সব্যসাচী হাজরা

প্রতিকূল পরিবেশই শিল্পের পরিবেশ বিস্তৃত করে সব্যসাচী হাজরা

 

[সব্যসাচী হাজরা। মূলত চিত্রী। তারপর ডিজাইনার। জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ড্রইং অ্যান্ড পেইটিং-এ। ১ জানুয়ারি ২০১৬  জুয়েইরিযাহ মউ কথা বলেন তার সঙ্গে। কথা হয় প্রকাশনী, প্রচ্ছদশিল্প, শিল্পপাড়ার আরো অনেক বিষয় নিয়ে। কথাবলি-র পাঠকদের জন্য সাক্ষাত্কারটি আবার প্রকাশ করা হলো।]

 

শুভেচ্ছা নতুন বছরের।

হ্যাঁ শুভেচ্ছা জানাই।

আড্ডা নতুন বছরের কথা দিয়েই শুরু করছি। এ বছরতো প্রদর্শনীর সংখ্যা বেশ ভালোই বলতে হয়, যদি উল্লেখ করতে বলি তবে কোন প্রদর্শনীগুলোর কথা বলবেন?

এ মুহূর্তে যেগুলো মনে করতে পারছি তার মধ্যে রনবী স্যার (শিল্পী রফিকুন নবী) এর একক প্রদর্শনী যেটা বেঙ্গল আয়োজিত, কাইয়ুম স্যার (শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী) মারা যাওয়ার পর উনার স্ত্রীর সংগ্রহে থাকা শিল্পকর্মগুলো নিয়ে যে প্রদর্শনী হল সেটা। ছবিমেলা একটা ভালো উদ্যোগ ছিল,  তাছাড়া আন্তর্জাতিক আর্ট বিয়েনাল। আনিসুজ্জামান সোহেল নামের একটা ছেলের কাজ দেখেছিলাম বেঙ্গল আয়োজিত একটা প্রদর্শনীতে, শাদা-কালো রঙের সমন্বয়ে গ্রাফিক্সের কাজ ছিল, নতুনত্ব আছে মনে হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন শিল্পীরা কিউরেটর হলে ভালো হয়। আমাদের এখানে বিশেষত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যে প্রদর্শনীগুলো হয় বেশিরভাগ কিউরেটররা শিল্পবোদ্ধা নন। এসব সম্পর্কে আপনার কী মত?

দেখো শিল্পী কিউরেটর হলেই যে প্রদর্শনীর ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকবে না এটা বলা যায় না। কিউরেটর হতে গেলেও পৃথক পড়াশোনার দরকার আছে, বিপণন এবং প্রচারের ধারণা থাকতে হবে, প্রদর্শনীর দর্শক কারা এ সম্পর্কে অ্যানালাইসিস করতে হবে। বাইরে কিউরেটিং নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে। শিল্পী যদি কিউরেটিং নিয়ে ভাবে তবে তার নিজস্ব কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে হয়। আমিরুল রাজিব নামে একজন কিউরেটিং করছে ইদানীং, ওর ব্যাকগ্রাউণ্ড কিন্তু চারুকলায় না তবে কাজ ভালোই করছে।

গ্যালারির মধ্যে শিল্প সীমাবদ্ধ, সাধারণের কাছে এসমস্ত কাজ কি আদৌ পৌঁছায়?

গ্যালারি কই বাংলাদেশে? বাঙলাদেশে কি আদৌ গ্যালারী আছে। হ্যাঁ শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারী আছে একটা, কিন্তু ওটার স্থাপত্য ঠিক গ্যালারী হয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। বেঙ্গল চেষ্টা করেছে বটে কিন্তু সেটার আর্কিটেকচারাল ফাউণ্ডেশনও পারফেক্ট না। আমরা যদি মনে করি দু’তলা ভাড়া করে এক তলা গ্যালারী বানিয়ে ফেলবো এভাবে আসলে হয় না। 

