দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম

বই প্রকাশ মানে আমি নিজের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ্য করে দিচ্ছি দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম


[দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম। দ্বিতীয় দশকের দেদীপ্যমান কবিদের একজন। জন্ম ২১ নভেম্বর ১৯৮৭, বাহ্মণবাড়িয়ায়, তিতাস নদীর পাড়ে। কাজের সূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। মহান একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এ বোধি থেকে প্রকাশ হয়েছে তার প্রথম কবিতার বই 'সমুদ্রের ব্যাকরণ।' সেই সূত্রে তার সঙ্গে কথা বলা। তিনি বলেছেন কবিতা, পড়াশোনা, পছন্দ অপছন্দ, লেখালেখি, জীবন, মানুষ-সহ ইত্যাকার নানা বিষয় নিয়ে কথা।]

 

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : প্রথমে আপনার  প্রথম কবিতার বই নিয়ে বলেন। যা ভেবেছেন, বই হচ্ছে কেমন লাগছে এইসব

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : প্রথম বই নিয়ে সত্যি বলতে আহামরি কোন ভালোলাগা কাজ করে না। দুই বাঙলা মিলিয়ে পাঁচ হাজার কবিতার বই হচ্ছে প্রতিবছর, আমিও এ মিছিলে যোগ দিলাম। এটা বাঙলা কবিতার জন্য বিশেষ কিছু না। আবার আমার নিজের জন্যও তেমন কিছু না। সম্ভবত এর কারণ, আমি কবি জীবন ধারণ করিনি। তবে হ্যাঁ, বই প্রকাশ মানে আমি নিজের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ্য করে দিচ্ছি, কোন উল্লেখযোগ্য কিছু যোগ না করতে পারার একটা লজ্জাও তাড়িয়ে যাবে এরপর

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : উল্লেখযোগ্য কিছু কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : এই যে সীমাবদ্ধতার উন্মোচন, দায়বদ্ধতা জন্মানো, এমন একটা মাধ্যমে,  যেটা অপরদিকে আমার প্রিয়, এটা উল্লেখযোগ্য করে দিচ্ছে

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : ছোটোবেলায় কি লেখালেখি করতেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : না। আমি জীবনের প্রথম লেখাটি লিখি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। চাপে পড়ে, বিভাগীয় এক ক্রোড়পত্রে। সেখানে সুনীলের কবিতার ফ্রেমে নিজের শব্দ ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম। এবং হ্যা, আমি পাদটীকায় সেটা বলেছিলাম ও

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : লিখতে কেমন লাগে?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : লিখতে ভালোবাসি। এবং যা লিখতে চাই তা পারি না। কিছুটা মেধার অভাব, কিছুটা সাহসের। লিখতে চাওয়াটা একটা অস্থিরতা সমান অনুভব আমার কাছে, একটা কিছু লিখে পরিত্রাণ পেতে হয়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনার কাছে কবিতা কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : কবিতাকে আমার কাছে উপলব্ধির প্রকাশ মনে হয়, যেখানে অন্তর্নিহিত একটা সুর কাঠামো গড়ে উঠে। অনেকটা বক্তিমনের সুরারোপিত বার্তা মতো, যা ব্যক্তিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : আপনার লেখালেখির শুরু কেনো বলে মনে হয়?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : শুরু কেনো যদি বলি, সেটা আসলে ব্লগ, ভার্চুয়াল জগতের একটা প্রভাব। যেখানে নিজের আইডেন্টিটি অর্থে হলেও কিছু লিখতে হতো। যেটা পরবর্তীতে নিজের ভেতর ছড়িয়ে গেছে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : আপনার মাথার মধ্যে কবিতার ইমেজ কেমন করে আসে?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : বিভিন্নভাবে। যেমন চলতি পথে কিছু একটা দেখলাম, সেটা হয়তো আমাকে নাড়া দিতে পারে। আবার আমার একা চিন্তার জগতে কোন পাওয়া না-পাওয়া প্রভাবক একটা দৃশ্যচিত্র গড়ে দিতে পারে। সেটা যে আমি ফোটাতে পারি তা না, কিন্তু দৃশ্যের জন্ম হয়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  কবিতা প্রকাশের মাধ্যম হিশেবে এই যে ব্লগ, বারোয়ারি ব্লগ, ফেসবুক, সাহিত্য-পোর্টাল তথা অনলাইনের এই ভার্চুয়াল পৃথিবীকে আপনি কীভাবে দেখেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : ইতিবাচক অর্থে দেখি। এই মাধ্যমগুলোর কারণে কোন সংঘবদ্ধ চক্রে না জড়িয়ে ও নিজেকে প্রকাশ করা যায়। আমার নিজের কথা যদি বলি, আমি লিটলম্যাগাজিন আর সাহিত্য পোর্টালে এখন নিয়মিত যুক্ত হচ্ছি, এর পুরোটা ফেসবুক আর ব্লগের কল্যান। এ দুটো মাধ্যম না থাকলে আমাকে কে চিনতো?

