থিও এনজেলোপুলুস

অতীত কখনো অতীত থাকে না থিও এনজেলোপুলুস

[থিও এনজেলোপুলুস হলেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তী পরিচালক। ১৯৩৫ সালের ২৭ এপ্রিল এক বনিক পরিবারে তিনি জন্মান। প্যারিসে পড়াশোনা করেন এবং সুযোগ থাকার পরও দেশে ফিরে আসেন। দেশের ইতিহাস আর ভূগোল আর শরণার্থীবেদনা তার প্রতিটা চলচ্চিত্রকে ছুঁয়ে গেছে। তিনি তেরোটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। দুই হাজার বারো সালের চব্বিশে জানুয়ারি, এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় তাঁর স্ট্রোক হয়। তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি তাঁর পরিকল্পিত শেষ ট্রিলজির শেষ চলচ্চিত্র ‘দ্যা ডেড জোন’ এর কাজ করছিলেন। এতে হার্ভেকাটেল, মিশেল পেইফার এবং শন পেনের অভিনয়ের কথা ছিলো। বুলগেরিয়ার চলচ্চিত্র- তাত্ত্বিক ওলগা মারকোভাকে দু হাজার সালের মাঝামাঝি দেয়া সাক্ষাতকার। এটি অনুবাদ করেছেন সৈকত দে।]

 

প্র। আপনার কাজের পদ্ধতিটি কি এবং আপনার বছর চল্লিশের কেরিয়ারের আবর্তনে এই পদ্ধতিটি কি পাল্টেছে?

উ। শুরুতে তা আলাদা ছিলো। প্রথম ফিচার ‘রিকন্সট্রাকশন’ থেকে তা আমি অনুভব করতে শুরু করি, সবকিছু আগে থেকে লিখে রাখার পাশাপাশি।মাত্র বছর দুই পর আমি ঐতিহাসিক – রাজনৈতিক ত্রয়ীর চিত্রগ্রহণ শুরু করি বিনা চিত্রনাট্যে অল্প কিছু নোট সম্বল করে। বাদবাকী,যা আসলে মুলত সব, ঘটেছে দৃশ্যগ্রহণের সময়। কাজের এই ধরণ আমার কাছে অধিকতর আবেদনময়। আমি অনুভব করি যে আমার সৃজনশীল কাজ আমার বোধবুদ্ধির সমান তালে চলতে থাকে দৃশ্যগ্রহণ বা বিনাপ্রস্তুতির সময়। অবশ্যই, ঘটনাটার মূল্যায়ন ঘটে কেবলমাত্র পরে, যখন আমি কাজ করি, আমি নিজেকে মুক্ত অনুভব করি,আমাকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয়না। আমি তাই করি যা আমার দরকার,আমার আত্মা যা চায়। আমার কোন সাহায্যের দরকার হয় না ।আমি আমার প্রিয়তম, সন্নিকটবর্তী বন্ধুদের সাথে যা শেয়ার করা দরকার তা কেবলমাত্র পর্দায় শেয়ার করে নিই ।

প্র। আপনার ইতিহাস নিয়ে কাজ করবার একটা অনন্য ধরণ আছে

উ। হ্যাঁ, এতা বাস্তবিকভাবে পাঠযোগ্য এবং তা অর্থবোধকভাবেই। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, প্রতিটি সমকালীন মুহূর্তকে যৌক্তিক করে তোলা।

 

প্র। রাজনৈতিক যে চলচ্চিত্রগুলো আপনি তৈরি করেন তা কি আপনাকে তৃপ্ত করে না এসব একান্তই ভারাক্রান্ত করে তোলে?

উ। দুটোই। আমি পৃথিবী থেক পাওয়া যা কিছু তারই সংবেদনশীল দূত হওয়ার চেষ্টা করি। এমনকি আমার ঐতিহাসিক কাহিনীনির্ভর ছবিগুলোও বর্তমান সময়ে ঘটনার প্রেক্ষাপটের ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। কেন আমি প্রায়ই এখানে স্বৈরতন্ত্রের কথা উল্লেখ করি? এই স্বৈরতন্ত্রের ধরণ আর শিকড়কে আমি বিশ্লেষণ করতে চাই। এ আমার একান্ত বিশ্বাস যে কোনো লেখক/শিল্পী যদি এই সময়টাকে আন্তরিকভাবে বোঝার চেষ্টা করেন, তবে অতীতের উজ্জ্বল উদ্ধার অপরিহার্য এবং একটা দৃশ্যমান ঘটনা থেকে আরেকতা দৃশ্যমান ঘটনার কারণ অনুসন্ধান সম্ভব।

প্র। এই কারণের কি আপনার বেশিরভাগ চরিত্র অতীতচারী?

