হাসনাত শোয়েব

গাধারা দীর্ঘজীবী হোক, মানবজাতি ধ্বংস হোক হাসনাত শোয়েব


[হাসনাত শোয়েব মূলত কবি। ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্ম। সেখানেই বেড়ে উঠা। পড়তে পড়তে কবিতার জগতে আসা। ২০১২ সাল থেকে কবিতার পথে যাত্রা। তখন থেকেই বিভিন্ন ম্যাগ এবং ওয়েবে কবিতা প্রকাশ। ২০১৫ সালে প্রথম কবিতার বই ‘সূর্যাস্তগামী মাছ’ প্রকাশিত হয়। তারপর ‘ব্রায়ানস অ্যাডামস ও মারমেইড বিষ্যুদবার’। তার পরে ‘শেফালি কি জানে’ নামে মেটাফিকশনধর্মী একটা মুক্তগদ্যের বই।

শোয়েব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্র থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বর্তমানে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। তিনি কবি হিশেবে ফুলটাইমার। সর্ব অবস্থায় লিখতে পারেন। বিষাদের চেয়ে আনন্দেই লিখেন বেশি। তার কবিতা পড়তে পড়তে কখনো আপনার মনে হতে পারে আপনি শিশুপার্কে ঢুকে বিভিন্ন রাইডে চড়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা মনে হতে পারে অ্যালিসের মতো কোনো ওয়ান্ডার ল্যান্ডে চলে গেছেন। সে এক আশ্চর্য ঘোরের জগত। কুয়াশা ও রোদের মাঝখানে দিঘল হয়ে চলে গেছে যেনো বা সূর্যের দিকে, কিংবা অমাবস্যার দিকে, বৈকুণ্ঠ বা রৌরবের দিকে।তার কবিতা বৈশ্বিক, এই অর্থে যে তার কবিতার কোনো জাতীয় বা ভৌগলিক, ধর্মীয় বা অধর্মীয় বেরিয়ার নেই। তার কবিতার চরিত্রগুলিও খুবই ইন্টারেস্টিং। যা আসে পুরান, ইতিহাস, দর্শন-সহ জ্ঞান বিজ্ঞানের সমূহ শাখা থেকে। তবে স্বরূপে আসে না তার কবিতায় এসে রূপ পাল্টে যায়। এমন কিছু চরিত্র আছে আপনার কাছে যাদের খুব আপনও মনে হতে পারে। 

তিনি সম্প্রতি বাঙলা কবিতায় ভিন্নমাত্রা যোগ করার জন্যে পশ্চিম বাঙলা থেকে পেয়েছেন ‘ঐহিক তরুণ কবি সম্মাননা।’ এই বছর প্রকাশ হচ্ছে তার আরো দুটো কবিতার বই, বাঙলাদেশ থেকে‘দ্য রেইনি সিজন’আর ভারত থেকে ‘ক্ল্যাপস ক্ল্যাপস।’ তো কবি হাসনাত শোয়েবের সঙ্গে কথা বলেছি ‘কথাবলি’র পক্ষ থেকে।] 

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: ‘ঐহিক তরুণ কবি সম্মাননা’পাওয়ায় আপনার কেমন লাগছে?

হাসনাত শোয়েব: সত্যি কথা বলতে, তেমন কিছুই লাগছে না। একটু ভালো লাগা আছে। এর বেশি আলাদা কিছু মনে হচ্ছে না। আবার খানিকটা অস্বস্তিও আছে। এই বিষয়টিকে আমি নিজেই সবসময় সন্দেহের চোখে দেখে এসেছি

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  কেনো সন্দেহের চোখে দেখে এসেছেন?

হাসনাত শোয়েব: পুরস্কার তো কখনো সম্পর্ক এবং খাতিরের বাইরে দেয়া হয় না। সবসময় যোগ্য লোক পায় তাও না। আর এতে সাহিত্যের খুব বেশি লাভ হয় বলেও মনে হয় না। এগুলো সবসময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেমন সে বিবেচনায় দেয়া হয়। তাই সন্দেহের চোখে দেখা

