি ছিল কি বলবো! ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ ছিল বাবার পড়ার বই। সে বইটি পড়ে আম্মু কাঁদতেন। যেহেতু আমি ছোট তাই ধরা নিষেধ। একদিন চুপ করে বইটি খুললাম। খুলতেই চমৎকার একজন মানুষের ছবি পেলাম তাতে। সে সময় লেখার চেয়ে ছবি দেখতাম বেশি বলে মন দিয়ে ছবিটি দেখলাম। খুব মগ্ন হয়ে বসে লিখছেন লেখক। শাদাকালো ঐ ছবিটির মানুষটি নাকি ঐ লেখার ভঙ্গিটি কোনটি আকর্ষণ করেছিল জানি না তবে সেই প্রথম উপলব্ধি আমার ঐ রকম ভাবে লিখব মগ্ন হয়ে। শহীদ আনোয়ার পাশার ছবিটি আজও প্রভাবিত করে আমাকে। সে সময় জানতামও না যে, তিনি ১৯৭১ সালে শহীদ হয়েছিলেন। এবং ঐ বইটি আমার প্রথম পড়া্ বড়দের বই। দেশকে জানার বই।

আপনি তো গল্প লিখেন। আধুনিক গল্প কেমন হওয়া উচিত?

আমার গল্প লেখার বয়স খুব বেশি দিন হয়নি, বছর চারেক হলো গল্প লিখছি। কবিতা ছাড়াও আরও অনেক কিছু বলতে চেয়েছি এবং যা দেখছি তার চিত্রকে আঁকতে যেয়েই গল্পে প্রবেশ আমার। আর আধুনিক গল্পের কথা বলতে গেলে যেটি প্রথমেই বলতে হয় সেটি হলো ভাষার চেহারা বদল হয়েছে অনেকখানি। এবং অসংখ্য মানসিক সংঘাত, রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক বিপ্লব এত কিছু একসঙ্গে আমাদের জীবনে প্রবেশ করায় শিল্পসাহিত্যে এর প্রভাব স্বাভাবিক ভাবে এসেছে। ফলে গল্পগুলিও সজ্জিত হচ্ছে নতুন ধারায়, নতুন এক ছকে। সময় বলুন আর মানুষই বলুন সবই তো তার সময়েই আধুনিক।

গল্পে জাদুবাস্ততার প্রয়োগ বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন?

জাদু বাস্তবতার উর্বর সময় বুঝি এখনই। চারপাশে যা ঘটে চলেছে এবং আমাদের মত আবেগি আর কল্পনা প্রবণ মানসিকতার ভেতর যে তুমুল লড়াই চলছে দিন রাত, তাতে করে মানুষের অস্তিত্ব ও শিল্প সবটাই তো ভয়ানক জাদু বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। মানুষ খুন হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু খবরটি পাল্টে যাচ্ছে অন্যধারায়। যা লিখতে চাচ্ছি বা বলতে চাচ্ছি তা যেন কোন অদৃশ্য করাত হা করে গিলতে আসে। মারাত্মক এক অন্ধ দৈত্য চেপে বসে আছে যেন কোথাও। মনে হয় সে নিজে অন্ধ বলে আলো জ্বালাতে দেবে না। অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকি। ঠিক এই রকম সময়ে গল্পের ভেতর জাদু বাস্তবতার রেশ না থেকে উপায় কী? যে দিকে আলো আর খোলা জায়গা পাবে গাছেদেরে ডালপালা তো সেদিকেই বাড়বে।

