হিমালি গোলে সংগ্রামী

নারীরা এখানে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, এটা বানোয়াট কাহিনি হিমালি গোলে সংগ্রামী


 

[হিমালি গোলে সংগ্রামী। নেপাল গণমুক্তি বাহিনীর একজন কমান্ডার। সাক্ষাৎকারটি নেপালের বিপ্লবী পত্রিকা ‘জনাদেশ’-এর ২৫ মে, ২০০৪ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ হয়। তারপর ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ সালে ‘নারী মুক্তি’ ৩য় সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ হয়। এটির অনুবাদ সর্বশেষ প্রকাশ করে লালসংবাদ। কথাবলির পাঠকদের জন্য আবার প্রকাশ করা গেলো। এটি বাঙলায় ভাষান্তর করেন রিজওয়ানা তৃষা]

 

আসল নাম, বয়স এবং ঠিকানা উল্লেখ করতে আপনার কোনো সমস্যা নেইতো?

আমার নাম হিমালি গোলে সংগ্রামী, বয়স ২৩ বছর এবং আমার বাড়ি দোলাখা জেলার ১নং ওয়ার্ডের গৌরীমুদি গ্রাম গণকমিটিতে।

আপনি এখন গণমুক্তি বাহিনীর কোন পর্যায়ে কাজ করছেন?

আমি এখন নেপাল গণমুক্তি বাহিনীর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের অধীন বি-কোম্পানীর সহকারী কমান্ডার হিশেবে কাজ করছি।

আপনি কীভাবে গণযুদ্ধে যুক্ত হলেন সে সম্পর্কে অনুগ্রহ করে কিছু উল্লেখ করবেন কি?

গৌরীমুদিতে পুতালিকাথ স্কুলে যখন পড়ছিলাম তখন ইউএমএল হলো নেপালের সর্ববৃহৎ সংশোধনবাদী পার্টি।  যা গণযুদ্ধকে বিরোধিতা করছে। এর ঘনিষ্ঠ অখিল (সর্ব নেপাল জাতীয় স্বাধীন ছাত্র ইউনিয়নকে সংক্ষেপে অখিল বলা হয়)-এর অধীনে কয়েক বছর কাজ করেছিলাম যা কিনা ১৯৯১ সালে গঠিত হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে এসএস.. পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, ইউএমএল-এর লাইন ভুল।  সে সময়ে আমি উপলব্ধি করতাম যে, গণযুদ্ধে আমার অংশ নেয়া উচিত। ২০০০ সালে খিমতি ব্যাংক দখলের পর মাওবাদী পার্টির কমরেডগণ আমার নিকট আসেন।  আলোচনার পর আমি এতে যোগ দিতে মনস্থির করি। ২০০০ সালের ১০ ও ১১ মে মাইনা পোখারি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আমাদের গ্রামে পুলিশ আসে। তারা আমার বাবা, মা, বড় বোন এবং চাচা সকলকে পিটিয়ে সংজ্ঞাহীন ক’রে ফেলেছিল। আমাকেও পিটিয়ে আমার চাচার বাড়িতে তারা আমাকে ধর্ষণ করতে চেষ্টা করেছিল। প্রথমে আমি তীব্র আর্তনাদ করেছিলাম, বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমার মুখমণ্ডলে ও মাথার খুলিতে পিটিয়ে আমাকে সংজ্ঞাহীন করে। আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি দেখলাম যে, ইতোমধ্যেই আমি ধর্ষিত হয়েছি। আমি আর্তচিৎকার করি; কিন্তু তারা আমাকে ঘরের বাইরে আসতে দেয়নি।  রাতে আমি একটি জঙ্গলে পালিয়ে যাই এবং একটি গুহায় আশ্রয় নেই।  তারা সেখানে দুদিন থাকে, পাঁঠা মেরে খায়, সম্পদ লুট করে এবং রাতে ফিরে যায়। এরপর আমি আমার বাড়িতে ফিরে আসি।

পরের দিন পুলিশ আমাকে ও আমার বাবাকে গ্রেফতার করে এবং আমাদেরকে জেলা পুলিশ সদরদপ্তরে নিয়ে যায়। যে ডিএসপি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল তাকে আমার উপর পুলিশের সমস্ত অপকর্মের কথা বলি, এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাই। এরপর আমি সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের মাধ্যমে সমস্ত ঘটনা জনসাধারণ্যে জানাই।  প্রচন্ড চাপের মুখে তারা রাকেশ নামের সহকারী দারোগাকে হাজতে পাঠায়।  আমি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলাম, তারা উক্ত এএসআইকে ৭ বছরের জেল দেয়।