উ। অসংখ্য লোকের কোনো অতীত নেই।আমি যাদের আছে তাদের নিয়েই ব্যাক্তিগতভাবে আগ্রহী। এছাড়াও অতীত কখনই অতীত হয় না। এটা বর্তমান আর ভবিষ্যতে থেকে যায়। যখন আমি ছবি বানাই,আমি কিছু একটার ভিত্তি তৈরি করতে চেষ্টা করি, কিছু ভাংতে নয়।ধ্বংস ধ্বংস আনে। আমার আশেপাশে ঘটা ঘটনার সাপেক্ষে আমি নিজেকে ইনোসেন্ট ভাবতে পারিনা। নাগরিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য হলো একজন শিল্পীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারিত্র্য।

প্র। আপনার অন্যান্য সহকর্মীরা প্যারিসে পড়াশোনা করেছেন এবং দেশের বাইরে কাজ করেছেন, সে জায়গায় আপনি জন্মভূমিতেই থেকে গিয়ে জাতীয় ইতিহাস আর সংস্কৃতিতে প্রেরণা খুঁজে নিলেন।

উ।বিভিন্ন বিষয়ের অদ্ভুত কার্যকারণে প্যারিসেই আমার সিনেমা নিয়ে প্রথম যুক্ত হওয়া।তারপর সুযোগ পেলাম সেখানে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমি জন্মভূমিতেই ফিরলাম এক গহন বিশ্বাস নিয়ে যে শিকড়বিহীন শিল্পীর ‘সংলাপ’ দুঃসাধ্য। আম অনেক ইউরোপীয় পরিচালকের মার্কিন যাত্রার কথা স্মরণ করাতে চাই( যেমন আন্তনিওনি) যারা ঠিকঠাক সাফল্যের দেখা পাননি।মার্কিনি প্রযোজকের অজস্র প্রস্তাব সত্বেও, ফেলিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ইতালিতে থেকে যান। আমার নিজস্ব প্রবণতা আমাকে সবসময় প্ররোচিত করেছে থেকে যেতে বহু লোভাতুর প্রস্তাবের পরও। আমি বিশ্বাস করি যা ছোট্ট দেশে আমি জন্মেছি তার ইতিহাসের পুনর্নিমাণই আমার ব্রত।আমার নিজের পুরষ্কারগুলোর পাশাপাশি সহকর্মীদের পুরষ্কার নিশ্চিত করেছে যা সত্যিকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রকার তারাই যাদের শিকড় গভীরভাবে মাতৃভূমিতে প্রোথিত।

প্র।সম্প্রতি আপনি সোফিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব চলচ্চিত্র রেত্রোস্পেক্টিভে ‘দ্য বীকিপার’ প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

উ।হয়তো তার কারণ আমরা মাত্র দু টুকরো ভূমিতে বিভক্ত।এছাড়াও আমি প্রতিবেশী দেশ এবং ছোটখাটো জাতিদের সম্পর্কে অনুভূতিপ্রবণ।তাদের পরস্পরের পাশে থাকা উচিত।

প্র। এটা সর্বজনসম্মত যে, আপনার ছবি সাধারণ দর্শকের জন্য ততোটা সহজ নয়। যা হোক, এবারের বিশ্ব চলচ্চিত্র রেত্রোস্পেক্টিভে ‘দি বিকিপার’ চলার সময় বিপুল দর্শক সমাগম হয়েছিলো। দর্শকের বিচার পদ্ধতির ধরণকি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য?

উ।আমি সবসময়ই দর্শকদের প্রতি সংবেদনশীল। সোফিয়ায় চার হাজার দর্শক আমার ছবি ‘দি বিকিপার’ দেখেছে এটা আমার জন্য আনন্দের। আমি কখনো নিজেকে গজদন্তমিনারবাসী করতে চাইনি। জাতীয় দূরদর্শনে এই চলচ্চিত্রটি দুইবার প্রদর্শিত হয়েছে,এটা সারা দুনিয়ার সিনেমাথেকগুলোর তালিকাভুক্ত হয়েছে।তবু,আমি এই সাফল্যকে সুনিশ্চিত ভাবতে চাইনা। দর্শকের আগ্রহ দিয়ে সবসময় চলচ্চিত্রের ভালোমন্দ বিচার করা যায়। ধ্রুপদী উদাহরণ হলো,’ ব্যাটলশিপ পোটেমকিন’ দর্শকদের কাছে প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ একটা চলচ্চিত্র।কিন্তু যখন একটা শিল্পকাজের সত্যতর শিল্পমূল্য থাকে তা ভবিষ্যতের আজ্ঞা- পত্র। সত্যিকারের সিগনিফিক্যান্ট কাজগুলো আগামীর জন্য।আমি জানি না আমার ছবিগুলো কালের কষ্টিপাথরে উতরে যাবে কিনা কিন্তু এমনকি আমার ছেলেমেয়ের নামের ব্যাপারেও ভাবি,গেলে ভালো হতো। যা হোক, দর্শকের কাছে সুযোগ রইলো বড় পর্দায় শিল্প পুনরাবিষ্কারের, বিশেষ করে তরুণদের। আমি আন্তরিকভাবে অনুতাপে ভুগি এই সত্যে যে, হলে গিয়ে ছবি দেখার সময় শেষ, সিনেমা হলে যারা যায়- এটা আমার প্রজন্মে একটা রিচুয়ালের মত ছিলো। আমি আশা করি, চলচ্চিত্রকারদের নতুন প্রজন্ম এই অবস্থা পাল্টাবার চেষ্টা করবে। আমার প্রজন্মের সহকর্মীরা এর মধ্যেই তা করেছেন।