আপনার গল্পের প্লট কীভাবে তৈরি হয়।

আগেই বলে রাখি, দীর্ঘদিন আমার ভেতর ক্যাটাটনিক সিজোফ্রেনিয়া ছিল। ২০০৭ এ টানা এক বছর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাই এবং সুস্থভাবে লেখায় ফিরি। তো এর আগে মানে যখন জানতাম না সিজোফ্রেনিয়া কি, তখন যা দেখতাম বা যা আমাকে আনন্দ, দুঃখ যাই দিত না কেন সেসবের ভেতর বাস করতাম। অথবা কোন সুন্দর জায়গা দেখে এলাম আমি, কল্পনাতেও সেই জায়গাতেই বসে থাকতাম। এর জন্য আমার পড়াশোনাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে। তো যার ফলে গল্পের প্লট নিয়ে আমাকে ভাবতে হয় না মোটেই। চারপাশের মানুষজন অথবা ঘটনাই আমি আমার মত করে লিখি। এবং মানুষের প্রেম, হিংসা ও বেঁচে থাকার এই যে বিপুল চলাচল এসব খুব ভাবায়। এগুলো নিয়েই গল্পের অবয়ব আঁকি।

গল্প লেখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টাকে গুরুত্ব দেন?

যখনই কোন ঘটনা বা চরিত্র আমি নিজে উপলব্ধি করি, সেটিকে গল্পের কাঠামোয় বা নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আনার জন্য খানিকটা রহস্য স্থাপন করতে ভালোবাসি। এবং ভাষা, এটিকেও গুরুত্ব দিতে পছন্দ করি। আমি একটি নির্মম ঘটনাকেও গুছিয়ে সুন্দর শব্দ দিয়ে বলতে চাই। অনেক ছোট বেলায় আমাদের পাশের বাসার এক ভাইয়া মারা যান, নাম ছিল মুকুল। তিনি ছিলেন খুলনার সেরা ফুটবলার। তো মুকুল ভাইয়া মারা যখন যান, তখন মৃত্যু কি আমি জানতাম না। সবাই কাঁদছিল খুব।
সেবার তাঁদের ব্যালকনিতে মৌচাক বসেছিল। আর আমার হাতের তালুতে উষ্ণ মধু ঢেলে দিয়েছিলেন মুকুল ভাইয়ার বাবা। যাকে কিনা যমের মতো ভয় পেতাম। সেই মুত্যুও মধুরঙের মত মনে হয় কেন যেন। এবং মুকুল ভাইয়ার মৃত্যুও সুন্দর শূন্যতা এনেছিল তখন। বুঝতেই পারছেন তাহলে, গল্প লেখার ক্ষেত্রে মানসিক গঠনও অনেকটা দায়ী অন্তত আমার নিকট তো বটেই।

আপনার লেখালেখির পেছনে কি কারো অনুপ্রেরণা ছিলো?

প্রচণ্ড বেদনাবোধ ও একইসঙ্গে প্রেম, এ দুটোর বাইরে আমার আম্মুই ছিলেন মূল মন্ত্রনাদাতা। অবশ্য তিনি প্রথম দিকে বুঝতে পারেন নি আমাকে। ভাবতেন পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে এসব কি করছি। অঙ্ক খাতা ভর্তি কবিতা! বুঝুন তবে! শেষ পর্যন্ত তিনিই আমার হাত শক্ত করে ধরলেন। অবাধ স্বাধীনতা দিলেন। এমনকি এখনও বলেন – আজ কি লিখতে বসেছিলে? অবশ্য হাইস্কুল জীবনে আমার বন্ধু সীমা রাণী সূত্রধর আমার একনিষ্ঠ পাঠক ছিল। এবং ও খুব বলতো লেখার বিষয়ে। কলেজ জীবনে এক ক্লাসমেট কাঠের বেঞ্চে কলম দিয়ে আমার নামের পাশে লিখেছিল সাহিত্যিক। ঘটনাটি আমার জন্য পজেটিভ অ্যানার্জি দিয়েছিল।

লেখালেখির মাধ্যম হিশেবে অর্ন্তজালকে আপনি কীভাবে দেখেন?