আমি নভেম্বর, ২০০০-এ কমরেড রিৎ বাহাদুর খাদকার সঙ্গে কথা বলি।  সেই থেকে, আমি একজন সার্বক্ষণিক কর্মী হিশেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে গণযুদ্ধে জড়িত আছি।

২০০০ সালে যখন পুরনো রাষ্ট্র ভয়ংকর হত্যাকান্ড চালাচ্ছিল, সেই জটিল পরিস্থিতিতে আপনি কী ক’রে ঐরূপ দুঃসাধ্য পথ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন?

যখন আমরা ছোট ছিলাম, তখন আমাদের উপর কমিউনিজমের প্রভাব ছিল। আমরা অবিচার, নৃশংসতা ও নিপীড়নের শিকার ছিলাম, এবং আমাদের একটি অনুভূতি ছিল যে আমাদের উচিত এ সবের বিরোধিতা করা। আমার উপর যা ঘটেছিল, দেবী খাদকাসহ অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও তা ঘটে।  আমি অনুভব করি যে, এধরনের ঘটনার যথোপযুক্ত প্রতিশোধ নিতে এবং তার অবসান ঘটাতে নিপীড়িত সর্বহারা শ্রেণির ক্ষমতা দরকার এবং ঐ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে অবশ্যই উঠে দাঁড়াতে হবে।  ধর্ষণের ঘটনাও আন্দোলনে যোগ দিতে আমাকে আন্দোলিত করেছিল।

গণযুদ্ধে যোগদানের পর আপনি কীভাবে এ পর্যন্ত এসেছেন, দয়া ক’রে উল্লেখ করবেন কি?

সার্বক্ষণিক কর্মী হবার পর পি.এল.এ.-তে যোগ দিতে আমি আমার ইচ্ছা ব্যক্ত করি।  তারপর, একটি স্কোয়াডে এবং জেলা নারী কমিটির একজন সদস্য হিশেবে কাজ করি। কিছুদিন পর, আমি একটি এলাকা পার্টি-কমিটিতে এবং একটি স্কোয়াডে কাজ করি।  যখন পার্টি কোম্পানী গঠন করলো তখন আমি তাতে যোগ দিতে চাই। এবং এখন পর্যন্ত আমি এর অধীনে কাজ ক’রে যাচ্ছি।

পিএলএ-তে আসার পর কোথায় কোথায় যুদ্ধে আপনি অংশ নিয়েছেন?

কিরাতেছাপ, থোকারপা, জারায়োতার, মাইনাপোখারী, খানিভানজিয়াং, ধোবি, ভাকুন্দেবেশি, চৈনপুর, ভিমান, লাহাল, ভোজপুর প্রভৃতিসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে আমি যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছি।

যুদ্ধে প্রথম অংশগ্রহণের সময় আপনি কেমন অনুভব করেছিলেন?

যুদ্ধের ফ্রন্টে প্রথম পৌঁছার পূর্বে আমি অনুভব করতাম এটা কেমন হবে; কিন্তু এটা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সাহস উজ্জীবিত হয়েছিল। যখন আমরা, নিপীড়িতরা, যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলাম; আর সেজন্য আমি গর্বিত ছিলাম।

এটা বলা হচ্ছে যে নারীরা পুরুষের সমান যুদ্ধ করতে পারে না?

আমি মনে করি না যে, যুদ্ধে আমরা পুরুষের চেয়ে দুর্বল। বরং আমরা, শত-শত বছর ধরে নিপীড়িতরা মনে করি যে, যদি আমরা যুদ্ধ করার সুযোগ পাই তাহলে আমরা সবকিছু করতে পারি। মতাদর্শ আমাদেরকে শক্তি যুগিয়েছে, এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কেউ যদি সঠিক মতাদর্শ আঁকড়ে ধরে তাহলে সে সবকিছু করতে পারে। শারীরিক সমস্যার সময়ে পার্টি আমাদেরকে ব্যায়াম না করার নির্দেশ দেয়; কিন্তু নারী কমরেডগণ ঐ সময়কালেও তা করেন। আমরা কোন সমস্যা অনুভব করি না। এমনকি, এখন আমি মনে করি না যে আমরা কোনরকম দুর্বল।

পিএলএ-তে কী পরিমাণ নারী আছে? নারী এবং পুরুষের মধ্যে কোনো পক্ষপাতিত্ব সেখানে আছে কি ?