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  এইটা তো ওই অর্থে ঠিক পুরস্কার নয়, এইটা সম্মাননা। এইটা অর্থমূল্য আছে কিনাও জানি না, মনে হয় নাই। মানে আমি বলতে চাইছি এইটা ঠিক ব্যাংক বা ক্লাবের ১ লাখ টাকা ৫ লাখ টাকা মানের পুরস্কারের মতো নয়। এইটা আপনাকে সম্মাননা জানাচ্ছে ঐহিক আপনার লেখার নিজস্ব শৈলী ও শক্তির জন্যে। আপনার তো এক্ষেত্রে সম্মানিত বোধ করা উচিত। আপনি কী বলেন। আর তাছাড়া এইটার জন্যে আপনি কোনো বইপত্রও পাঠাননি, আপনার প্রত্যাশা বা চেষ্টাও ছিলো না।

হাসনাত শোয়েব: হাঁ। সেদিকটা ভেবেই আমি স্বস্তি বোধ করছি এবং সম্মানিতও। তাই আমি নেয়ার জন্য আগ্রহী হয়েছি। বইপত্র দেয়ার প্রশ্ন থাকলে আমি ওদিকটাতে কখনো যেতাম না।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আচ্ছা। এইবার অন্য কথা বলি। আপনার লেখা যেহেতু আমি নিয়মিতই পড়ি তো আমার মধ্যে মধ্যে মনে হয় আপনি মাঝে মাঝে তুমুল আনন্দ নিয়ে লেখালেখি করেন। আপনার কবিতা পড়তে পড়তে কখনো মেনে হয় আমি শিশুপার্কে বিভিন্ন রাইডে চড়ে বেড়াচ্ছি কিংবা অ্যালিসের মতো কোনো ওয়ান্ডার ল্যান্ডে চলে গেছি।

হাসনাত শোয়েব: আমি অনেক দিন পর পর লিখি।  যখন লিখি একটানা লিখি। হাঁ আনন্দ নিয়েই লিখি। যা মনে চায় লিখি। লেখা আমি খুব বেশি এডিটও করি না । লেখালেখিকে আমি কখনো চাপ হিসেবে নেয় না। এমনকি আজ থেকে আমি আর কখনো লিখতে না পারলেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  বাহ্ এইটা তো ভালো। আমার মনে হতো আনন্দ নিয়ে ছবি আঁকতে হয়, আর যন্ত্রণা থেকে পরিত্রাণের জন্যে কবিতা লিখতে হয়। এখনো আমার এমনই মনে হয়। হয়তো সেকেলে চিন্তার মধ্যেই আছি বলে। যাইহোক, আপনার কবিতার চরিত্রগুলি আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং, এমন কিছু চরিত্র আমার কাছে খুব আপনও মনে হয়। এইবার আপনার কবিতার চরিত্রগুলি নিয়ে কথা বলি। প্রথমে শেফালি নিয়ে বলেন। শেফালি কোথা হতে কেমন করে এলো, কেমন করে বিস্তারিত হলো আপনার কবিতায়?

হাসনাত শোয়েব: আমি আসলে কখনো চরিত্র ভেবে নিয়ে লিখতে বসি না। লিখতে লিখতে চরিত্রগুলো আসে। এই চরিত্র কখনো একটা নির্দিষ্ট কেউ না। শেফালিও কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র না। অনেক কিছুই মিলিয়ে সে। সেখানে আমার প্রেমিকা যেমন ছিল, মাও ছিল। আবার আশেপাশে দেখা না দেখা অনেকেই ছিল। তবে এসব খুবই স্বতস্ফূর্তভাবে এসেছে। জোর করে না। তবে চরিত্রটার শুরুর ধাক্কাটা ছিল প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দিতে গিয়ে। কিন্তু এরপর সেখানে আর স্থির থাকেনি। সে তার মতো যেভাবে পারে এগিয়েছে। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না সেই শেফালি। আবার সবাই কোনো না কোনোভাবে নিজেকে শেফালি দাবি করতে পারে।। অনেক নারী পাঠক আমাকে বলেছে তারা শেফালি হতে চায়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  শেফালি হয়ে তারা কী করতে চায়?

হাসনাত শোয়েব: আমি আসলে নিশ্চিত না। একজন আমাকে বলছিলো তার কাছে শেফালিকে শক্তিশালী নারীবাদী চরিত্র মনে হয়েছে। আরেকজন বলছিলো সেও শেফালির মতো উড়ে যেতে চায়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আচ্ছা। নারীবাদী বা পাখিটাইপ শেফালি কি এখন বেঁচে আছে নাকি মাইরা ফেলছেন?