সত্যি বলেছেন বটে! টেকস্যাভিতে মানুষ এখন এতটাই অভ্যস্ত, লেখালেখিও তো তখন চলবেই সেখানে। ২০০৯ থেকে এই অর্ন্তজাল এ আটকে আছি। তাতে করে দুটো বিষয় স্পষ্ট হয়েছে আমার কাছে। তা হলো প্রচুর কবিতা দিন রাত পড়ছি বা লিখছি আমরা, কিন্তু মনে গেঁথে যাবার জন্য খুব কম লেখাই উঠে আসছে। আর একটি হলো সমসাময়িক থেকে শুরু করে সিনিয়র লেখকদের সঙ্গে লেখা নিয়ে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর সমস্ত লেখার আপডেট গুলো জানা যাচ্ছে সহজে। এরপরেও ছাপানো মাধ্যমে লেখা ও পড়াই ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আন্দোলিত করে। অর্ন্তজাল মনোযোগ সেইভাবে ধরে রাখে না ফলে কবিতা বা গল্প যাই হোক না কেন তাতে সেইভাবে প্রবেশ করতে পারি না।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে পুরস্কারগুলি প্রকৃতপক্ষে কী কোনো ভূমিকা রাখে? রাখলে কীভাবে?

দেখুন, যে কোন কাজেরই মূল্যায়ন পেতে কার না ভালো লাগে। পুরস্কার যে কোন কাজের দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। এবং উৎসাহিত করে।

সমসাময়িক গল্পকারদের গল্প সম্পর্কে বলুন।

এক সময় পাঠ্যবই এর বাইরে খুব পড়া হতো। হাতের কাছে যা পেতাম হামলে পড়তাম। এর পর বাংলায় অনার্স করতে এসে পত্র-পত্রিকার সাহিত্য পাতা নিয়ম করে পড়া হতো। তখন অনেক অচেনা লেখকদের গল্প পড়ে মুগ্ধ হতাম। এখন তো ফেসবুক বলুন আর অনলাইন পত্রিকা বলুন এসব সুবিধার জন্য লেখককেও চিনতে পারছি। প্রায় প্রত্যেক লেখকই তার নিজস্ব শিল্প, রচনাশৈলী এবং চিন্তার জায়গা বা দর্শন নিয়ে পাঠকের কাছে হাজির হন। সেই দিক থেকে, প্রতিটি গল্পেই কোন না কোন দিক থেকে কিন্তু ইতিবাচক অনুভূতি পাই। তবে হ্যাঁ রচনাশৈলীর দিক থেকে কিছু গল্প মনে দাগ ফেলে গেছে। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে – মহি মুহামম্মদের গল্প পেরেক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ব্রিফকেস, প্রশান্ত মৃধার লেখা বেলি কেডসের স্মৃতি, পাপড়ি রহমানের গাঙকলা ও জোয়ারের সংহরণ, হামিম কামালের লেখা পক্ষী, মোজাফফর হোসেন-এর লেখা বাঁশিওয়ালা মজ্ঝেল, মণিকা চক্রবর্তীর লেখা হাওয়ার সংকেত, বদরুন নাহারের গল্প চোরের স্যান্ডেল, কাজী রাফির বৈচিত্রময় গল্প। এছাড়াও অনেক প্রিয় গল্পকার রয়েছেন।

আপনার প্রিয় গল্পকার কে এবং কেনো?

এটি একটি জটিল প্রশ্ন। এর উত্তর চট করে দিতে গেলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের কথাই মনে আসে। গল্পগুচ্ছ যতবার পড়ি ততবার নতুনরুপে খুঁজে পাই তাঁকে। এছাড়াও ও হেনরি, মোঁপাসা এবং রুশ ছোট গল্পকারদের বাদ দিতে পারি না।

আপনার প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা কী?

