আকরাম রতন

আর্টের টেকনিক জানাটাও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া আকরাম রতন


 

[আকরাম রতন। মূলত চিত্রী ও ডিজাইনার। ফটোগ্রাফি ও লেখালেখিও করেন অবসরে কখনোসখনো। জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে, পাবনায়। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে সিনিয়র ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার হিশেবে দীর্ঘ দিন কর্মরত। কথাবলির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছি ডিজাইন, আর্টসহ নানা বিষয়ে। —নির্ঝর নৈঃশব্দ্য।]

 

ডিজাইনিং লাইনে কখন কীভাবে এলেন?

ঠিক মনে নেই! তবে ২০০৩ সাল থেকে ডিজাইন এবং ডিজাইন রিলেটেড কাজ করে রুজি-রোজগার করি।

আপনি তো মূলত ডিজাইনার। একই সঙ্গে ছবিও আঁকেন। দুইটাকে সমন্বয় কেমন করে করেন?

দুটি আসলে পরিপূরক বিষয়ই। ফলে একটি করতে গেলে আরেকটি এমনিতেই সমন্বিত হয়।

ডিজাইন করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যা ফেস করতে হয়?

ব্যক্তিগতভাবে আমি ডিজাইন করে আনন্দই পাই। যখন অন্য কারো (বিশেষগুরুত্বপূর্ণ কেউ) মন রাখার জন্য এই কাজ করি, তখন তো একটু অপসনস রাখতেই হয়।

বাঙলাদেশের ডিজাইনের ভবিষ্যত কী?

ভবিষ্যত ভালো। তবে বর্তমান অন্ধকারাচ্ছন্ন!

কেনো অন্ধকারাচ্ছন্ন বলে আপনি মনে করছেন?

আমি গ্রাফিক ডিজাইনের কথাই বলি। যে কোনো কাজেরই একটা শিক্ষাকাল থাকে...। আমাদের ক্রেতারা এখন্ও এর মান ও মূল্য বুঝতে পারছে না। গ্রাফিক্ ডিজাইন মূলত কমার্শিয়াল প্লাটফর্ম। যার কারণে অনেকে গ্রাফিক ডিজাইনে লেখাপড়া করেও অন্য পেশা বেছে নিয়েছে বেঁচে থাকতে। আর যারা পারছে তারা বেশির ভাগই অবমূল্যায়িত হচ্ছে। তাই ক্লায়েন্ট/কনজিউমাররা এককথায় না জেনে, বুঝে ঠকাচ্ছে গ্রাফিক ডিজাইনারদের। আমাদের দেশের ক্ষমতাবানদের কিছু কুসংস্কার আছে যা তারই ফলাফল।

ডিজাইন করার ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেন বেশি?

আমার চেনা পরিবেশ ও প্রতিবেশকে যা আমি মূল উৎস হিশেবে গন্য করি।

ব্র্যান্ডিং নিয়ে কিছু জানতে চাই আপনার কাছে...

ব্রান্ডিং মানেই সামাজিকরণ পদ্ধতি...। মানুষের কাছে পণ্যের বা কোণোকিছুর গুণাগুণ তুলে ধরে ক্রেতা বা ভোক্তাকে সে বিষয় সম্পর্কে আকৃষ্টকরার কৌশলই বলব!

একটা পোডাক্ট বা কোম্পানির সাইনকে ব্র্যান্ড মডেল হিশেবে দাঁড় করাতে একজন ডিজাইনারের কী ভূমিকা বা তিনি কোন বিষয়টাকে গুরুত্ব দিবেন?