পিএলএ-তে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। পার্টি একটি সুস্পষ্ট নীতি নিয়েছে; সুতরাং কোন প্রকার পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না।

যদিও নারীদের সংখ্যা পুরুষের সমান্তরাল। কিন্তু বাহিনীর নেতৃত্বে পুরুষদের প্রাধান্যই দেখা যায়।

পিএলএ-তে এখন নারীরা কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন কমিশারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাই বাহিনীর নেতৃত্বে কোন নারী নেই প্রশ্নটা তা নয়।  অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে গণযুদ্ধ সূচনার পর প্রায় ২০০১ সাল পর্যন্ত পি.এল.এ.-তে নারীর সংখ্যা খুবই কম ছিল।  যেহেতু পুরুষ কমরেডগণ দীর্ঘকাল যাবত কাজ করছেন, তাই এটা নিশ্চিত যে, তাদের পক্ষেই বেশি বিনিয়োগ, যোগ্যতা অর্জন- ইত্যাদি ঘটেছে।  কিন্তু নারীরা অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে নিজেদেরকে বিকশিত ক’রে এখন এগিয়ে আসছেন।  আমরা নারীরা, যাদেরকে প্রতিক্রিয়াশীল-ক্ষমতা ভীরু, পলাতক বলে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিশেবে দাবিয়ে রাখতো, তারা এখন তাদের (শত্রুর) বিরুদ্ধে যুদ্ধকে এক জীবন-যুদ্ধে পরিণত ক’রে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন; এবং যুদ্ধফ্রন্টের প্রত্যেকটি দুঃখ-কষ্ট ও লড়াইকে সাধারণীকরণ করছেন।  আমরা এজন্য গর্বিত।

পিএলএ-এর প্রাত্যহিক রুটিন কীভাবে চলে ?

আমাদের বাহিনীতে খুব ভোরে শারীরিক ব্যায়াম করতে হয়। আমরা নিয়মিতভাবে ড্রিল করি। আমরা সামরিক গাইড, সামরিক রচনাবলি, সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক পুস্তকাদি অধ্যয়ন করি। যারা লেখাপড়া জানেন না, তাদেরকে তা শিক্ষা দেয়া হয়। বহু কমরেড এখানে আসার পর লেখাপড়া শিখেছেন। রান্না, খাওয়া, পাহারা প্রভৃতিসহ সমস্ত করণীয় কাজ, রুটিন মত চলে। আমরা যুদ্ধ সংক্রান্ত কাজ, উন্নয়নমূলক কাজ, জনগণের সেবামূলক কাজ, গণজমায়েত এবং অন্যান্য বিভিন্ন অভিযানেও অংশ নেই।

যখন আপনারা গ্রামাঞ্চল পরিদর্শন করেন, তখন অন্যান্য নারীরা কীরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়?

যখন আমরা পিএলএ’র পোষাকে গ্রামাঞ্চল পরিদর্শন করি, তখন মায়েরা এবং বোনেরা আমাদেরকে খুব ভালবাসে। শুরুতে যখন তারা আমাদেরকে যোদ্ধার পোষাকে দেখত, তখন পিএলএ.-তে নারীদের দেখে তারা আশ্চর্য বোধ করতো, তারা আমাদের দেখতে আসতো এবং বিভিন্ন কৌতূহল প্রকাশ করতো। কিন্তু এখন, কিছু কিছু উঠতি বয়সী বালক ও বালিকারা বলে যে, তারা আমাদের সঙ্গে চলে আসবে; আর কিছু কিছু বৃদ্ধা মায়েরা বলেন, আমরা যদি জোয়ান থাকতাম তাহলে আমরাও তোমাদের মত যুদ্ধ করতে পারতাম।  কিছু ক্ষেত্রে, তারা তাদের উপর নিপীড়ন, অত্যাচার ও শোষণের গল্প শোনায় এবং দাবি করে যে, তাদেরকে যুদ্ধ করার সুযোগ দিতে হবে।

কিছু লোক বলে যে, পিএলএ-তে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন আছে?