আর সীমাবদ্ধতার কথা যেটা বলছিলে, দেখো এখানে কি হয় যারা শিল্পী তারাই দর্শক আবার সেই ঘরানার মধ্যেই দু’এক জন সমালোচক। এভাবে প্রদর্শনী হয়ে যায়। কিন্তু যদি চারুকলায় প্রদর্শনী হয় তখন বিভিন্ন সার্কেলের ছেলেমেয়েরা কম-বেশি যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে এ বছর কয়টা প্রদর্শনী হয়েছে বলো ? বেঙ্গল যদি চায় তবে কাইয়ুম চৌধুরী, রনবী, হাশেম খান- উনাদের মতো অনেকের ছবি নিয়ে কি জেলা শহরে প্রদর্শনী করা যায় না? ছবি বিক্রিই তো শেষ কথা নয়।

Sabyasachi Hazra

ইদানীং যে কাজগুলো হচ্ছে সেগুলোর কথা বলতে গেলে কি মনে হয় - আমাদের কাজে আমরা কতটা আছি?

এসব নিয়ে কথা বলতে তেমন ইচ্ছে করে না। আমরা বাইরের কাজের প্রতি এতো বেশি আকৃষ্ট ফলে দেখা যায় বেশিরভাগ কাজ বাইরের চোথা কাজ হয়ে ওঠে। আরেকটা ব্যাপার হল আমাদের এখানে সমালোচকদের দেখার চোখ বিস্তৃত নয়। ফলে দেখা যায় একজন আজ যে কাজের বেশ প্রশংসা করলেন এক বছর পর দেখলেন অন্য এক বিদেশি কাজের সাথে সে কাজ হুবুহু মিলে যাচ্ছে।

অথচ আমাদের অতীত দেখো শিল্পী সুলতান, কামরুল তো বাইরে তাকান ই নি। গ্রাম্য বাজার থেকে কিনে আনা রং, পাল এসব তাঁদের উপকরণ ছিল। সুলতান ক্যানভাস বানালেন ছালা দিয়ে, হলুদ বেটে রঙ। লাঠি খেলা, বিশালদেহী নারী এসব ছিল বিষয়।

আমাদের শিল্পীদের কাছে আজ বিষয়বস্তু নেই, তারা বিষয় খুঁজতে জানে না। যে দৈন্যদশা চলছে তার মূল কারণ আমরা যে রাস্তায় চলছিলাম সে রাস্তা থেকে সরে গেছি। কেউই যে করছে না তা নয়, ভালো কাজ হচ্ছে। তবে সংখ্যায় খুব কম।

শিল্পী বাহরাম-এর কাজ দেখেছিলাম কিংবা মাঝখানে কয়েকটা প্রদর্শনীতে আমাদের রিকশা পেইন্ট নিয়ে কয়েকটা কাজ দেখলাম। কিন্তু এগুলো তো আসলেও সংখ্যায় কম।

হ্যাঁ সেটাই। কনক চাঁপা চাকমা ট্রাইবাল বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেন, সেটাও ভালো। মূল সমস্যা কি জানো, আমাদের শিল্পীরা খুব বিচ্ছিন্ন। এদের আড্ডা নাই, ভাবনার আদান-প্রদানের জায়গা নেই। আগে কি হতো, সব নির্মাতা-কবি-শিল্পী এমনকি রাজনীতিবিদ সবার সাথে সবার যোগাযোগ ছিল। একারণে শিল্পীরাও রজনীতি সচেতন ছিলেন। এজন্যই জয়নুল আবেদীন দুর্ভিক্ষ নিয়ে ছবি এঁকেছিলেন।

এজন্য কি একাডেমি অনেকটা দায়ী নয়? যেহেতু বেশিরভাগ চারুশিল্পী চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরেই এ অঙ্গনে কাজ করতে আসেন। প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস কি বাংলাদেশকে যথেষ্ট জানায়?