প্র। আপনার জীবনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস কি?

উ।এটা হলো আমি যা করি এবং যা পর্দায় উপস্থিত হয়: এটাই আমি। এটাই হলো একমাত্র আদি ও আসল ব্যাপার।খ্যাতি নয়, পুরষ্কার নয়,সম্মান নয়,আমি অন্যের তুষ্টির জন্য সিনেমা বানাই না। আমার মতো মানুষের জন্য সিনেমা বানানো যাপনের একটা পদ্ধতি।যখন আমি আমার জীবন সম্পর্কে কথা বলবো,আমাকে চলচ্চিত্রের ভেতর লীন থেকেই তা বলতে হবে।এর মানে হলো, চলচ্চিত্র নির্মাণ আমার আরেকটা সমান্তরাল জীবন।আমি ফকনার থেকে উদ্ধৃত করতে চাই- ‘ দুনিয়াটা তৈরি হয়েছিলো উপন্যাস হয়ে যেতে’। আমার ক্ষেত্রে, আমি বিশ্বাস করতে ভালোবাসি যে, পৃথিবী তৈরি হয়েছিলো সিনেমা হয়ে যেতে। আমার কাজগুলো হচ্ছে এক ধরণের টেস্টামেন্ট বা ইচ্ছাপত্র আমার আটত্রিশ বছরের জীবনের প্রতি।

প্র। আপনি কি আপনার শৈলী পাল্টাবেন?

উ।লং ট্র্যাকিং শট ব্যাপারটা, আমার বা মিকলোস জাঙ্কসোর না। ১৯০৪ সালে ইতালির গিওভানি পাস্ত্রোন এই শৈলী আনেন। পরে এটা মুরনাউ, ফেলিনি, অরসন ওয়েলস ব্যবহার করেন। এটা ঠিক যে, কোনো কোনো সময় আমি দীর্ঘ ট্র্যাকিং দৃশ্যকে চূড়ান্তে আনি। একজন মানুষ যখন লং ট্র্যাকিং শটকে শেষ সীমা বা চূড়ান্তে আনেন তার মানে দাঁড়ায় তিনি শৈলীর এই ধরণটাকে পরীক্ষা করতে চাইছেন। সাহিত্যে, দীর্ঘ ও ছোটো শব্দগুচ্ছের থাকার সমান অধিকার থাকে। আমি দীর্ঘ দৃশ্যের ভালোবাসায় আটকে পড়া একজন মানুষ... আমার কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্দিষ্ট কোনো কাজকে দর্শক কিভাবে বিবেচনায় নিচ্ছেন।প্রতিটি কাজের নিজস্ব উপাদান আছে পরিচিত হবার মতন। এটা সম্ভব নয় যে অজস্র স্তরে বিন্যস্ত একটি ছবি সমতলীয় কাজের সাথে মিশে যাবে। আমি কখনোই আমার কাজগুলো প্রযোজকের নির্দেশে বদলাই না।

 

প্র। আপনি কিভাবে আপনার কাজের পর্বভাগ করবেন?

উ। আমার বিবেচনায় এতা তিনভাগে বিভক্ত। প্রথমটি, পশ্চিম ইউরোপের রাজনৈতিক টালমাটালের সাথে যুক্ত, এই পর্বটা হলো আদর্শিক আর রাজনৈতিক ছবির পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে ইতিহাস আর রাজনীতিকে প্রেক্ষাপট হিসেবে রাখা হয়েছে চরিত্রের ব্যাক্তিত্ব প্রকাশের জন্য। তৃতীয় পর্বে, আমি জোর দিচ্ছি মানব নিয়তির উপর। আমি নিজেও এমন,নিদেনপক্ষে গ্রীসে বা সারা দুনিয়ায় ঘটে চলা ঘটনা সম্পর্কে আমি খুব সংবেদনসম্পন্ন আগ্রহী বলে নিজেকে ভাবি।

প্র।আপ্নার ভাবনার নিশ্চিতির কাব্যিক নির্যাস আমরা পাচ্ছি ‘দ্য উইপিং মেডো’ ( আপনার নতুন ত্রয়ীর প্রথম ছবি) যার পটভূমি বিশাল, সেই অক্টোবর বিপ্লব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।

উ।আমি আশা করছি আমার তৃতীয় ত্রয়ীটি বিগত শতাব্দীর কাব্যিক সংক্ষিপ্ত তালিকা, একটা তালিকা যেটা ভালোবাসার গল্পের ভেতর দিয়ে সময়কে চ্যালেঞ্জ জানায়, তীব্র বেদনাদায়ক দৃষ্টি দেয় অতীতে এবং আমরা যে শতাব্দীতে আছি তার সাথে সংযোগ ঘটায়। এবং আমি চাই এই তিনটি চলচচ্চিত্র হবে স্বয়ংশাসিত, স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমার কাছে, ‘দ্য উইপিং মেডো’ হলো মানুষের অদৃষ্ট সম্পর্কে একটা নিজস্ব শোকগাথা। এর মূল আছে ইডিপাস মিথে। ‘রিকন্সট্রাকশন’ ছবির পর প্রথমবারের মতো আমি কোনো নারীকে কেন্দ্রচরিত্রে রেখেছি এবং দীর্ণ মেয়েটির চরিত্র সম্প্রসারণের চারটি স্তর আছে: যে ‘আবিষ্কার’ করে নির্বাসন আর মৃত্যু,কুমারী অবস্থার প্রেম,মাতৃত্ব এবং নিঃসঙ্গতা। দ্বিতীয় ছবিটার শিরোনাম ‘দ্য থার্ড উইং’ ( দ্য ডাস্ট অফ টাইম), এটা উজবেকিস্তানে শুরু হয়, সাইবেরিয়া ছুঁয়ে যায় এবং আমেরিকায় শেষ হয়। আমি সাতটি দেশ এবং তিনটি মহাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছি- আমি সন্ত্রাস, আতংকের নামে আতংক,নির্যাতনের নামে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা পেয়েছি! তৃতীয় ছবিটার শিরোনাম ‘দ্য রিটার্ণ’ (অথবা ‘ডেড জোন’) পটভূমি হলো গ্রীক আর তুর্কি সাইপ্রাসের নিরপেক্ষ ভূমি। হার্ভে কাটেল, মিশেলে পেইফার আর শন পেন এতে অভিনয় করবেন।আমি ইতিমধ্যেই আমার সকল চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রের ব্যবহার না করা দৃশ্যগুলোর একটা সংকলন ডিভিডি আকারে প্রস্তুত করেছি। গৃহীত দৃশ্যগুলো ফেলে দেয়া খুবই বেদনাদায়ক।আমি ‘ইউলিসিস গেজ’ ছবিটার প্রায় এক ঘণ্টা ফেলে দিয়েছি, দানিউব নদীর পাশ দিয়ে জিপসীদলের সাথে এক শেষহীন যাত্রা বিবরণ ছিলো ওতে।আমি নির্মাণের শেষ স্তরে এসে বস্তুপুঞ্জের ভার থেকে মুক্ত হতে চাই। আমার কাছে ফৃশ্য সংস্করণ নির্মাণ, শ্রাব্য সংস্করণের চেয়ে সহজতর।

প্র। এতো চমৎকার কবিতাগন্ধী একটা আড্ডার পর, আমার কেবল জানার আছে একটা বিষয় – আপনি কি পেসিমিস্ট না সংশয়ী?

উ।আমি আশাবাদী বা হতাশায় ভোগা টাইপ লোক কোনোটাই নই। আশাবাদী হওয়ার মানেই হলো,বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণার অভাব। মানুষ দুনিয়ার খুব সিগ্নিফিক্যান্ট পরিবর্তনে মধ্যবর্তিতা করতে পারে না। হতাশাবাদী হওয়া মানেই রিজাইন দেয়া, হেরে যাওয়া, সুযোগগুলো হাতছাড়া হতে দেয়া, ভালোতর পৃথিবীর স্বপ্ন মুছে ফেলা। দুটো চিন্তাই শেষ অবধি কানাগলি।আমি ব্যক্তিগতভাবে, যৌক্তিকভাবে ভাবার চেষ্টাটা ভালোভাবে করতে চাই,পরিষ্কারভাবে দেখতে চাই সব।