নারীরা এখানে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়, এটা বানোয়াট কাহিনি। যারা পিএলএ-কে অপবাদ দিতে চায়, এগুলো তাদের দ্বারা আনীত মিথ্যা অভিযোগ।  পিএলএ মার্কসবাদী নিয়মানুসারে কাজ করে। এখানে প্রেম এবং বিয়েও সংঘটিত হয় এই নিয়মানুসারে। যদি কেউ ভুল-টুল করে তাহলে তাদের চরম শাস্তি দেয়া হয়।

আমরা শুনেছি যে, পুরনো রাষ্ট্র আপনার বাবাকে হত্যা করেছে, তিনি কীভাবে নিহত হয়েছেন ?

৭ সেপ্টেম্বর ২০০৩, আমাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন আমার বাবা রাম বাহাদুর লামা গোলে (৫২) এবং নামডু ভিপিসি-তে তারা তাকে হত্যা করে। ১৯৯৫ সালের পর তিনি ৪ বছর জেলে ছিলেন।  তিনি ভিপিসি’র প্রধান ছিলেন এবং গণযুদ্ধে অংশ নিচ্ছিলেন।

যখন আপনি আপনার বাবার হত্যার সংবাদ পেলেন, তখন আপনি কেমন অনুভব করেছিলেন ? 

কে যখন তার নিজের বাবার মৃত্যু সংবাদ শোনে, তখন তার কোন দুঃখ হবে না- এমন প্রশ্ন ওঠে না।  এটা একটা যুদ্ধ; বিপ্লবে শুধু নিজের রক্তই নয়, বহু লোকের রক্ত ঝরেছে।  আজকে বিরাট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে নেতৃত্ব, ক্যাডার ও জনগণের বড় বড় আত্মত্যাগের থেকে।  এটা যুদ্ধের একটা নিয়ম।  অবশ্যই আমার বাবার মহান মৃত্যুর জন্য আমি গর্বিত হব, এবং অবশ্যই আরো দৃঢ়ভাবে যুদ্ধে লেগে থাকব।  পুরনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের মাধ্যমেই কেবল আমাকে ধর্ষণ ও পিতৃহত্যার প্রতিশোধ বাস্তবে পরিণত হবে।

পিএলএ-তে যোগদান উপলক্ষে এখন আপনি কেমন বোধ করছেন?

আমি মনে করি যে, পিএলএ-তে যোগ দেয়া বেছে নিয়ে ভাল করেছিলাম। কিন্তু আমি মনে করি আমার দেরি হয়েছিল; আরো আগেই আমার যোগদান করা উচিত ছিল।

আপনি কি আত্মবিশ্বাসী যে লড়াই করে পুরনো রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে?

আমরা জিততে পারি এর উপর প্রশ্ন তোলাটা প্রয়োজনীয় নয়।  এই যুদ্ধ, যা কিনা গতকাল পাথর আর ব্যাটনের মাধ্যমে লড়া হয়েছিল, তা এখন এমন এক মাত্রায় উপনীত হয়েছে যা বাংকার, আমেরিকান অস্ত্রশস্ত্র, পরিকল্পনা এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক প্রশিক্ষণের সজ্জায় সজ্জিত রাজকীয় আমেরিকান বাহিনীকে পরাজিত করার শক্তি অর্জন করেছে।  পুরনো রাষ্ট্র এখন রাজধানী এবং হেডকোয়ার্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। …আমাদের আগামী যুদ্ধ হচ্ছে শেষ এবং নির্ধারক যুদ্ধ।  শত্রু যখন ধ্বংসের মুখে তখন আমাদের আক্রমণ তার বিলোপ পর্যন্ত এগিয়ে যাবে এবং সর্বহারারা বিজয়ের পতাকা প্রজ্জ্বলিত করবে।

সবশেষে আপনি কি কিছু বলবেন ?

আমি পিএলএ-এর একজন নারী যোদ্ধা হিশেবে সমগ্র নারী জাতিসহ সকল জনগণের কাছে এই চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য আবেদন জানাতে চাই।  আমি ‘জনাদেশ’-এ আমাদের মতামতের জন্য স্থান বরাদ্দ করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই