মিয়া খলিফা

দাঁত মাজার আগে আমি কোনো কাজই করতে পারি না মিয়া খলিফা


[মিয়া খলিফা। লেবানিজ মার্কিন পর্নস্টার এবং মডেল। তিনি ১৯৯৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি লেবাননের বৈরুতে জন্ম নেন এবং পরবর্তীকালে দশ বছর বয়সে ২০০০ সালে পরিবারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হন। তিনি কিশোর বয়সেই মন্টগোমেরি কাউন্টি, মেরিল্যান্ড এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট এল পাসো থেকে ইতিহাসে স্নাতক। তার পরিবার ক্যাথলিক হলেও তিনি এখন আর চর্চা করেন না। তিনি অক্টোবর, ২০১৪ সালে পর্নোগ্রাফিকে পেশা হিশেবে নেন। এর আগে তিনি একটি স্থানীয় ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করতেন। সে বছর ডিসেম্বর ২৮ তারিখে তাকে পর্ণহাব তাদের ওয়েবসাইটের র্যনঙ্কিং পর্নস্টার হিশেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি তার প্রাপ্ত অখ্যাতি মধ্য প্রাচ্যে অনেকের মধ্যে দ্রুত কঠিন সমালোচনার অবতারণা করে, যেখানে লজ্জাজনক হিশেবে তার পেশাজীবন কলঙ্কচিহ্নিত মনে করা হয় এবং যে কারণে নিজ দেশে তার সম্মানহানি ঘটে। একটি ভিডিও-তে তাকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় পারফর্ম করতে দেখা যায় এবং অমার্জিত হিশেবে বর্ণনা করা হয়। অনেকে এটা পাপ হিশেবে ধরে নেয়, প্রচার করে যে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলামকে হেয় করেছেন। ফলত তিনি মৃত্যুর হুমকি পান। অনলাইনে ১.৫ মিলিয়নের অধিক ভিজিটরের পাশাপাশি, ২১ বছর বয়সী খলিফা অ্যাডাল্ট-সাইট পর্নহাব-এর সর্বাধিক সার্চকৃত মডেল হিশেবে উন্নীত। তিনি বর্তমানে মায়ামি, ফ্লোরিডায় বাস করছেন। আঠারো বছর বয়সে তিনি ২০১১ সালে একজন মার্কিনিকে বিয়ে করেন। তার শরীরে লেবানীয় জাতীয় সংগীতের প্রথম লাইন এবং লেবানীয় ফোর্সেস ক্রুশের উল্কি রয়েছে।
এখানে তার দুটি সাক্ষাৎকার সংযোজিত হয়েছে। প্রথমটি অনলাইনে ৭ মে, ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘হাও আর ইউ বিবি’ নামের ওয়েব পোর্টালে। দ্বিতীয়টি ‘এফএএফ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকার দুটি সমন্বয় করে কথাবলির ভাষান্তর করেন মোস্তফা জামান অপু ।]

 

এক নম্বর পর্নস্টারে পরিণত হওয়া, মৃত্যুর হুমকি, লেবননীয় নিষ্ঠুরতা ইত্যাদি নিয়ে আপনাকে কৌতুহলোদ্দীপক কয়েকটি মাস কাটাতে হয়েছে। আপনার জীবনে কতটা পরিবর্তন এলো এবং নতুন পাওয়া খ্যাতির সঙ্গে কীভাবে বোঝাপড়া করছেন?

জীবনে সাংঘাতিক কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি। আমার প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা এখনো শাদামাটা ও স্বাভাবিক। এটাকে আমি খ্যাতি মনে করি না, আমি এটাকে পরিস্থিতি-প্রসূত বিতর্ক মনে করি যার ফলে আমার ওপর মনযোগ আকর্ষিত হয়।

আপনি ব্যাংব্রোস-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তারা কেমন করে আপনাকে খুঁজে পেলো এবং অফিসে আপনার দিন কেমন করে কাটে?

অফিসে প্রতিদিন ৯ টায় ওয়েবক্যামের সামনে যাই, তারপর অফিসের ভিতর এদিক ওদিক ঘুরে মানুষকে বিরক্ত করতে করতে ওয়েবক্যাম’কে এড়িয়ে চলি যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ একজন আমাকে ধরে আবার ওয়েবক্যামের সামনে পাঠিয়ে দেয়। তারপর আমি আমার রুমে গিয়ে ইএসপিএনডটকম অথবা ওয়ারচান্টডটকম দেখে সময় নষ্ট করতে থাকি যতক্ষণ না আবার কেউ একজন আমাকে ধরে ওয়েবক্যামের সামনে পাঠাচ্ছে।

স্কোর গ্রুপের সঙ্গে একটি দৃশ্যে (আমার প্রথম দৃশ্য) অভিনয় করার পর ব্যাং ব্রো আমাকে খুঁজে পায়। তাদের জন্য অভিনয় করবো কিনা তা জানতে চায়।

সাধারণ মানুষেরা যখন বুঝতে পারে যে আপনি একজন পর্নস্টার তখন তারা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়? তারা কি আসলে আপনাকে চিনতে পারে?

কেউ কেউ আমাকে চিনতে পারে আবার কেউ কেউ পারে না। ‘আপনি কী করেন?’ এই প্রশ্নটাই সবচাইতে কঠিন প্রশ্ন। আমি প্রায় সময়ই ‘আমি একজন মডেল’ বলে উত্তর দিয়ে থাকি।

আপনি যখন আপনি কৌমার্যরহিত হলেন, তখন আপনার বয়স কতো?

