থিও এনজেলোপুলুস

আমার কাজ ছিল এক বিধ্বস্ত অঞ্চল দেখা যা সারাদেশের ভাগ্য হতে যাচ্ছে থিও এনজেলোপুলুস


[থিও এনজেলোপুলুস হলেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তী পরিচালক। ১৯৩৫ সালের ২৭ এপ্রিল এক বনিক পরিবারে তিনি জন্মান। প্যারিসে পড়াশোনা করেন এবং সুযোগ থাকার পরও দেশে ফিরে আসেন। দেশের ইতিহাস আর ভূগোল আর শরণার্থীবেদনা তার প্রতিটা চলচ্চিত্রকে ছুঁয়ে গেছে। তিনি তেরোটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। দুই হাজার বারো সালের চব্বিশে জানুয়ারি, এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় তাঁর স্ট্রোক হয়। তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি তাঁর পরিকল্পিত শেষ ট্রিলজির শেষ চলচ্চিত্র ‘দ্যা ডেড জোন’ এর কাজ করছিলেন। এতে হার্ভেকাটেল, মিশেল পেইফার এবং শন পেনের অভিনয়ের কথা ছিলো। এই বিষয়ে আরো বিশদে জানা যাবে ‘সমরেখ’ পত্রিকায় বর্তমান বাংলা অনুবাদকের ‘অতীত কখনো অতীত থাকে না’ শিরোনামের থিও এনজেলোপুলুসের সাক্ষাতকারের আরেকটা অনুবাদে।ফ্লোরিয়ান হফের নেয়া এই সাক্ষাৎকার ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ড্যান ফাইনারু। বাঙলাদেশের তরুণ কবি ও কথাসাহিত্যক সৈকত দে অনুবাদকের সম্পাদিত ‘থিও এঞ্জেলোপুলুস ইন্টারভিউজ’ থেকে সাক্ষাৎকারটা বাংলায় অনুবাদ করেছেন।]

 

আপনার কাজের ক্ষেত্র আর উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলা যাক।

একটি সত্যি ঘটনা আমাকে আগ্রহী করে তোলে। আমার দেশের পত্রপত্রিকায় স্ত্রীরা স্বামীদের মেরে ফেলছে- এই ধরণের অনেক খবর আমার চোখে পড়ছিলো। এবং এপিরাসে, দরিদ্রতম আর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে এটা ঘন ঘন ঘটছিলো। আমি সাম্প্রতিক খুনের ঘটনা ঘটা একটি গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই এবং সাংবাদিকের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা তদন্ত করবো বলে ঠিক করি।আমি অধিবাসীদের সাথে কথা বলেছিলাম, খুনীর পরিবারের সাথে কথা বলেছিলাম, কথা বলেছিলাম বাচ্চাদের সাথে আর বিবাদীর আইনজীবীর সাথে, যিনি কিনা বিচারের সকল খুঁটিনাটি আমাদের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। একটা সাধারণ ছোটো এপিরিয়ান গ্রামজীবনকে তুলে ধরার জন্য এটা ছিলো আমার সামান্য একটা ছুতো।যেহেতু, আমি অপরাধে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না, এমনকি সাক্ষী হিসেবেও ছিলামনা- কেবল বড়ো শহর থেকে তথ্যানুসন্ধানী একজন দর্শক ছিলাম মাত্র।সেই কারণে ভেবেছি এই পুরো ব্যাপারটাকে কাল্পনিক ঘটনায় রূপান্তরিত করা অসততা হবে।ভিসকন্তির এসেসিওনির মতো, যে সিনেমাটা এইরকমই একটা গল্প নিয়ে কাজ করেছে।রিকন্সট্রাকশন সিনেমাটা দুটো আলাদা স্তরে কাজটা করতে চেয়েছে। প্রথম স্তরে আমার সংগৃহীত আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটার সম্ভাব্য নিখুঁত একটা সংস্করণ নির্মাণ আর দ্বিতীয় স্তরে অপরাধীদের নিয়ে পুলিশের ঘটনার আরেকটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। সিনেমাটা তাহলে, কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্করণ এবং আমার সংস্করণ যা কিনা প্রশ্নোত্তর দিয়ে নির্মিত তার মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে কাজ করেছে। গল্পটা অবিরত এই দুই উপাদানে যৌক্তিক বিবৃতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটা স্তরে ঘোরাফেরা করে।আপনাকে যদি একটি উদাহরণ দিই, চলচ্চিত্রটি এমন একটা দৃশ্য দিয়ে শেষ হয় যা সবার শুরুতে থাকা দরকার ছিলো।খুনের ঘটনাটা। কিন্তু সত্যি কি ঘটেছিলো তা এখনো একটা রহস্য কেননা ক্যামেরা সবসময়ই বাইরে অবস্থান করছে, কখনোই মূল কাজটা দেখেনি,কেবল শব্দ শুনেছে।