ডিজাইনারের অনেকগুলি স্তর আছে। ডিজাইনটাই বা কী? যে প্রকৃতিথেকে ফর্ম সংগ্রহ করে নকশা করে সেও ডিজাইনার আবার যারা পরিকল্পনা করছে তারাও ডিজাইনার। ব্র্যান্ডিং একটা কমবাইন্ড ওয়ার্ক ইনডোর এবং আউটডোর মিলেই এর উত্তরনের জায়গাটা নির্মাণ হয়। শুধু ভূমিকা নয় তারা অদৃশ্যতা কে দৃশ্যের ধারণাদেয়। ডিজাইনার একটি আকর্ষণীয় কোম্পানি মার্ক বা আইকন তৈরি করে। ক্লায়েন্ট প্রদত্ত পণ্যের মুড অনুযায়ী রংটাও অবশ্যই সেই প্রোডাক্টটের এবং প্রতিষ্ঠানের এমনকি ভোক্তাকে অর্থপূণ্য ভা্বে আকর্ষণ করবে এই টোটালিটিার জায়গা থেকে নির্মাণ করে তারপর সেই অনুয়ায়ী আর সব প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়ালস তৈরি করে আউটডোর একটিভিটির সঙ্গে অফিস ম্যানেজমেন্টকে যোগ করে একজন ম্যানেজারের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পেইনিং চালানো হয় এবং সেই পণ্যেকে মানুষের ভিতর তার আবেগময় একটা উপস্থিতি তৈরি করার কাজটাই ব্যান্ডডিং-এর।

আপনিতো একসময় লেখালেখিও করতেন। ছেড়ে দিলেন কেনো?

আমি লেখালেখি করতাম, মানে কবিতা লিখতাম। এটাকে ঠিক লেখালেখি বললে ভুল হবে। এটাকে বলা যায় তেষ্টা....। সে তেষ্টা আমার এখও মেটেনি। তবে একথা স্বীকার করতেই হয় সেই বোঝাবুঝি ও বোধই এখনকার আমি...

আপনিতো বইয়ের প্রচ্ছদও আঁকেন। কবে থেকে আঁকেন?

তখন আমি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, ছোটকাগজের প্রচ্ছদ আর লেআউট করে কম্পিউটার গ্রাফিক্স-এ হাতেখড়ি। তারপর এসিড আক্রান্ত সারভাইভার্সদের জন্য অর্থ্ সংগ্রহের জন্য আমি একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করি। তার পোস্টার আর মনে পড়ছে যতুটুকু, কবি বন্দে আলী মিয়া আর্ট কলেজের জন্য দাবি রেখে একটা পোস্টার আমার প্রথম ভাবনার ডিজাইন। তারও অনেক পরে মনীষ রফিক ভাইয়ের অনেকগুলি সম্পাদিত বইয়ের প্রচ্ছদ দিয়ে আমার এ যাত্রা শুরু। তারপর প্রকাশক ও লেখকদের সঙ্গে প্রচ্ছদ নিয়ে কাজ করি।

আপনি কি মনে করেন প্রচ্ছদ সম্পূর্ণ বইটাকে উপস্থাপন করতে পারে?

অবশ্যই আপনার প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবো, হ্যাঁ।

একটা বইয়ের প্রচ্ছদের কেমন করে সম্পূর্ণ বইকে রিপ্রেজেন্ট করে একটু যদি বলতেন?

বইয়ের অন্তরে যা লেখাথাকে প্রচ্ছদ তারই বাহ্যিক রূপ বা সেই বই যে ভাবনার ওপর গড়ে ওঠে তার আদল। আমি বলবো বই হচ্ছে শব্দের চিত্রকল্প আর প্রচ্ছদ হচ্ছে রেখা ও রঙের চিত্রকলা। তবে হ্যাঁ, সেটা বহু চিত্রকল্পের প্রকাশ নাও হতে পারে তবে সকল চিত্রকল্পকে সে ধারণ করে।

একটা বইয়ের প্রচ্ছদ করতে গিয়ে কতোটুকু স্বাধীনতা পান?

আমাদের দেশে প্রচ্ছদই শুধু নয় সবক্ষেত্রে একটা চালাকি আছে। স্বাধীনতা বলতে এখানে কিছু নাই। ভূমি দখলের মতো দখল হয়ে যায়। এরা ডিজাইনারের ভাবনার রূপ তৈরি দেখে নিজেদের ডিজাইন সত্তাকে জাগায়, পরে ডিজাইনার শুধু শ্রমিক। তবে হ্যাঁ, যাদের ঐতিহ্য আছে ভাবনার, সৃজনশীলতার তারা কাজটাকে একটি বিশেষ সৃষ্টি বলেই দেখেন।

প্রচ্ছদ কি বই-এর মূল্যমান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। মানে প্রচ্ছদের কারণে কি বইয়ের বিক্রি বা পাঠকপ্রিয়তা বাড়ে?