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : আমাদের অনেককেই বলতে শুনি, পশ্চিমবঙ্গের কবিতার চেয়ে বাঙলাদেশের কবিতা ভালো। এই সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : পাঠক ভেদে মতামত তো ভিন্ন হবেই। এখন কোন জেনারেশনের কথা বলছেন আমি জানিনা, তবে আমি একাত্তর পরবর্তী আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে কবি যারা এসেছেন, আর পশ্চিমবাঙলায় যারা এসেছেন, সে তুলনায় গেলে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে রাখবো।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনার সমকালীন কবিদের লেখা কবিতা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : আমার সমকাল কারা সেটা বুঝা দুষ্কর। আমি নিজেকে নিতান্তই শুরু করা জানি। যদিও আমার প্রথম বই প্রকাশ হচ্ছে আমার বয়স যখন ত্রিশ পেরোলো। ঠিক এ মুহূর্তে যাদের প্রথম বই দ্বিতীয় বই এসেছে, গত দু তিন বছরে, তারা মোটামুটি সবাই দশকের কবি হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। সে ক্ষেত্রে আমার কোন অবস্থান নেই। ফলে তাদের লেখা নিয়ে মূল্যায়ন করা কঠিন ব্যাপার।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : কবিতাই লিখবেন, নাকি ফিকশনেও যাবেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : আমি গদ্যে যেতে চাই। উপন্যাস আমাকে দিয়ে হবে না, কিন্তু গল্প লেখার ইচ্ছে আছে। এবং এ দিকটায় যাদের লেখালেখি আমাকে অনুপ্রাণিত করে তারাও মূলত কবি, অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত, শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আমার মনে হয় মিডিওকারগণ মিডিয়ার আশপাশে ঘুরঘুর করে যেমন টিভি চ্যানেলে যাওয়া, খবরের কাগজে কবিতা ছাপানো, খবরের কাগজের সাহিত্য সম্পাদকদের সঙ্গে অতিসম্পর্ক রাখা ইত্যাদি। এইসব না করলে কি লেখার ক্ষতিবৃদ্ধি হয়? মিডিয়া হয়তো বর্তমানে পরিচিতি দেয় একরকম। কিন্তু মহাকাল তো এ হেন মিডিওকারদের মনে রাখে না। এ বিষয়ে আপনার কী মত?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : হ্যাঁ, এসব দেখা যায়। হাসি ওঠে। এবং মিডিয়া যে সমকালেও কবিতার পাঠক তৈরি করতে পারছেনা এটা প্রমাণিত। আর লেখার সঙ্গে এইসব মুখ দেখানো আর ভাই-ভাই খেলার সম্পর্ক নেই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনার প্রিয় কবি কে? এই প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সঙ্গে যার নাম মনে এলো সেই নাম করুন।