এসবের কারণে মনে হচ্ছে আপনি ঘটনাটার আইনি নানারকম দিক নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আগ্রহী নন।

অবশ্যই না। আমার মূল কাজ ছিলো একটা বিধ্বস্ত অঞ্চল দেখা যা সমগ্রদেশের ভাগ্য হতে যাচ্ছে।

তার মানে কি আপনি এই এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আবিষ্কারের চেষ্টাকরতে চান অথবা সামাজিক কাঠামো?

না। অবশ্যই তা নয়। শুরুতে বলার মতো কোনো সামাজিক বা আর্থিক কাঠামো ছিলো না। একটা সাধারণ সত্য হলো, জার্মানীতে চলে যাওয়া মানুষদের পাঠানো টাকাই ছিলো এখানকার একমাত্র টাকা। আমার কাছে এই ছবিটা একটা ব্যাক্তিগত শোকগাথা এমন একটা ভূমির জন্য যা ক্রমাগত শেষ হয়ে যাচ্ছে।, অধিবাসী কর্তৃক পরিত্যক্ত হচ্ছে। এসব শুরু হয়েছে ১৯৬২ সালে যখন পশ্চিম জার্মানী গ্রীক অধিবাসীদের ভর্তুকিসহ জার্মানীতে কাজ আর থাকার অনুমতি দিলো। গ্রীসের বামপন্থী, ডানপন্থী পত্রিকায় তখন এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিলো। কেউ দাবি করেছিলো দেশত্যাগ বিপর্যয় ছাড়া কিছু নয়, অন্যরা বিশ্বাস করতো বরং এটা অনেক ভালো, যদি অনেক শ্রমিক চলে যায় তবে কোনো সংগঠিত শ্রমিক ঐক্যের বিপদ থাকবে না এবং এই কারণে ক্ষমতাসীনরা কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়বে না।কর্ণেলরা চায়, এইসব দিনে, সকল বিরোধীরা দেশত্যাগ করুক। আমার সকল বন্ধু,উদাহরণ হিসেবে বলছি, বাইরে থাকে- নয়তো জেলে। তাদের জন্যই আমি রিকন্সট্রাকশন নির্মাণ করেছি। যারা দেশ থেকে চলে গেছে এবং যারা চলে যেতে তৈরি। এবং আরো একটা ব্যাপার আছে। এপিরাসের খুব উজ্বল আর পুরনো ইতিহাস,ঐতিহ্য আছে, এসবের শিকড় কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। অসহায়ভাবে দেশত্যাগরত মানুষ চলে যেতে দেখা খুবই বেদনার,কেননা তারা চলে গেলে একটা গোটা সভ্যতা অস্তিত্বের হুমকির মধ্যে পড়বে।

দেশত্যাগের এই তরঙ্গের আগে তারা কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করতো?

সত্যি এটা সহজ ছিলো না তবে কোনো না কোনোভাবে তারা ঠিকই চালিয়ে নিতো।আসলে, গ্রীকরা হলো প্রবাসীদের জাতি। শতাব্দীর বিবর্তনে তাদের অর্ধেকই এখন আমেরিকার বাসিন্দা।ওখানে দেড় মিলিয়ন গ্রীক আছে। জার্মানিতে এর ভেতরেই তিনলাখ গ্রীকের বাস। তারা সব জায়গায় আছে।নিজের দেশের অর্থনীতিতে অবদান না রেখে তারা অন্যের জন্য কাজ করছে। আমেরিকানরা এখানে শিল্প কারখানা নির্মাণ করতে আসতে চাইছে তবে অবশ্যই লাভজনক হলেই কেবলমাত্র তারা এটা করবে।গ্রীস,অনেকের কাছে ইউনিয়নের একান্নতম রাষ্ট্র। পাঁচ মাস আগে, দুইজন আমেরিকান এক ষোল বছরের মেয়েকে রেপ করে। তারা ছাড়া পেয়ে যায়।যেন তারা কখনো এখানে আসেইনি।যেন কোনোদিন তাদের দেশের বাইরে যায়নি।

আপনি বলতে চাইছেন যে গ্রীক একটা তৃতীয় বিশ্বের দেশ?

