সৈয়দ সাখাওয়াৎ

কবিতা আমার কাছে অপ্রকাশের ভার, যা আমি বলতে চাই, কিন্তু বলতে পারি না সৈয়দ সাখাওয়াৎ

 

[মহান একুশে বইমেলা ২০১৭ কে সামনে রেখে কথাবলিডটকম আয়োজন করেছে এমন কতিপয় কবি ও কথাসাহিত্যিকের সাক্ষাৎকারের, যাদের এই মেলায় নতুন কিংবা প্রথম বই প্রকাশ পাচ্ছে। এই পর্যায়ে আমরা কথা বলেছি কবি সৈয়দ সাখাওয়াৎ-এর সঙ্গে। এই বইমেলায় তার প্রকাশিতব্য দ্বিতীয় কবিতার বই ‘পাতাচূর্ণ উড়ে যাবার সাথে সাথে।’ প্রকাশ করছে বাঙ্ময় প্রকাশনী। তিনি আমাদের নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আসুন,  এইবার তার কথা শুনি। — নির্ঝর নৈঃশব্দ্য]

 

নিজের বই নিয়ে অনুভূতি কী?

ভালোই। বই আলাদা অস্তিত্বের প্রকাশ করে। সেকেন্ড এন্টিটি আর কী।

ছোটোবেলায় কিছু হতে চাইতেন?

অনেক কিছুই। দস্যু বনহুর, কিশোর পাশা, মাসুদ রানা, টম সয়্যার, হাক ফিন, এরফান জেসাফ, ক্রিকেটার, ফুটবলার, সেইলর, ট্রাভেলার সবকিছু কিংবা আরো কত কী-বলে শেষ করা যাবে না।

আপনার লেখালেখির শুরু কবে থেকে মানে কতোদিন ধরে লেখালিখি করছেন?

সম্ভবত ক্লাস সিক্সে পড়াকালীন বাবা’র লেখা কবিতা একটা ম্যাগাজিনে পড়ে লেখার চেষ্টা। ওই সময়েই স্কুলের দেয়াল পত্রিকার জন্য ছড়া লিখে শুরু। এস.এস.সি পাশ করে, সালটা ৯৫; ধীরে ধীরে লেখালেখি নিয়মিত শুরু হয়।

আপনার লেখালেখির শুরু কেনো বলে মনে হয়?

লিখতে চাওয়ার ইচ্ছাটাই কারণ। বাবা’র লেখা পড়ার প্রভাবটা উল্লেখযোগ্য।

আপনি কি শেষ পর্যন্ত কবি হতে চান, নাকি অন্যকিছু?

কোনোকিছু চাইলেই হওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত লিখে যেতে চাই।

আপনার কাছে কবিতা কী?

কবিতা আমার কাছে অপ্রকাশের ভার, যা আমি বলতে চাই, কিন্তু বলতে পারি না। যা আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে আরেকজনের কাছে প্রকাশিত। বহুমাত্রিক বোধ।

আপনার মাথার মধ্যে কবিতার ইমেজ কেমন করে আসে?

যেকোনো অভিজ্ঞতাই কবিতার ইমেজ তৈরীর জন্য যথেষ্ঠ। আর তা এমনিতেই আসে। দেখার চোখ থাকলেই এটা তৈরী করা সম্ভব। বানায়ে বানায়ে কবিতা হয় না।

বিশেষ কারো কবিতা কি আপনাকে প্রভাবিত করে?

জীবনানন্দ দাশ ও বিনয় মজুমদার-এর কথা না বললেই নয়। আর ভাস্কর চক্রবর্তী আমাকে প্রায়ই তাড়া করে।

আপনার নিয়মিত কার কার কবিতা পড়তে ভালো লাগে, কেনো লাগে?

অনেকের কবিতা আমি পড়ি। নতুন কিংবা পুরাতন, যারাই লিখছে সবার লেখাই পড়তে চাই। ভালো লাগা বা খারাপ লাগা আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি , তাই ওটার বিশেষ গুরুত্ব নাই। 

কবি এরং কবিতার দায় সম্পর্কে আপনার মত কী?

প্রতিটি মানুষেরই দায় আছে। সে অর্থে কবি’র আলাদা কোনো দায় নেই। এটা একটা ইমেজ প্রিন্টিং প্রসেস। আমি বিশ্বাস করি না। মানুষ হিসেবে যা দায়, তাই-ই তো অনেক বড় দায়।

আপনার সমকালীন কবিদের লেখা কবিতা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?

সবাই লিখছে, আর এটাই গুরুত্বপূর্ণ। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই লিখছে। নিরীক্ষা থেকে শুরু করে চলতি হাওয়া বা প্রবণতা-সবকিছু নিয়েই। এই যে এত বড় একটা তরুণ অংশ লিখতে চায়, এটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি মন্তব্য করার কে?

এই সময়ে যারা কবিতা লিখেন তাদের কবিতা বিষয়ে বলেন। তাদের অনেকের মাঝে কি স্টান্টবাজি লক্ষ করেন না?

সকলেই কবিতা লিখছেন বা সাহিত্যের অন্য কোনো ধারায় নিয়োজিত আছেন। এটাই বড় কথা। আর হ্যাঁ, স্টান্টবাজ চরিত্র তো জাতীয় রাজনীতির ফসল। এখন লেখকরাও সে চরিত্র ধারণ করেছেন। বাজার যদি লেখক-কেও খাদ্যে পরিণত করে তাহলে যা হয় আর কী। কিন্তু আমার মনে হয়, যতবড় স্টান্ট-ততবড় মানুষ এবং লেখা হওয়াটা জরুরী। আর কিছুরই কোনো মূল্য নাই। স্টান্টবাজি করে স্টান্টম্যান হওয়া যাবে, সাহিত্যের কোনো আসবে-যাবে না।

দশক বিভাজন বিষয়ে আপনার মত কী?

কোনো সমস্যা তো দেখি না। একেকটা দশকে আলাদা কোনো প্রবণতা আছে কী না, তা ভবিষ্যত পাঠক বা লেখকের জন্য গুরুত্ববহ হয়ে উঠতে পারে। আর ডকুমেন্টেশন হলে তো ভালোই। শিল্প-সাহিত্যের পাটাতনে কোনো না কোনো সময় কাজে লাগতেও পারে।

শিল্প-সাহিত্যেক্ষেত্রে পুরস্কার প্রকৃতপক্ষে কী কোনো ভূমিকা রাখে?

শিল্প-সাহিত্যে রাখে কী না জানি না। তবে ব্যক্তিগত জীবনে রাখে। টাকা-পয়সা পাওয়া যায়। প্রচার-প্রচারণা হয়। লোকজন চেনে কিংবা একটু সেলিব্রেটি অনুভূতিও তৈরী হতে পারে। ফলে তাবত বিষয়টা পুরোটাই ব্যক্তির জীবনে প্রভাব।

সবশেষে আপনি আপনার এমন একটা স্বপ্নের কথা আমাদের বলেন, যেটা বাস্তবায়ন করতে আপনার চেষ্টা আছে।

স্বপ্ন অনেকটা অপরিচিত কারো সাথে দূরালাপনী’র মতো। ওপারের মানুষটা-কে না জেনে, না দেখে কথা বলে যাওয়ার একটা অনিশ্চিত পথে চলা। অনেক স্বপ্নের চাপ হয়তো, সেকারণে এট লিস্ট ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চাই, লিখে যেতে চাই।