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : জীবনানন্দ দাশ। এরপর আমি একটা বিশাল তালিকা নিয়ে বসতে পারি, সেখানে ভাস্কর চক্রবর্তী থেকে মজনু শাহ, তালিকাটা বেশ বড়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  অনেককেই দেখা যায় প্রথাগত ছন্দ নিয়ে অস্থির হয়ে যেতে। যেনো এই ছাঁচে কবিতাকে না ফেললে কবিতা দাঁড়ায় না। ফলত আমরা দেখি নিখুঁত ছন্দের ছাঁচে ঝুলে আছে শব্দের কঙ্কাল। সেখানে ভাষা নেই। ছন্দ তো একটা কৌশল, সহজেই রপ্ত করা যায়। তাই আমার মনে হয় ছন্দ নিয়ে হইচই না করে ললিতভাষায় লিখতে শেখা অনেক জরুরী। কারণ শেষপর্যন্ত সঠিক ভাষাই সব কিছুর স্রষ্টা। আপনার কী মনে হয়?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম :  কে বলেছিলেন তা এ মুহূর্তে মনে নেই, কিন্তু অনুবাদ কবিতা অর্থে বলা বক্তব্যটুকুই আমি স্বীকার করি, ছন্দ-গহনা বাদ দিলে বলবার মতো যা থাকে তাই কবিতা। মূল বক্তব্যে ছিল, অনুবাদ করবার মতো যা থাকে। ছন্দ কবিতায় এখনও চর্চা আছে, এর ভেতর অনেক কবিতাকে অতিমাত্রায় আরোপিত ছন্দের মনে হয়। কবিতার জন্য কবির নিজস্ব ভাষা তৈরিই মূল বিষয়, এর সঙ্গে ছন্দের কোন সম্পর্ক নেই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  কেউ কেউ বলেন তিনি কবিতা বানানোর জিনিশ। এ বিষয়ে আপনার মত কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : সম্ভবত এইসব বানানো কবিতা দিয়ে ইদানীংকালের অনেক সাহিত্য সাময়িকী টিকে আছে। হ্যা, এটা স্বীকার করছি কবিতা বানানো যায়। কিন্তু এই বানানো কবিতাগুলো চুড়ান্তপর্যায়ে ফেলে দিতে চাইবো আমি। সেখানে হয়ে ওঠা কবিতাগুলো রাখবো।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : পশ্চিম বাঙলার কনটেম্পরারি কবিতা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? কলকাতা যেহেতু কসমোপলিটন শহর, সেহেতু কলকাতাকেন্দ্রিক কবিতা আর কলকাতার বাইরে পশ্চিমবাঙলার অন্যান্য বাঙলাভাষী অঞ্চলের কবিতা সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ বলেন।

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : কলকাতাকেন্দ্রিক কবিতা বিজ্ঞাপিত হয়, কলকাতার বাইরের কবিতা তেমনটা পায় না। কিন্তু পাঠক একদিন কবিতাই পড়বে। আমি সম্প্রতি নিত্য মালাকার পড়লাম, উনার মৃত্যুর পর। উনার যে নিজস্ব স্বর আছে তা অনেক প্রচার সর্বস্ব কবির নেই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  বাঙলা কবিতার ভবিষ্যত কী বলে আপনি মনে করেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : খুবই ভালো। প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। প্রচুর পড়াশোনার সুযোগ। প্রকাশেরও সুযোগ বেশি। এটা অনুকরণ বা ছায়া কবিতার যেরকম জন্ম দিবে, সেরকমই সচেতন কবিকে নিজস্ব স্বর তৈরিতে সহায়তা করবে। 

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :   মানুষ সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : নিজের ব্যক্তিসার্থ পছন্দ অপছন্দের বাইরে গেলে মানুষ বলতেই নিঃসঙ্গ শব্দটি মনে আসে। প্রতিটি মানুষ কোন না কোনভাবে এই নিঃসঙ্গ আর অসহায় জীবন কাটাচ্ছে। প্রতিটি মানুষ ধুঁকছে, কিন্তু এ ছাড়া আমাদের গতি নেই।  

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনি কী ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : স্মৃতিকথা। দেশভাগ নিয়ে পড়তে আমার আগ্রহ ফুরোয় না। ব্যক্তিগত আখ্যানও ভালো লাগে খুব। আর কবিতার বই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  কবিতার জন্যে যা কিছু অপরিহার্য তার মধ্যে একটা বিষয় নারী। আমার এমন মনে হয়। আপনার মত কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : অপরিহার্য কি না বলা কঠিন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। জয়দেব বসু বলেছিলেন, প্রতিটি কবিতার জন্ম রাজনীতি থেকে। সেখানে চাওয়া পাওয়ার বৈপরীত্যে সুষম সমাজের চিন্তা আছে যেমন, তেমনি ব্যক্তিগত যাপনের বিপরীতে অসংখ্য শূন্যতায় কিংবা প্রাপ্তিতে কোন এক মানসীর অবস্থান তো থাকেই।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনার ব্যক্তিগত জীবন কি কবিতাকে প্রভাবিত করে?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : হ্যাঁ করে। আমার কবিতায় দৈন্যের কথা আছে, সেখানে কিছু তো আমার নিজেরই জীবন।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : তৃতীয়-চতুর্থশ্রেণির কবিলেখকরা সংগঠন করে। খুব সম্ভবত বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন এই জাতীয় কথা। কথাটা প্রায় সময় সত্যরূপে প্রতিভাত হয়। এই বিষয়ে আপনার মত কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : কবিদের গ্রেডিং করা কঠিন। বুদ্ধদেব বসু পারতেন কারণ উনার সম্পাদক হিসেবে কবিতা বিচারের সুযোগ ছিলো। কিন্তু সংগঠনের সঙ্গে যে কবিতার সংযোগ নেই তা আজকের দিনে আরো বেশি সত্য। কবিতাটা কবিকে লিখতে হয় একার যাপনে, একার ধ্যানে। এই সময়ে এসে এতো বেশি সংগঠন হচ্ছে যে, কবিতা না অন্য উদ্দেশ্যসিদ্ধি হচ্ছে বুঝা কঠিন