আসলে ব্যাপারটা এরকমই। তৃতীয় বিশ্ব কেবল আফ্রিকা আর ল্যাটিন আমেরিকায় থেমে নেই।আপনি যদি আমার কাছে জানতে চান গ্রীস আর তুরস্কও এর অন্তর্ভুক্ত।আমি পশ্চিমকে বিলং করি না, আমরা পূর্ব ইউরোপের অংশ নই- আমরা আধুনিক সভ্যতার একেবারে সন্ধিস্থলে আছি। যা হোক, ঘটনাচক্রে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের স্ট্র্যাটেজিকভাবে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আর সেই কারণের আমেরিকান রাজনীতির কাছেও লোভনীয়। এটা না ঘটলে তাদের আমাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুরোই আলাদা হতো।

 কন্সট্রাকশন কিভাবে নির্মিত হয়?

গ্রীসের অন্যান্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবির মতোই। শুরুতে প্রযোজক সত্যিকারঅর্থে প্রযোজক থাকেন না, তিনি মূলত চলচ্চিত্রের টেকনিশিয়ান। তিনি কাজ করেন বাণিজ্যিক ছবির জন্য এবং সামাজিকভাবে সচেতন একজন মানুষও অবশ্য তিনি। তিনি কিছুদিনের জন্য পেশাদার ইউনিয়নে কাজ করেন কিন্তু বেশিদিনের জন্য নয়।তিনিঅন্য কিছু একটা করতে চাচ্ছিলেন। আমরা যখন রিকন্সট্রাকশন শুরু করবো বলে ভাবলাম আমাদের হাতে একজন কাজিন আর তার বন্ধুদের দেয়া অল্প কিছু মূলধন ছিলো। আমরা যখন শুটিং শুরু করি আমাদের বাজেট ছিলো পঁচিশ হাজার জার্মান মার্ক কিন্তু শেষ করার পর দেখি ছেচল্লিশ হাজার মার্ক খরচ হয়ে গেছে।

পরিচালক হিসেবে আগের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল আপনার?

রেডিও, টেলিভিশন( যদিও গ্রীসে এখনো টেলিভিশন নেই) আর বিজ্ঞাপন আমাদের ভেতর যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে সেইটা নিয়ে আমি শর্ট ফিল্ম বানিয়েছিলাম (দ্য ব্রডকাস্ট- অনুবাদক) তা ক্রিটিকদের বিপুল প্রশংসা অর্জন করে।রিকন্সট্রাকসনে ফেরা যাক। জনা পাঁচেক কর্মী নিয়ে আমরা কাজটা শুরু করি।প্রযোজক, ক্যামেরাম্যান, একজন সহকারী ক্যামেরাম্যান, একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার যাকে কিনা আবার চিত্রনাট্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে হয়েছিলো আর আমি। মাত্র দুজন অভিনেতা ছিলেন, তারা কেউ পেশাদার নন। একজন বারে কাজ করতেন আরেকজন ছিলেন বেকার। তিনি এক সময় পলিটিক্যাল কারণে জেলে যান, বছরদুই পর বেরিয়ে আর কাজ খুঁজে পাননি। আমরাই প্রথম তাকে সবেতন কাজের প্রস্তাব দিই। অন্য যারা ছিলো তারা হলো শুটিং স্পটে থাকা চাষিরা। এমনকি যে ভদ্রমহিলা প্রধান চরিত্রে ছিলেন তিনিও ছিলেন একজন এমেচার, বাস্তবজীবনে তিনি কাজ করতেন দর্জিদোকানে। আমি তাঁকে পছন্দ করি কেননা তিনি চরিত্রটাতে মানিয়ে যাচ্ছিলেন, শারিরীকভাবে নয় মানসিকভাবে। তিনি ছিলেন অসামান্য, যদিও লিখতে বা পড়তে পারতেন না।

আপনি কি সংলাপ লিখে অভিনেতাদের শিখে নেয়ার উপর জোর দেন না ইম্প্রোভাইজেশনের উপর নির্ভর করেন?

আগেই সব লিখে রাখা হয়েছিলো। বেশিরভাগটাই শুটিঙের আগেই আর তারপর শুটিংচলাকালে বাকিটা লেখা হয়েছে। ওখানে স্ক্রিপ্টের বাইরে একটাও ইম্প্রোভাইজড বাক্য নেই।

এই ছোটো বাজেটে আপনি কিভাবে সব ম্যানেজ করলেন?

