কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো

সারা জীবন তো আর সিনেমা বানামু না। বয়স ষাইট হইলে ছাইড়া দিমু কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো

 

[কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনো । মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং অভিনেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের নক্সভিলে ২৭ মার্চ ১৯৬৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। অনেকের কাছে তিনি ‘কিউ’ নামে পরিচিত। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে রিজারভয়ার ডগ্‌স নামক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার ব্যাপক পরিচিতি সৃষ্টি হলেও আসলে তার পরিচালনা এবং অভিনয় জীবনের শুরু ১৯৮৭ সালে মাই বেস্ট ফ্রেন্ড্‌স বার্থডে ছবির মাধ্যমে। তিন বছর পরে তার পাল্প ফিকশন এর মত স্বকীয়তায় ভাস্বর অন্যধারার ছবি নির্মাণ করেন। এই ছবিটি শেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কারের জন্য অস্কার মনোনয়ন পায়। একই সাথে তিনি সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য-এর জন্য অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বহু পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর ‘The Talks’ কে একটা  সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারকে নিজের মতো বাঙলায় রূপান্তর করেন আলাল আহমেদ। অনুবাদক এই ভাষান্তর বিষয়ে বলেন, ‘ অনুবাদে আমার ঠিক পোষায় না। আমি ট্যারান্টিনো হইলে এম্নেই কইতাম মনে হইসে। তাই জাস্ট ভাষাটা বদলাই দিলাম আর কি...।’ যাই হোক, সাক্ষাৎকারটি কথাবলির পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।]

 

মি. ট্যারান্টিনো, আপ্নের মুভি দেইখা সবার আগে যেইডা জিগাইতে ইচ্ছা করে তা হইল, মাইয়া মাইনসের ঠ্যাং লইয়া আপ্নের কি অবসেশন আছে?

কইতে লজ্জা নাই। তয় সত্যিকারের ঠ্যাং-পাগলা যদি কেউ থাইকা থাকে সে হইল আলফ্রেড হিচকক। এছাড়া বুনুয়েল বা ফুলারের মুভিতেও আপ্নে এইডা পাইবেন। এই কারনেই এরা যথেষ্ট ভাল মেকার আছিল। কারন হ্যারা জানত যে ক্যামেরা কোন দিকে তাক করতে হয়। তয় আমার মুভিতে শুধু ঠ্যাং না পাছাও সমানতালে দেহাই।

বীভৎসতার বেলায়ও কি একই কথা কইবেন?

আমি ভাই আমার মত কইরা গল্প কই। আমার কাছে জানরা বা সাব জানরার ভিতরে ঢুকতে বেশি মজা। আমার পছন্দের বিষয় আসয় তো এম্নিতেই একটু সংবেদনশীল, তা সে ক্রাইম মুভি, কুং ফু মুভি, সামুরাই মুভি, স্ল্যাশার মুভি, কার চেস যাই হোক ভায়োলেন্স তো থাকবেই। থ্রিলিং সিনেমা বানাইতে গেলে তো এইসব জিনিসপাতির কারনে এম্নিতেই বিচি বুচি কান্ধে উইঠা যায়। আমার ভালই লাগে। তয় জ্যাকি ব্রাউন কিন্তু ঠিক ভায়োলেন্ট না, এইডা পুরাডাই ক্যারেক্টারের কাবজাব।

তো এইরম জীবন্ত চরিত্রাবলি আপ্নে বানান ক্যাম্নে?

আপ্নের লগে ইয়ার্কি করুম না। আমি কিন্তু একজন ল্যাখক, ল্যাখালেখিই আমার কাম। একজন ল্যাখকের কাজ কিন্তু খালি নিজেরে নিয়া লেখা না, বাদবাকি আদমসন্তানদের খোঁজওতো রাখতে হইব, নাকি? হ্যারা কেম্নে কথা কয়, কি সব ভাষা ইউজ করে। আমার মাথাডা হইল একটা স্পঞ্জ। মাইনশে কি কয় হেইডা আমি মন দিয়া শুনি, মাইনশের আজিব আজিব কাজকাম আমি মন দিয়া দেহি। ধরেন কেউ আমারে একটা কৌতুক কইল বা মজার কোন ঘটনা কইল, আমি কিন্তু সেইডা মনে রাখি, ভুলি না।

যদি আপ্নের মনে না থাহে, তাইলে?