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : আপনার কাছে যে-সব কবিতাকে অকবিতা, অতিকবিতা, বা বাজে কবিতা বলে মনে হয় সেইসব কবিতায় কোন বিষয়টা কমন বলে আপনি মনে করেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : আরোপিত ছন্দের ভারে অনেক কবিতা হাস্যকর লাগে। আর অতিপ্রেম, চটুল প্রেমের চিরকুট, বার্তার মতো যেসব কবিতা হচ্ছে তা পড়া কঠিন। আর ইচ্ছাকৃতভাবে নারী শরীর, হয়ে ওঠা কবিতায় নারী আসতে পারে, সেখানে সৌন্দর্য আছে, কিন্তু সুড়সুড়ি জাগাতে যৌনতা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মনে হয় কবিতা লিখতে না পারার দুর্বলতা বেরিয়ে আসছে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  এখন কোন বইটা পড়ছেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম :  গৌরীশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় সম্পাদিত 'প্রসঙ্গ : শক্তি চট্টোপাধ্যায়' এ বইটি হাতে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  বাঙলা ভাষার বাইরে কার কবিতা আপনার ভালো লাগে? কেনো লাগে?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : বাঙলাভাষার বাইরে প্রিয় কবি বললে নামদেও ধসাল, কাহলিল জিবরান, অড্রি লর্ড। এর মধ্যে নামদেও ধসাল আমি বাঙলাতেই পড়েছি। নামদেও ধসাল মূলত একটা আন্দোলন। তার কবিতায় যে সাহস আর প্রতিবাদ আছে, তা নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিন্তু যাপন ধসালকে এগিয়ে রাখবে। কাহলিল জিবরান আত্মজিজ্ঞাসার কবি আমার কাছে, তার প্রফেট শুধু নয়, অন্য যেকোন গ্রন্থেও ভাবনার রসদ রয়েছে মনে হয়।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  ঘুরে ফিরে কার কবিতা পড়েন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : ঘুরেফিরে আমি বোধহয় ভাস্কর চক্রবর্তীই পড়ি। কখনো মনে হয় আমাকেই যেন লিখে গেছেন ভাস্কর।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য :  আপনি কি সবসময়ই লিখতে পারেন?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : না। এমনতো প্রায়ই হয়, কিছু একটা লিখতে চাই, পারি না, আর অস্থিরতা বাড়ে। একটা অদৃশ্য যন্ত্রণা কাজ করে।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : প্রেমের কবিতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : প্রেমের কবিতা লিখবার জন্য মাস্টার আর্টিস্ট দরকার। শুধুই চিরকুট না হয়ে যে প্রেম ছড়িয়ে পড়বে নিজের অস্তিত্বের দিকে, যে নিবেদন মানবীর অধিক আর কারো দিকেও যায়, সে ঈশ্বর হতে পারে কিংবা অনন্তের পথ।

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য : হুঁ। আপনার কথা ঠিক। যাইহোক মাঝপথেই আপনার সঙ্গে কথা শেষ করলাম। কারণ আকাশের অবস্থা ভালো নয়। পরবর্তীতে আবার কথা হবে, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে আজকের মতো অধিবেশন শেষ করছি। কবিতায় থাকুন, সুন্দর থাকুন। আপনাকে ধন্যবাদ।

দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম : আপনাকেও ধন্যবাদ।