ওয়েল, এইরকমই আর কি ! আমাদের কাছে নয় হাজার ফুটের মতো কাঁচামাল ছিলো এবং আমাদের একজন শব্দযন্ত্রী ছিলেন যিনি দাবি করেছিলেন সহকারী ছাড়াই তিনি ম্যানেজ করতে পারবেন। একবার তিনি যন্ত্রপাতি সেট করে বসলে তাকে মাইক্রোফোনের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হতো এবং টেপ রেকর্ডারটিকে বিশ্বাস করতে হতো। আমরা বাইশ দিন শুটিং করেছিলাম আবহাওয়ার কথা মাথায় না রেখে।সত্যি বলতে কি, বেশিরভাগ সময় বৃষ্টি হয়েছিলো ফলে আমাদের পছন্দ করার, বেছে নেয়ার খুব একটা স্বাধীনতা ছিলোনা। চাষীরা আমাদের তাদের সাথে থাকার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলো এবং কোনোভাবে আমরা কিছু খাবারও সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। আলো, তেমন একটা ছিলো না।একটা হ্যান্ডহেল্ড লাইট, একটা পাঁচশো কিলোওয়াটের ট্রান্সফর্মার, দুটো ব্যাটারি এবং আমাদের কাজের জন্য ভাড়া করা একটা ছোটো, বহনযোগ্য পাওয়ার জেনারেটর। আমাদের একটা ছোটো ট্রাকও ছিলো যেটা আমরা এখানে সেখানে যাওয়ার জন্য ব্যাবহার করতাম আর ঘুমাতামও মাঝে মাঝে ওটার ভেতরে।

গ্রিক চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা কি এখন?

গ্রিসে নির্মিত সবচেয়ে স্বল্প বাজেটের ছবি হচ্ছে আমারটা। কিন্তু সময় তেমন ছিলো না। একটা সময় ছিল যখন অল্প বাজেটে ছবি বানানোর জন্য কোঅপারেটিভ ছিলো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে,এই ধরণের ছবিতে যারা যুক্ত ত্থাকেন তাঁদেরই টাকা খরচ করতে হয়। আমার ছবির মত ছবি বানানোর ক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুদাননেই কিংবা কোনো প্রযোজক আগ্রহী ছিলো না।আর তাছাড়া এটা খুব ঝুঁকির ব্যাবসাও বটে। যিনি এতে টাকা খাটিয়ে ফেরত পাবেন না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যা হয়, তিনি তো পরের ছবিতে আর বিনিয়োগ করবেন না। তিনটি বা চারটি বড়োকোম্পানি গ্রীক সিনেমা আর পরিবেশন ব্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে যারা এই ধরণের ছবিতে আগ্রহী নয়।

এই কোম্পানীগুলো বাৎসরিক কি পরিমাণ ছবি বানায়?

এটা নির্ভর করে – প্রতিটি কোম্পানী পনেরো থেকে ত্রিশটি ছবি নির্মাণের সাথে যুক্ত। এসব খুবই খরচান্ত প্রোডাকশন।সবগুলোই এই সময়ের গ্রীক তারকাদের তুলে ধরে।

গ্রিসে এখন কতোগুলো সিনেমাহল আছে?

অনেক, কারণ এখনো আমাদের টেলিভিশন নেই। কেবল এথেন্সেই দুইশো সিনেমা হল আছে আর সারা দেশে হাজার দুইয়ের কাছাকাছি।

গ্রিসে রিকন্সট্রাকশন কিভাবে গৃহীত হয়েছিলো?

প্রেসস্ক্রিনিং ছিলো দুর্দান্ত সফল এবং সকলে ধরে নিয়েছিলো যে এটা বক্সঅফিস হিট হতে যাচ্ছে, কিন্তু সমস্যা হলো এটা দেখাবার জন্য আমি একটাও হল পাইনি। প্রদর্শকরা এটা বয়কট করার ব্যাপারে মনস্থির করেছিলো।

এই প্রদর্শকরা কারা?

সব ধরণের লোক, পরিবেশকদের সাথে সমস্বার্থের ঐক্যে যুক্ত। যেসব লোক তাদের সারা বছর ছবি দিয়ে যেতে পারে তাদের জন্য তারা তাদের স্ক্রিনগুলো উন্মুক্ত রাখে।

আপনি তাহলে বলছেন যে সিনেমা হলের গোটা ব্যাবস্থাই বড়ো প্রযোজকরা নিয়ন্ত্রণ করেছে, যারা কেবল এসব প্রযোজকের সিনেমাই দেখায়?