বছর সতেরো হবে।

আপনি একজন পুরুষমানুষের মধ্যে কী দেখতে চান?

শিক্ষিত হওয়াটাই আমার কাছে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্তত স্নাতক হতে হবে। স্নাতক নয় এমন কারো সঙ্গে আমি শুতে যাবো না। লেক্রোস খেলোয়াড়দের ধরনধারণ আমার মতো। ল্যাক্স খেলুড়েদের প্রতি আমার রয়েছে চরম দূর্বলতা। তারা জানে কোমরকে কেমন করে খেলাতে হয়। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়টা সাধারণত খুবই মজার হয়।

পর্নোগ্রাফির বাইরে আপনার যৌনজীবন কেমন? প্রেম…?

হা হা... খুব বেশি হয় না আসলে। আমি বেশিরভাগ সময় আমার কাজের ক্ষেত্রেই কারো সঙ্গে শুই, আর তা মাসে ৩ থেকে ৪ বার।

কোনো বিখ্যাত অ্যাথলেটের সঙ্গে কি আপনি শুতে চান এবং কেন?

আমি অ্যাথলেটদের খুব বেশি সম্মান করি ফলত তাদেরকে যৌনানুভূতিসম্পন্ন হিশেবে দেখতে পারি না। ভক্ত এবং সমর্থকদের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবে, মিথ্যে বলবো না, সিডনি ক্রসবি’র (আইস হকি খেলোয়াড়) সঙ্গে শুতে ইচ্ছে করে।

আপনি কি সহজভাবে আপনার পেশার কথা আপনার নতুন ছেলেবন্ধু বা প্রেমিককে বলতে পারেন? যদি আপনার উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে বলুন তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?

আমি আসলে ডেটিং করি না। কখনো তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কেমন তা সামাল দিব সে বিষয়ে আমাকে ভাবতে হবে। তখন আমি আপনাদের জানাবো।

যৌনতার প্রতি আপনার মনোভাব এবং নিজের শোয়ার ঘরে যৌনসঙ্গম ইত্যাদি বিবেচনায় আপনার পেশা আপনার মধ্যে কেমন পরিবর্তন এনেছে?

আসলে আমার পেশা আমাকে পরিবর্তন করেনি। তবে, আমার সঙ্গীর কাছে নিজেকে যতটা প্রকাশ করছি তার চাইতে অনলাইনে মানুষের সামনে নিজেকে কতটা মেলে ধরছি সে বিষয়ে আমি অনেক বেশি সচেতন থাকি।

আপনার শরনাপন্ন হওয়া লোকগুলির মধ্যে সবচাইতে ক্ষ্যাপামীপূর্ণ ফ্যান্টাসি কোনগুলি?

তারা যখন শুধুমাত্র কথা বলতে চায় তখন সেটাকেই আমার সবচাইতে ক্ষ্যাপামীপূর্ণ মনে হয়। ক্যামেরার সামনে স্টেফ কারি, ওয়ারিয়র বনাম জর্ডান, নাইনটি-সিক্স বুলস (বাস্কেটবল সম্পর্কিত) এই সব বিষয়ে কথা বলতে হয় আমাকে। এগুলির জন্য তারা টাকা খরচ করছে... ভাবতেই আমি হতবুদ্ধি হয়ে যাই।

এই জায়গায় এতদিন কাজ করার পর পুরুষজাত সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

সবাই ক্লান্তিকর। এমন যদি হতো, গত কালকের পোশাক পরেই বিছানা থেকে উঠেছি অথচ কারো সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার জন্য আমাকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় বিবেচনা করা হচ্ছে। এটা আবার কেমন বিষয় যে কর্মক্লান্ত হওয়ার পর তোমাকে আরও বেশি যৌনাবেদনময়ী মনে হবে? ঘামেভেজা, নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়.....উফফ আমাকে শুতে হবে।

ওয়েবক্যাম মডেল হওয়ার সবচাইতে ভালো দিক কী?

আয়কর এড়িয়ে অবসরে যাওয়ার সুযোগ।

ক্যাম মডেলদের জন্য কোনো উপদেশ?

আপনি যখন মনে করছেন যে ক্যামেরা বন্ধ আছে তখন তা যে সত্যিই বন্ধ সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার ক্যামেরা পরীক্ষা করুন… সিরিয়াসলি বলছি। সবসময়।

আপনার প্রিয় খাবার কী?

স্টিক টার্টারে। নিষিদ্ধ আনন্দের খাবার? পেঁয়াজ ও রানের মাংস দেওয়া পিৎজা।

আপনার জগৎকে নাড়া দেয় এমন কিছু?

বরফশীতল বিয়ার এবং দারুণ কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। খেলাটা যদি শুধু বিবাদই সৃষ্টি করে এবং সঙ্গে থাকে চমৎকার বিয়ার তাহলেও আমার কিছু যায় আসে না।

ঘুম থেকে উঠার পর প্রথম যে কাজটি করেন…

দাঁত মাজার আগে আমি কোনো কাজই করতে পারি না। এমনকি আমার কুকুরগুলিকে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার কাজটিও আমি দাঁত মাজার আগে করতে পারি না।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে শেষ কাজ…

দাঁত মাজা। আমি কতটা মাতাল হয়ে আছি বা কতটা ক্লান্ত অথবা কতটা আরামে আছি এসব কোনো বিষয় না। আমাকে দাঁত মাজতেই হবে।