আমি এটা একটু ভিন্নভাবে ভাবি। ঢাবি দর্শন বিভাগ কি তোমাকে দর্শন বোঝাতে পারবে? পারবে না। ছবি আঁকার বিষয় কি হবে তা চারুকলা কখনো শেখাতে পারবে না। সমস্যা হচ্ছে চারুকলার শিক্ষার্থীরা আঁকা শিখে কিন্তু কি আঁকবে তা খুঁজে পায় না। তাদের যদি বলা হয় ‘ভালোবাসা’ নিয়ে ছবি আঁকো তারা এঁকে দিতে পারবে। কিন্তু ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয় দেওয়া হলে তারা হাতড়ে বেড়াবে। কিছুই খুঁজে পাবে না। এর মূল কারণ ছেলেমেয়েরা আউটডোরে যায় না। একটা কবিতা উৎসব হচ্ছে যাবে না। সিনেমা না দেখে কি ছবি আঁকা সম্ভব? আমরা বলি যে পড়াশোনা করি কিন্তু আসলে আমরা পড়াশোনা করি না। খুব কম।

Meditations on violence

মেডিটেশনস অন ভায়োলেন্স

শিল্পের বাজার তৈরি করার ব্যাপারে আপনার কি মত?

শিল্পের বাজার তৈরি হবে, কিন্তু এর জন্য মুখায়া বসে থাকলে ঝামেলা। জয়নুল আবেদীন বা সুলতান এর ছবির কত বড় বড় প্রদর্শনী কত জায়গায় হয়েছে, বিক্রিও হয়েছে। আগে শিল্প তৈরি কর বাজার তৈরি হবেই। বাইরের যারা তারা কিন্তু অনেক দক্ষ, তারা এসে দেখবে তোমার ছবিতে তোমার কোন উপকরণ নাই সব বাইরেরই উপকরণ তাহলে কেন নিতে যাবে তোমার ছবি? 

আর শিল্পীরা একটু কষ্টে থাকুক। প্রতিকূল পরিবেশই শিল্পের পরিবেশ বিস্তৃত করে। সেটা ভালো। আমাদের সেরা কাজগুলো শিল্পে-সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে বেশিরভাগ ৫২-৭১-৯০ তে হয়েছে, এরপর খুঁজে দেখো শিল্পীই খুঁজে বের করা কঠিন।

প্রচ্ছদ আঁকতে এলেন কেন?

আমি যেভাবে যেতে চেয়েছিলাম ওভাবে যেতে পারিনি। আমি আমার পেশা আর শখ আলাদা করতে চেয়েছিলাম। আর্ট বলতে আমি শুধু কাগজ-কলম-ক্যানভাসকে বুঝি না। আমার কাছে আর্ট একটা কবিতা-সিনেমা-স্থাপত্য-সঙ্গীত সব মিলিয়ে একটা স্থাপনা। সাহিত্য পড়ার আগ্রহ ছিল, ওভাবেই চলে আসা।

আমি এরকম অনেক প্রচ্ছদশিল্পীকে জানি যারা বই-এর কনটেন্ট না পড়ে প্রচ্ছদ আঁকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, অনেকে কনটেন্টকে প্রাধান্য দেন। আপনি কি বলবেন এ ব্যাপারে?

কনটেন্ট না পড়ে কভার করার কোনো জায়গাই নাই। প্রচ্ছদ বা কভার ডিজাইন অন্যের ভাবনাকে নিয়ে নিজের ভাবনার প্রকাশ। আমাকেও অনেকে বলে করে দেন, যেমন বললো – বই এর নাম অমুক প্রেমকাহিনি এটা। কী করে বুঝবো কী ধরনের প্রেম? জৈবিক-মানসিক না দেশপ্রেম? দেখো, যোগাযোগেরও একটা ব্যাপার থাকে এখানে। আগে দেখো কী হতো জসীম উদ্‌দীন এর কোন বই এর প্রচ্ছদ করছেন জয়নুল আবেদীন। বুঝতে পারছো কোথায় কোথায় মিলে যাচ্ছে। সেটাই বলছি এখন এ বোঝাপড়ারই অভাব।

অগ্রজ প্রচ্ছদশিল্পীদের মধ্যে কারা অনুপ্রেরণা আপনার?