হাসনাত শোয়েব: নাহ্। প্রকাশিত হওয়ার পর শেফালির পরিণতি নিয়ে আমি ভাবিনি কখনো। পাঠকই যার যার মত করে তার পরিণতি ঠিক করে দিচ্ছে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আমি জানতে চাইছিলাম, শেফালিকে নিয়ে আর কিছু করছেন কিনা।

হাসনাত শোয়েব: না না, তাকে নিয়ে আর কিছু করছি না।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  হুঁ, ভালোই হয়েছে। একই জিনিশ চিরদিন না টানাই ভালো। এইবার আসেন দানিয়েলের কাছে। আপনার কবিতায় দানিয়েলের সঙ্গে পরিচয়ের পর আমার অকারণেই আরেক দানিয়েলের কথা মনে পড়েছে। সে হলো জাঁ পল সার্ত্রের রোড্স অব ফ্রিডমের একটা সমকামী চরিত্র। যার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিলো কুড়ি বছর আগে। তো আপনার দানিয়েলকে যখন পড়ি, সেই দানিয়েল মাথার ভিতর থেকে যায়। এইবার বলেন, দানিয়েল কেমন করে কোথা থেকে এলো? তার সঙ্গে এত কী কথা?

হাসনাত শোয়েব: দানিয়েলকে আমি আল্টিমেট গোল হিসেবে সবসময় দাঁড় করাতে চেয়েছি । কখনো বন্ধু হিসেবে আবার কখনো পাইওনিয়ার হিসেবে। তার সঙ্গে যা খুশি বলা যায়  যখন খুশি আশ্রয় নেয়া যায়। আমি যখনি নিজে নিজে কথা বলতে গেছি বিপরীতে দানিয়েলকে দাড় করিয়েছি। আবার চূড়ান্ত কোনো লক্ষ্যের কথা ভাবলেও সেখানে দানিয়েলকে ভেবেছি।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: তার মানে দানিয়েল আপনার অল্টার-ইগো টাইপ কিছু?

হাসনাত শোয়েব: হাঁ কখনো কখনো তাই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: তারমানে তাকে আরো পাবো আপনার কবিতায়?

হাসনাত শোয়েব: হাঁ সে আসতে পারে। তবে হয়তো অন্যভাবে

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: আর শমোসন?

হাসনাত শোয়েব: শমোসন আর মনে হয় না আসবে। ওইটা একটা সময়ের প্রেক্ষিতে আসছিল। পরে শেষও হয়ে গেছে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  কেউ কেউ বলেন তিনি কবিতা বানানোর জিনিশ। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

হাসনাত শোয়েব: কবিতা হয়তো কেউ কেউ বানায়। কিন্তু আমার কাছে কবিতা স্বতস্ফুর্ত একটা বিষয় বলেই মনে হয়। সারাদিন বসে বসে কবিতা বানাচ্ছেন আপনি এটা খুবই ক্লান্তিকর বিষয়্। এত দায় লেখাটা আমার পছন্দও না। যা ভেতর থেকে আসবে সেটাই আমার কাছে পছন্দের। আমি সেভাবেই কবিতাকে দেখতে চাই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: পশ্চিম বাঙলার কনটেম্পরারি কবিতা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? কলকাতা যেহেতু কসমোপলিটন শহর, সেহেতু কলকাতাকেন্দ্রিক কবিতা আর কলকাতার বাইরে পশ্চিমবাঙলার অন্যান্য বাঙলাভাষী অঞ্চলের কবিতা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ বলেন।

হাসনাত শোয়েব: আমার মনে হয় বিচ্ছিন্নভাবে অনেক ভালো লেখা হচ্ছে পশ্চিম বাঙলায়। অনেকের কবিতা পড়ার সুযোগ হয়েছে এর মধ্যে। যাদের অনেকেই ভালো লেখেন। যা কিছুদিন আগেও চোখে পড়েনি বা সামনে আসেনি। তবে পশ্চিম বাঙলার বাইরে অন্যদের কবিতা আমার তেমন পড়া নেই।তাই সে বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  বাঙলা কবিতার ভবিষ্যত কী বলে আপনি মনে করেন?