মূল্যের জায়গা থেকে আমার তা মনে হয় না। তবে মানের ক্ষেত্রে অবশ্যই ভূমিকা রাখে। ব্যাপারটা আসলে আপেক্ষিক তবে পাঠকপ্রিয়তা যে বাড়ে না তা নিশ্চিত।

একাডেমিক পড়াশোনা প্রচ্ছদ শিল্পের ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখে?

হয়তো আপনিও দ্বিমত করতে পারেন! একাডেমিই আসলে মানুষের ভেতর বীজবপন করে আর তা মহীরূহ হয়ে ওঠে। শেকড়হীন গাছ হয় না।

প্রচ্ছদ করার ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দেন?

লেখকের ভাবনার সঙ্গে পাঠকের প্রথম মেলবন্ধনেই থাকে আমার প্রাধান্যের জায়গা। এটাকে সম্পূর্ণ আর্ট আমি বলব না। এটা একটা ভিজুয়াল কমিউনিকেশনস।

প্রচ্ছদ কি পাণ্ডুলিপি পড়ে করা সম্ভব হয়?

আমি প্রথম দিকে পাণ্ডুলিপি পড়েই প্রচ্ছদ করতাম, পরে সেটা আমার কছে একটু সময় সাপেক্ষ মনে হলো। তার চেয়ে বড় কথা, প্রায় সব বইতেই একটা সারসংক্ষেপ থাকে, যেটা বইয়ের ফ্ল্যাপে ছাপা হয়। তবে হ্যাঁ আমি এ পর্যন্ত যতগুলি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছি তার সারসংক্ষেপ পড়ে, তারপর চিন্তা করেছি রূপদানের। আর অনেক সময় সারসংক্ষেপ পড়ে না বুঝলে তো বই পড়তেই হবে। তা নাহলে প্রচ্ছদ আঁকার ক্ষেত্রে নৈতিকতা থাকে না।

বর্তমান প্রচ্ছদ শিল্পের সংকটগুলি কী বলে আপনার মনে হয়?

শিল্পীদের সৃস্টিশীল ভাবতে হবে, তার একটি সঠিক বিনিময় মূল্যকে মূল্যায়ন করতে হবে। এক বন্ধু আমাকে বলেছিল শিল্পীদের আবার বৈষয়িক চিন্তা কেন? হয়তো তাই! কিন্তু আমি বলব এ কথাটার ভেতর যে চালাকিটা লুকিয়ে আছে সেখান থেকে প্রকাশক ও লেখক এবং দেশের উদীয়মান পয়সাঅলাদের বেরিয়ে আসতে হবে, শুধু প্রচ্ছদ শিল্পেই নয় সকল ধরনের ভাবনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রেই।

কার কার প্রচ্ছদ ভালো লাগে?

কাইয়ুম চৌধুরী যার প্রচ্ছদ আর টাইপোগ্রাপ নতুন ধারা তৈরী করেছিলো বাঙলাদেশে। বর্তমানে অনেকের কাজই ভাললাগে, আপনিতো নিজেও প্রচ্ছদশিল্পী এবং আঁকিয়ে...। আপনার প্রচ্ছদ আমার ভালো লাগে তবে খুব তাড়াহুড়ার কাজগুলি বাদে। সব্যসাচী মিস্ত্রীর কাজ ভিন্নতা আছে। ধ্রুব এষ, মানুষটার সঙ্গে আমার পরিচয় নাই তবে তার কাজ প্রকাশনাশিল্পকে রূপ দিয়েছে। নিয়াজ চৌধুরী তুলি, সব্যসাচী হাজরা, অবশ্য তার রিপিটেশনগুলি বাদে আরো অনেকে।

প্রচ্ছদ করাকে কি পেশা হিশেবে নেয়ার যায়?

প্রচ্ছদ আসলেই একটা দারুণ ভাবনা প্রকাশের জায়গা। শিল্পীকে মূল্যায়ন করতে হবে। তা একদম নাই। তাই পেশা হিশেবে নেয়ার কোনো অবকাশ নাই। এটাই গভীরভাবে দুঃখজনক... । তবে আমি আশাবাদী আগামীতে প্রকৃত প্রচ্ছদশিল্পীকে দিয়েই প্রচছদ অংকন করা হবে।

আমার মনে হয়, আর্টিস্টদের মধ্য থেকেই যদি কেউ প্রদর্শনীগুলির কিউরেটিং করে ভালো হয়। আপনার কী মনে করেন?