অগ্রজদের মধ্যে সত্যজিৎ রায়, পূর্ণেন্দু পত্রী, হিরণ মিত্র, কামরুল হাসান, জয়নুল আবেদিন, কাইয়ুম চৌধুরী, ধ্রুব এষ। ধ্রুবদাই তো এখনো ধরে রেখেছেন।

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী-কে যদি মূল্যায়ন করতে বলি তবে কি বলবেন?

শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী এমন একজন ব্যক্তি যিনি ম্যানুয়াল এবং ডিজিটাল দু মাধ্যমেই সমানভাবে দারুণ কাজ করে রেখে গেছেন। শেষ এখন পর্যন্ত কাইয়ুম স্যারই শিল্প-সাহিত্য বোঝেন এমন একজন মানুষ যিনি প্রচ্ছদ শিল্পমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অনেক প্রকাশক যারা কাইয়ুম স্যারের সাথে কাজ করতেন আমি জানি অন্য অনেককে দিয়ে এই এইবার বই মেলাতেও প্রচ্ছদ করিয়ে নিবেন, কিন্তু তারা কোনদিন উপলব্ধিও করতে পারবেন না যে তারা কী হারিয়েছেন।

নতুনরা তেমন আসছে না কেন? প্রচ্ছদ শিল্পকে কি পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ আছে?

আসছে না কারণ বিপণনের ব্যাপার তো। প্রকাশকদের মধ্যে কি কারও মনে হয় শিল্প নির্দেশক রাখার প্রয়োজন আছে? এছাড়া লেখার মান অনেক কম। আরেকটা কারণ পড়াশোনার ব্যাপারে আর্টিস্টদের মনোযোগ নেই তেমন। আর পুরোপুরি পেশা হিসেবে এখন নেওয়া যাবে না, আগামী বিশ বছরেও নেওয়া যাবে কি না সন্দেহ। প্রকাশক-প্রচ্ছদশিল্পী-লেখক সবার সমন্বয় সাধন অত্যন্ত জরুরী।

শুধু প্রচ্ছদ নয়, লোগো-টিশার্ট-পোস্টার সবক্ষেত্রেই কাজ হচ্ছে। শিল্পী হিসেবে ভোগান্তির স্বীকার কেমন হতে হয় এসব ক্ষেত্রে?

সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যের সাথে যারা জড়িত তাদের মধ্যে রুচির ঘাটতি দেখা যায়। ধরো এসে বললো বিদেশের অমুক লোগোর মতোন লোগো করে দিতে হবে। এসব আর কি। বিপণনের জন্য যে পৃথকভাবে কালার কারেকশান, মানসম্মত লে-আউট দরকার এটা বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা উপলব্ধি করেন না। নয়তো ‘আলাউদ্দিনের মিষ্টি অপূর্ব সৃষ্টি’ – এরকম বিজ্ঞাপন তো আমাদের দেশেই করেছেন শিল্পী রফিকুন নবী।

বই এর ক্ষেত্রেও একই জিনিস দেখি, শুধু প্রচ্ছদ নিয়ে কথা বললাম। ফন্ট-সামগ্রিক ডিজাইন যে শিল্প সে ধারণা কি আছে প্রকাশকদের? নোকতা যদিও ব্যতিক্রম মনে হয়।

মূলত কারা চালাচ্ছেন সেটাও দেখার মতোন বিষয়। আর এক দু’টো ভালো কাজ হচ্ছে, ধরে রাখাটা ব্যাপার। দেখো আনন্দবাজার, দেশ – এই যে কন্টিনিউটি। আর আমরা ডিজাইন কি দেখবো অসংখ্য ভুল বানানে ভরা বই কি তুলে দিচ্ছি না পাঠকের হাতে। প্রকাশকদের বেশিরভাগ নান্দনিক ব্যাপারগুলো নিয়ে মাথা ঘামাতে পছন্দ করেন না, পাঠকেরাও কিনে নেন। এভাবেই এসব কাজগুলো বিপণনযোগ্য হয়ে যায় শেষ অবধি।

বর্ণমালার বই বের করেছেন। কত বছরের শ্রমের ফসল এটি?