এ বছর একুশে বইমেলায় আমার প্রথম বই ‘অদৃশ্য ছায়ার প্রজাপতি’ প্রকাশ হয়। এটি কবিতার বই। হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয়া। এবং এর পেছনে লেখক রঞ্জনা বিশ্বাসের অবদানই বেশি। পাঁচ-ছয় বছর ধরে লেখা কবিতাগুলো থেকে পান্ডুলিপির জন্য বাছাই পর্বের কাজ করা এবং লাগাতার চাপ দেয়া এর সবই রঞ্জনা বিশ্বাস করেছেন। এবং রাত জেগে সেসব কম্পিউটারে গোছগাছ করা এবং প্রকাশকের কাছে পৌঁছে দেয়া এর সবটাই করেছেন রিয়াসাত হাসান জ্যোতি। কারণ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যারের কাজ নিয়ে তখন আমি রাত দিন ব্যস্ত। ফলে আমাকে বই প্রকাশের ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে এই দুজন মানুষ খুব সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন। এবং আরও একজন মানুষ যিনি আমাকে বই প্রকাশের জন্য ক্রমাগত উৎসাহ দিতেন তিনি হলেন আমার আম্মু। এই পাণ্ডুলিপি যখন অনুপ্রাণন প্রকাশনী গ্রহন করলেন, খুব আনন্দবোধ করেছিলাম। এরপর ফ্ল্যাপ এর বিষয়টিতে মনোযোগ দিয়ে সাহায্য করলেন শ্রদ্ধেয় লেখক ও বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. তপন বাগচি। যে দিন আমি বইটি মোড়ক উন্মোচনের জন্য হাতে পেলাম অদ্ভুত এক শিহরণ বোধ করেছি এবং মনে হয়েছে সেই মূহুর্তে আমার মত সুখি আর কেউ নয়। খুব সাদামাটা ভাবে মোড়ক উন্মোচন হলেও অনেক লেখক ও শুভানুধ্যায়ী আমাকে শুভেচ্ছা এবং উৎসাহ দিয়েছেন। যা আমি কোনদিন ভুলবো না। প্রথম বই হলেও অনেকে আমার বইটি খুঁজে খুঁজে কিনতে এসেছেন। এর জন্য আমার বই এর প্রচ্ছদ শিল্পী তৌহিন হাসানকে ধন্যবাদ জানাই। চমৎকার এই প্রচ্ছদের জন্য অনেকেই আমাকে ফোন করেছেন। এবং গত জুন মাসের প্রথম দিকে একাধারে লেখক, চলচ্চিত্র পরিচালক, বাচিক শিল্পী এবং কর্মময় জীবনে যিনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ড. অমিত রঞ্জন বিশ্বাস লন্ডন থেকে ফোন করে আমার বইয়ের পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ও উৎসাহ দিয়েছেন। এটি আমার জন্য পরম পাওয়া।

পরবর্তী বই কখন করবেন? সেটা কি গল্পের হবে, নাকি কবিতার?

এই মুহূর্তে বলতে পারছি না, নির্দিষ্ট করে কখন এবং কি প্রকাশ করবো। আসলে পেশাগত কারণে লেখার টেবিলে রোজ বসা হয়ে ওঠেনা। আর গল্পের বইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনও সেইভাবে কুলিয়ে উঠতে পারিনি। প্রচুর সময় দিতে হয় তো, সেটিই কব্জা করতে পারছি না।

গল্প না, কবিতা কোনটা লিখতে বেশি ভালো লাগে?

কবিতা লিখি যখন, তখন এক ধরণের পুলক বোধ করি। এবং আনন্দ নিয়েই লিখি। আর গল্প সেটি লেখার সময় এত মগ্ন হতে হয় যে লেখা শেষ হলে আমার একা লাগে। মনে হয় এতদিন কাদের সঙ্গে যেন ছিলাম। তাই দু’ৎটো মাধ্যমে দুরকম ভালোলাগা বোধ কাজ করে নিজের ভেতর। সকাল ও সন্ধ্যের মতই কবিতা ও গল্প আমাকে দুইভাবে জাগায়।