পরিবেশক পেতে গেলে, আমার মতো লোকেদের সিনেমাটা তাদের হাতে দিতে হয় এবং তারা যখন দেখে এই ছবিটা তাদের বানানো ছবির সাথে প্রতিযোগিতা করবে তারা তখন এটার কথা ভুলে তাকে তুলে রাখে।

সব মিলে গ্রীসে কি পরিমাণ ছবি নির্মিত হয়েছে?

সব মিলিয়ে, আনুমানিক একশো বিশটা ছবি হয় আমাদের এখানে। কিন্তু বেশিরভাগই এথেন্সে মুক্তি পায় না, তাদের ঠিকঠাক আয়োজনের প্রথম প্রদর্শনী জোটে না,সাধারণভাবেই মুক্তি পায় এগুলো। আপনাকে মনে রাখতে হবে গ্রীসে এখনো অনেক নিরক্ষর ব্যাক্তি আছেন যারা সাব টাইটেল পড়তে পারেন না। এছাড়া,গ্রীসে পরিবারের সবাই মিলে ছবি দেখতে যায় ফলে যে ছবিটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত তার ভাগ্য প্রথমেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলে, একমাত্র উপায় হচ্ছে পারিবারিক সিনেমা বানানো যেখানে পরিবারের বড়োরা তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সিনেমাহলে যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত রিকন্সট্রাকশনের ক্ষেত্রে কি ঘটলো?

এখন অবধি সাড়ে ছয় লাখের মতো দর্শক এই ছবিটা দেখেছে। আপনাকে অবস্থাটা বোঝানোর জন্য বলছি, আমাদের প্রধান তারকাখচিত ছবিগুলো দেড়মিলিয়ন দর্শক সহজেই পেয়ে যায়।

যা হোক, আপনার অভিনয় ছিলো খুব অসামান্য। আপনি কি বিশ্বাস করেন এটা আরো ভালো করা যেতো?

আসুন একটা সাধারণ তথ্য ভাবি। আমি আমার ছবি মাত্র একটা হলে দেখিয়েছি,তাও কেন্দ্রীয় কোনো হলে নয়, যখন অন্যরা পনেরোটা হলে মুক্তি দিচ্ছে। যদি এটা ফ্লপও হয় তবু কয়েকশো লোক এটা দেখে ফেলে যারা সিনেমাহলগুলোর কাছাকাছি থাকে। মনে হতে পারে বেশি লোক নয় তবু এটাও ধর্তব্যের ভেতর পড়ে।

তার মানে আপনি বলতে চান যে প্রদর্শকরা এটা ধরে নেয় যে ছবিটা তারা প্রযোজনা করেনি তা লাভজনক হতে পারে?

আমি গ্রীসের সবচেয়ে বড়ো প্রদর্শককে ছবিটা দেখিয়েছিলাম। দশ মিনিট পর,তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘আমি ইন্টারেস্টেড নই’। তিনি এমনকি শেষটাও দেখেননি। কিন্তু এটাও খুবই সম্ভব যে আমি আমার পরবর্তী ছবির জন্যও প্রযোজক খুঁজে পাবো এক শর্তে, তিনি বিশ্বাস করবেন ছবিটা বাইরে বিক্রি হবে।

সেন্সরশিপ সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?

একবার ছবি নির্মিত হয়ে গেলে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনা ছবিটা সেন্সরের বাধা অতিক্রম করতে পারবে কিনা। সত্যি কথা এই, তারা নিষিদ্ধ করতে পারে,এমন ভয়ই আমরা পাই।এই কারণেই আমার ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিলো ক্রিটিকদের জন্য।

মানে সেন্সরের লোকেরা এটা দেখার আগেই?

ঠিক তাই। পরদিন, তারা সকলেই লিখেছে যে তারা একটা মাস্টারপিস দেখেছে।এই উৎসাহের কারণে সেন্সর বোর্ড বাধ্য হয়েছে ছবিটাকে ছেড়ে দিতে। তারা গণপ্রতিবাদের ঝুঁকি নিতে চায়নি ছবিটা নিষিদ্ধ করে।

তারা কি এটা ছুঁয়ে দেখেছে?

না, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে আমাদের বেশ তর্ক হয়েছিলো, তারা চেয়েছিলো কাটাকুটি করতে।