এই দু’বছর ধরে টুক টুক করে করছিলাম কাজটা।

কোন প্রকাশনীকে না দিয়ে নিজে বের করলেন কেন?

কোন প্রকাশনীর উপর ভরসা রাখতে পারিনি।

এটা নিয়ে পরবর্তী কোন প্ল্যান আছে কি? এটার পেছনে কি কোন সিরিজ ভাবনা কাজ করেছে?

হ্যাঁ, আমি পাঁচটা বই করবো ভাবছি। একটা হলো। শিশুদের নিয়েই কাজ করতে চাইছি, তরুণদের তৈরি করার আর কিছু নেই। তাই ভাবলাম ছোট ছোট যে মানুষগুলো বড় হবে তাদের নিয়ে কাজ করার জায়গাটায় থাকি। আর ওদের মধ্যে একটা দারুণ জিনিস আছে জানো, অনেকে আমাকে এসে বলেছে—অ দিয়ে প্যাঁচা হচ্ছে তুমি ওটা আঁকলে না কেন? অনেকে আমাকে এঁকে এঁকে পাঠিয়েছে, বলেছে দেখো এগুলি ভুল করেছো তুমি। আমি এটাই চেয়েছিলাম, এগুলোর জন্যই কাজটা করে যেতে চাই।

আপনি অনিয়মিত ভাবে প্রদর্শনীতে কাজ জমা দেন, কেন?

নিয়মিত আঁকা হয় না তাছাড়া আরও অনেককিছু ভেবেই দেওয়া হয় না।

সেই অনেককিছুটা কী?

এগুলো মউ বলতে ইচ্ছে করছে না।

কিন্তু কথা হওয়া তো প্রয়োজন। অনেকে বলেন প্রদর্শনীগুলো নির্দিষ্ট দলকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। আবার জাতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনীগুলোতে গতানুগতিক কাজের বাইরের কাজ স্থান পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কি বলবেন?

শিল্পী কেন এসব নিয়ে ভাববে বলো? কে ওপেনিং এ আছে, কার ক’টা ছবি বিক্রি হল এগুলো কেন শিল্পীর ভাবনার বিষয় হবে?

আপনার নিজের কাজের ইতিবাচক আর নেতিবাচক দিক যদি জানতে চাই তবে?

আমি কাজের ক্ষেত্রে সাবজেক্ট নিয়ে ভাবি, তাই অন্য জায়গাগুলোতে দুর্বলতা থেকে যায়। আর প্রদর্শনী এবং বিপণন নিয়ে কম ভাবি, ভাবতে পারি না। আমার মতে এটাও নেতিবাচক, ভাবা উচিৎ আসলে।

আমার চারপাশের অনেকের সাথে আমার ভাবনা মিলে না। আমার কাছে বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিতে দিতে যে ছবিটা এঁকে ফেলছি কাগজে সে আঁকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বড় ক্যানভাসে আয়োজন করে আঁকার চেয়ে।

ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা ?

ছবি আঁকতে হবে। এগুলোর সাথে থাকতে হবে। এরকমই মনে হয়। আর শিশুরা, ওদের জন্য ভাবতে ভালো লাগে। মনে হয় কিছু করে রেখে গেলাম। কনটেমপরারী বিষয়গুলো আঁকা থাকলো, তুলে রাখা হল। ওরা একদিন জানবে দেখবে এগুলো ছিল। এই এই বিষয়গুলো এরকম ছিল।