একের ভিতর যত গুণ, ততই ভালো সোসাইটির জন্য। তাছাড়া কিউরেটিং একটা আলাদা বিষয়। সকল শিল্পীর ভেতরই একজন কিউরেটর থাকে; তবে তারা কিউরেটিং লজিকের ভেতর আটকে থাকলে চলে না। শিল্পীর কাজ আরো গভীরে; অদৃশ্য কে দৃশ্যমান করা। দৃশ্যমান কিছু নিয়ে নাড়াচারা করা নয়। তবে কিউরেটিং পেশাজীবীদের দরকার আছে শিল্পীদের প্রয়োজনেই। আর্টের আরো অনেক বিষয় আছে যেখানে কর্মক্ষেত্র তৈরি করার সু-সুযোগ আছে।

গ্যালারির মধ্যে যে শিল্পকলা সীমাবদ্ধ, আমজনতার কাছে তা পৌঁছায় বলে আপনি মনে করেন?

এটা একটা প্রশ্ন। তবে আদিকাল থেকেই প্রতিষ্ঠান মানুষের একটি অভ্যাস। প্রতিষ্ঠানকে আমি নেতিবাচকভাবেও দেখি না আবার এটাই সব তাও মনে করি না। তবে আর্ট কেন? এইভাবনার সামাজিকরণ আমাদের দেশে একটু বেশি দরকার।

দেশের কনটেম্পরারি আর্টিস্টদের কাজ সম্পর্কে বলেন।

ইদানীং তো একটা সময়ের অতিক্রান্ত বর্তমান। সব শিল্পীই সত্য ভাবনা থেকে গড়ে ওঠে, তাছাড়া শিল্পীর প্রাথমিক ভাবনা এবং কাজ অর্জিত হয় না। এই অর্জনের ধারাটা আমাদের এখানে কেন যেন থেমে যায়। এই বোঝাবুঝির শূন্যতা কোথায়? এই গবেষণার মানুষ নাই। আমরা জাতিগতভাবেই শুধু ফল ভোগ করতে চাই। সমস্যা গবেষণা করি না। গবেষণার সময় সবাই মুর্খ্ (মুখ্য নয়) থেকে গৌণ হয়ে যাই।

শিল্পের বাজার তৈরির ব্যাপারে আপনার কি মত?

বাজার কথাটাই বুর্জোয়া প্রকৃতির। শিল্পীর বাজার দরকার নাই। কারণ তারা সংস্কৃতি, এতিহ্য ও সভ্যতার নির্মাণকারী। এই সহজ কথাটা বুঝতে হবে। আজ পৃথিবীর বড় বাজারগুলি না খেতে পাওয়া শিল্পীদের কঙ্কালের ছাইও বেচে নিজেদের সভ্যতায় ফিরে আসার দাবী করছে।

আপনার নিজের কাজ সম্পর্কে বলেন এইবার।

নিজের সম্পর্কে বলাটা সত্যি কঠিন আমি এখনও শিখছি এটাই ইতিবাচক। আর এখনও অনেককিছুই শেখা শেষ হয়নি বা হয়ে ওঠেনি এটা নেতিবাচক।

ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা ?

আমি ভবিষ্যতে আমার নিজের সঙ্গে নিজেই সুন্দর সময় কাটাতে চাই। এই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।

ডিজাইনার, চিত্রী কোন পরিচয় ভালো লাগে?

এরা দুজনই মানুষ, মানুষ হতে চাই....

প্রিয় চিত্রশিল্পী কে? এবং কেনো?

জয়নুল আবেদিন। তার আঁকা আমাকে শক্তি দেয়।

বাঙলাদেশের আর্টের ভবিষ্যত কেমন দেখছেন?

আর্টের টেকনিক জানাটাও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

পৃথিবীর সমকালীন আর্ট সম্পর্কে অবজার্বেশন কী?

এটা একটা কাল, সমকালীনরা এক্সপেরিমেন্ট করছে। যুগে যুগে এরকম সময় আসে। তার সংকট দূরও হয়।

আমার মনে হয় দালি, ফ্রান্সিস বেকন প্রমুখের প্রভাব আমাদের সমকালীন চিত্রশিল্পে ব্যাপক। আপনার মত কী?