হাসনাত শোয়েব: বাঙলা কবিতার ভবিষ্যত সম্পর্কে আমি সেভাবে ভেবে দেখিনি। তবে কবিতার যদি কোনো ভবিষ্যত থাকে তবে বাঙলা কবিতারও ভবিষ্যত আছে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: প্রেমে পড়েন বা করেন?

হাসনাত শোয়েব: প্রেমে পড়া হয় হরহামেশায়। তবে এখন পর্যন্ত একটা প্রেমই করেছি, বছরে হিসাব তো বাদই দিলাম। অনেক প্রেম করার মতো প্রেম আমার মধ্যে নেই। যেটা করেছি সেটাতেই বিয়ে করেছি। তাই আপাতত প্রেমহীন বলা যেতে পারে (হা হা হা)।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: হিহিহি। আপনি যথাসময়ে যথার্থ বুদ্ধিমানের মতো জবাবই দিয়েছেন। আপনার নববিবাহিত জীবন সুন্দর হোক। আচ্ছা, এইবার বলেন আপনার ব্যক্তিগত জীবন কি কবিতাকে প্রভাবিত করে?

হাসনাত শোয়েব: সরাসরি ব্যক্তিগত জীবন আমার কবিতাকে বা লেখার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে না। তবে সেটা হয়তো প্রচ্চন্নভাবে চলে আসে। আমি যেকোনো পরিস্থিতিতে লিখতে পারি। সেজন্য আমার আলাদা কোনো পরিবেশের দরকার হয় না। যখন ইচ্ছা লিখতে পারি। তাই প্রভাবও ওইভাবে আসে না। যা আসে খুবই ভাসাভাসা। কিংবা অনেক গভীরে গেলে হযতো পাওয়া যেতে পারে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:   কবিতার জন্যে যা কিছু অপরিহার্য তার মধ্যে একটা বিষয় নারী। আমার এমন মনে হয়। আপনার মত কী?

হাসনাত শোয়েব: আমার কাছে কবিতার জন্য কোনো কিছুকেই অপরিহার্য মনে হয় না। নারী তো একেবারেই নয়। আমি যখন লিখি এসব অনুভূতি আসে না। মানে আলাদা কোনো অনুভূতির কথা মাথায় আসে না। আশেপাশে অনেক নারী (মানে প্রেমময় নারী আর কি) থাকলে আমি লিখতে পারব এরকম আমার কখনো হয়নি। লেখা আমার কাছে খুবই স্বতঃস্ফুর্ত বিষয়। যখন আসে এমনিতেই আসে। যখন তখন। কোনো আলাদা প্রভাব কখনো প্রয়োজন হয়নি।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  শ্রেণিচেতনা কি আপনাকে তাড়িত করে? করলে কী ভাবেন বা করেন?

হাসনাত শোয়েব: একটা সময় বাম ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। খুব ভালোভাবে না হলেও ছিলাম। শ্রেণী বৈষম্য আমাকে সবসময় তাড়িত করে। হয়তো আমার লেখায় সরাসরি সেসব কখনো আসেনি, সেটা আমার অক্ষমতা। কখনো আসবে না তাও বলা যায় না। তবে এ বিষয়টি আমাকে ভাবায়, কখনো কখনো যন্ত্রণাও দেয়। আবার কিছু না করতে পারার গ্লানিও। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যা আমাকে মেনে নিতে হচ্ছে। এটাই হয়তো মানুষ হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতা।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: লিঅনার্দ কোহেনের মিউজিক কম্পোজিশন ভালো লাগে, নাকি কবিতা? 

হাসনাত শোয়েব: কোহেনের সবকিছু আমার ভালো লাগে। তার গান, কবিতা সব।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: কেনো ভালো লাগে?

হাসনাত শোয়েব: আমি খুব বিপর্যস্ত সময়ের ভেতর দিয়ে কোহেনকে আবিস্কার করি। যা আমাকে নতুনভাবে বাঁচিয়ে তোলে। কোহেন এবং কিয়েরোস্তামির সৃষ্টিকর্মের ভেতর দিয়ে আমি নিজেকে পুননির্মাণ করেছি এবং আবিস্কার করেছি। এখনো এদের অনেকবার দেখা কাজ আমি বিহ্বল হয়ে শুনি, দেখি কিংবা পড়ি। তাদের প্রতি আমার অসামান্য ঋণ। কোহেন আমার আরো ভালো লাগে কারণ কোহেন শুনে আমি কাঁদতে পারি। আবার চাইলে বাঁচতেও পারি।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: আপনার কি মনে হয় কবি কোহেন বা, সং রাইটার বা গায়ক কোহেন কোনোভাবে আপনাকে প্রভাবিত করেছে, কবিতার ক্ষেত্রে?