তাইলে আর কি। সেইডা মনে রাখার মত কিছু না। দ্যাহেন, ছয় মাস হোক বা পনের বছরই হোক আমি যহন সেইডা ল্যাখতে বসি আমার কলমের অ্যান্টেনায় তা ঠিকই ধরা পড়ে। কম বেশি পুরা ক্যারেক্টারডাই কলমের মাথায় আইসা পড়ে। আমি খালি তাগো ডায়লগ লেহি না, একজনের লগে আরেক জনরে কথা কইতে দেই।

ভায়োলেন্সেই যদি আবার ফেরত যাই, আপ্নে নিজে ভয় পান কিসে?

পয়লা নম্বরে আমি কমু, যদিও একেবারেই একটা অযৌক্তিক ব্যাপার, ইন্দুর। আমি ইন্দুরে খুব ডরাই।

তাই নাকি?

হ। এইডাই আমার একমাত্র দুর্বলতা কইতে পারেন। ধরেন এই টেবিলের উপ্রে যদি একটা ইন্দুর থাকত, আমি মনে অয় কোন মাইয়ার কোলে চইড়া বসতাম। মনে হয় হ্যার ঘাড়ে উইঠা চিক্কুর দিতাম।

দুঃস্বপ্ন দ্যাখসেন কহনো?

ম্যালা দিন হইল দেহি না। মাইনসে গ্যাদাকালে দুঃস্বপ্ন দ্যাখলে সোজা গিয়া মা’র খাটে চইড়া বসে। কিন্তু আমার মায় এইসব ব্যাপারে খুব কড়া আছিল। একটু বড় হইলে পরে আমার মায় আবার নিজের বিছানায় পাঠায় দিত। তো এতে আমার মনে হইলে যে দুঃস্বপ্ন দেহার বিলাসিতা আমার আর নাই।

আপ্নে বাচ্চা কাচ্চা নেয়ার কথা ভাবসেন কখনো? নাকি এতে আপ্নের সিনেমা বানানোর এনার্জি খাইয়া দিবে?

দেহি কি হয়। সারা জীবন তো আর সিনেমা বানামু না। বয়স ষাইট হইলে ছাইড়া দিমু।

আপ্নে এই ব্যাপারে নিশ্চিত?

না। তয় আপাতত এইডাই প্ল্যান। আমি এমন বুইড়া ফিল্ম মেকার হইতে চাইনা যে কিনা জানেই না কখন থামতে হইব। আর ওই সব পুরান মাল দিয়া আমি আমার ফিল্মোগ্রাফির গুয়া মারতেও চাই না। তয় মন বদলাইতেও পারে। যদি মনে হয় বাষট্টিতেও পারতাসি তাইলে হয়ত বানামু। বিজয়োন্মত্ত থাকতে থাকতেই রিং ছাড়তে চাই। আমি সেই লোকটারেই চাই, যে এই মুহুর্তে আপ্নের সামনে বইসা আছে। যে কিনা মুভি বানাইতে পারে, বাতিল মাল না। ওই সময় হয়ত পন্ডিত (যার সব কিছু পন্ড হইয়াছে?  হইয়া জামু। সিনেমার বই, গল্প উপন্যাস লিখমু, বাচ্চা কাচ্চা নিমু। 

সারা জীবনে কয়ডা মুভি দ্যাখসেন বইলা মনে করেন?

কইতে পারমু না। তয় ১৭ থিকা ২২ বয়সের সময় হলে গিয়া সিনেমা দেখতাম আর লিস্ট বানাইতাম। নতুম মুভি হইলে গোল দাগ দিয়া রাখতাম। আর মুভি পছন্দ হইলে নিজে নিজেই প্রাইজ দিতাম। সব সময় একই অ্যামাউন্টের, ১৯৭ বা ২০২। এবং নিজে প্রাইজ দিতে গিয়া ফতুর হইয়া যাইতাম। খুব বেশি ভাল লাগলে গড়ে ২০০ করে দিতাম।

আমার তো মনে হয় এইডারে অনেক বেশি বলাই নিরাপদ। কোন তিনটা মুভি আপ্নের সবচেয়ে বেশি পছন্দের?

আজকে, মানে এহনই জিগাইলে আপ্নরে তিনডা নাম কইতে পারমু। কিন্তু কাইল বা এহন তে ছয় ঘন্টা পরে জিগাইলে সেইডা ভিন্ন কিছু হইব। 

তো এহন কোন তিনডার নাম কইবেন?

এহন কইলে আমি অ্যাবট এন্ড কস্টেলো মিট ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন এর কথা কমু। কারণ ছোটবেলায় দেহা আমার সবচেয়ে পছন্দের মুভি। এর একটা কারণ হইতে পারে বিভিন্ন জানরার মিশ্রণ। অ্যাবট আর কস্টেলোর ব্যাপারটা বেশ ফানি কিন্তু ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন আইলেই বিষয়ডা খানিক ভীতিকর হইয়া যায়। আমি জানতামই না যে আমি সেই পাঁচ বছর বয়সেই জানরা ভাগ করতাসিলাম। আসলে আমি সারা জীবন এই কাজডাই কইরা আইছি। একটার লগে আরেকটা মিশাই দিছি। এর পর কমু ট্যাক্সি ড্রাইভার এর কথা। কেন তা বলাডা এট্টু কঠিন। আপ্নে দুই এক কথায় এই সিনেমার ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। আমি কমু সিনেমার ইতিহাসে এইডাই সবচেয়ে অভিনব ক্যারেক্টার স্টাডি। একমাত্র উপন্যাসেই একটা ক্যারেক্টাররে এম্নে ট্রিট করা হয়। আর একই সাথে এইডা খুবই এন্টারটেইনিং। পুরা মুভি জুইড়া আপ্নে হাসির উপাদান পাইবেন। সবশেষে কইলে, আমি যেইডার নাম সব সময়ই কই, দ্য গুড, দ্য ব্যাড এন্ড দি আগলি’র নাম কমু। 

এমন কোন জানরা আছে যেইডা আপ্নের ভাল লাগে না?

সবকিছুই যে আমার ভাল লাগে তা না। ঐতিহাসিক মুভি ভাল লাগে, কিন্তু আমি আবার কস্টিউম ড্রামার ফ্যান না। আর একটা জানরা আছে যেইডা আমি বাল দিয়াও পুছি না সেইডা হইল জীবনীমূলক মুভি। এইগুলা হইতাসে অস্কার জেতার ফন্দি। এইগুলারে আমি কমু করাপ্টেড, অসৎ সিনেমা।

ক্যানো?

আপ্নে পৃথিবীর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লোকের জীবনীও যদি শুরু থিকা শেষ পর্যন্ত কইয়া যান তাইলেও পুরা একটা বোরিং মুভি হইব। আপ্নে এইডা করতে চাইলে এগো জীবন নিয়া কমিক ছাপাইলেই পারেন। ধরেন এলভিস প্রিসলিরে নিয়া মুভি বানাইতে গেসেন। আপ্নে তার সারা জীবন নিয়া বানাবেন ক্যান। তার লাইফের একটা দিন নিয়া বানান। যেদিন সে কিনা সান রেকর্ডসে গেসিল গানের রেকর্ড করাইতে। বা তার আগের দিন নিয়া মুভি বানান যেইডা শেষ হইব যহন সে কিনা সান রেকর্ডস এর দরজায় পা দিল। এইডারে আমি কমু একটা মুভি। 

আমি হয়ত খানিকটা খুশিই হমু, কিন্তু ওই মুভি আমি দেখমু না।

 

Image result for pulp fictionপাল্প ফিকশন (১৯৯৪)