আমরা স্টাডি করতে গিয়ে অনুকরণ করে ফেলি। তবে সেটার প্রভাব সচেতনভাবে দীর্ঘদিন না করাই ভালো।

আপনি তো এক সময় অভিনয়ও করতেন। ছেড়ে দিলেন কেনো?

তখন আমি ছোটো। ক্লাস নাইনে পড়ি। অভিনয় করতাম সত্য। তবে মঞ্চাভিনয়। মঞ্চনাটক ডিজাইনেও কাজ করেছি। তবে সত্য হচ্ছে পূর্ণাঙ্গরূপে থিয়েটার আন্দোলন করতে যাওয়াটাই মূল লক্ষ ছিল। অভিনয়টা ছিল শূন্যস্থান পূরণ। পরে আর পারলাম না দুঃখজনক! আমাদের অগ্রজরা আসলে সঠিব দিক নির্দেশনা দিতে পারেনি। এখন তাই মনে হয়।

প্রিয় ফিল্মমেকার কে? এবং কেনো?

লুই বুনুয়েল। আর তার পরাবাস্তব ভাবনার প্রকাশ।

শুনেছি আপনি একসময় সিনেমাও বানিয়েছেন, ছেড়ে দিলেন কেনো? আর কোনো পরিকল্পনা কি আছে?

আমি আসলে ফিল্ম বানিয়েছিলাম সেটা ফিল্মটাকে বোঝার জন্য। ছাড়িনি প্রতিদিন ফিল্মের ভাবনা আমাকে আকৃষ্ট করে। ভবিষ্যৎ এখনও সামনে।

শিল্পে ইনস্টলেশন বিষয়টা কেমন লাগে?

খারাপ না, একটা ভিন্নমাত্রা।

কী সবচে’ বেশি আকর্ষণ করে?

বই। 

আপনার আঁকাআঁকির শুরুটা নিয়ে বলেন।

শুরু তো বারবার হয়েছে! আমার মা অনেক ভালো ডিজাইন করতেন। তিনি জাপানে একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরিরও অফার পেয়েছিলেন সেইসময়, কিন্তু যাননি। পরে দেশেই সরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে ডিজাইন শেখাতেন। সেই আমার অনুপ্রেরণায়, আমার মেজভাইয়ের আঁকার ধৈর্য্য আমাকে আকায় অনুপ্রাণিত করেছিল। শুরু হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকা দিয়ে। আমি এই একই ছবি বারবার আঁকতাম। এমনকি শিল্পকলা একাডেমীতে রবীন্দ্রনাথের ছবি এঁকেই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। পরে আমার ভাবনার জায়গাটার উন্নয়ন যতটুকু ঘটেছে তা লুভা আপার (লুভা নাহিদ চৌধুরী)সাহচর্যে এসে (না বললে অপূর্ণতা থেকে যাবে)তিনিই আমার হাতে আবার রং তুলে দিয়েছেন এবং এখনও...

ছোটোবেলায় কিছু হতে চাইতেন?

না মনে হয়, আমার মনে পড়ে না!

শিল্পীর দায় সম্পর্কে আপনার মত কী?

শিল্পীর দায় আজীবন, শিল্পের পরিচর্যা করা। পরবর্তী প্রজন্মকে উৎসাহিত করা।

আমি সামাজিক দায় বিষয়ে জানতে চাইছিলাম।

শিল্পী সমাজের অনুবীক্ষক, সমাজ তার হাতে নতুন রূপ গ্রহণ করে। এ দায় থেকে শিল্পী হিশেবে তার মুক্তি নাই।

শিল্পসাহিত্যে স্টান্টবাজি নিয়ে বলেন।

যা করলে নিজের পরিচয় খারাপ হয়, তা না করাই ভালো।

আপনার সমকালীন ডিজাইনারদের সম্পর্কে বলেন।

সবাই ভালো করার ক্ষমতা রাখে। তবে ডিজাইন বিষয়টাই ক্লায়েন্টনির্ভর, আর ক্লায়েন্টের মন রক্ষাতো করতে হয়ই।

শিল্পকলার ক্ষেত্রে পুরস্কারগুলি প্রকৃতপক্ষে কী কোনো ভূমিকা রাখে?

এটা একটা সময় পর্যন্ত ভূমিকা রাখে। আর উৎসাহ যোগায়। আর উৎসাহ কাজের প্রেরণা যোগায়।

মানুষ সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল প্রজাতির প্রাণি...