হাসনাত শোয়েব: ওই যে বললাম সরাসরি আসলে কোনো কিছুই প্রভাবিত করেনি। কিন্তু অবচেতনের সবকিছুই প্রভাবিত করেছে। একেবারে ছোট ছোট বিষয়। সে হিশেবে কোহেনের প্রভাব তো আছেই। তবে আমার ব্যক্তিগত ভাবনার জায়গার অনেকটা জুড়েই আছেন কোহেন।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আপনার তো মনে হয় মিউজিক করার কথা ছিলো। কবিতায় কেনো? ছোটবেলায় নিশ্চয়ই কবি হওয়ার স্বপ্ন ছিলো না?

হাসনাত শোয়েব: হাঁ। আমি তো আগেই বলেছিলাম, আমি রকস্টার হতে চেয়েছি। মিউজিক করতে এসেছিলাম সেজন্য। কিন্তু মিউজিকটা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেনি। কিন্তু আমি মনে করি আমার শরীরের অসাধারণ জিনিসটা হচ্ছে আমার কান। আমি আমার কানকে তৈরি করেছি। অনেক ধরনের মিউজিক শুনে শুনে আমি বেড়ে উটেছি। আমার মিউজিক টেস্টও অদ্ভুত। আমি যেমন হিন্দি ফিল্মি গান শুনে অভ্যস্ত তেমন ডেথ মেটাল কিংবা ক্লাসিক্যাল মিউজিকও আমি শুনি। মিউজিকে আমি সর্বভূক। আর কবি হওয়ার স্বপ্ন আমার কখনোই ছিল না। এখনো নাই। কবিতা লিখি সেটা ঠিক আছে। কিন্তু কেউ কবি হিসেবে আমাকে স্বীকৃতি দিবে বা সেই পরিচয়ে পরিচিত হবো এমন আকাঙ্খা আমার নাই। কবি হওয়ার কোনো ব্রত আমার নাই। আমি লিখি মনের আনন্দে। এর বেশি কিছু আমার দরকার নাই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:   আপনার প্রকাশিতব্য বই দুটি নিয়ে বলেন। প্রথমে ‘দ্য রেইনি সিজন’।

হাসনাত শোয়েব: ‘রেইনি সিজন’ মূলত সিরিজ কবিতার বই। এটা একটানা বসে লেখা। হলি ট্রিনিটির মতো কিছু একটা ভাবতে গিয়ে এই সিরিজটা লেখা। যদিও ভাবনা পরবর্তীতে একইরকম থাকেনি। অনেকভাবে পথ বদলেছে। শেষ পর্যন্ত যা লিখতে চেয়ে তার খুব অল্পই হয়তো ছুঁতে পেরেছি। অবশ্য অন্য কোনোভাবে লিখলেও হয়তো তেমনই মনে হতো।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য: আর ‘ক্ল্যাপস ক্ল্যাপস’?   

হাসনাত শোয়েব: ‘ক্ল্যাপস ক্ল্যাপস’-এ আমি মূলত একটা গল্প বলতে চেয়েছি অনেকগুলো ভাগে। লেখাগুলোও বিভিন্ন ভাগে বিভিন্ন সময়ে  লেখা। তবে এখানে একটা সুক্ষ্ম জার্নি আছে। কেউ মনযোগ দিলে সেটা ধরতে পারবে। না পারলেও কোনো সমস্যা নাই। যে যার মতো করে পড়বে। আমি আমারটা বললাম আর কি।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আপনার সঙ্গে আপাতত কথা শেষ। কারণ এইভাবে শেষ না করলে শেষ হবে না। সব শেষে মানবজাতির উদ্দেশে কিছু বলেন। কিংবা গাধাদের উদ্দেশে।

হাসনাত শোয়েব: গাধারা দীর্ঘজীবী হোক, মানবজাতি ধ্বংস হোক।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য:  আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ, এইটা আমিও চাই।