অজিত প্রসাদ হেমব্রম

হুদুড় দুর্গা (মহিষাসুর) ঈশ্বর নন যে আমরা তাঁর পূজা করবো; তিনি ছিলেন আমাদের রাজা অজিত প্রসাদ হেমব্রম

 

[বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপুজার পাশাপাশি ভারতের প্রায় ৫০০টি জায়গায় দলিত-বহুজন-আদিবাসীরা হুদুড় দুর্গা  অর্থাৎ মহিষাসুর স্মরণ দিবস পালন করে থাকে। এই অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকে দলিত আদিবাসীরা তাদের রাজা মহিষাসুরের আবক্ষমূর্তি উন্মোচন করে। তারপর চলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-পাতা সেলাই, ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের বিস্কুট দৌড়, স্লো–সাইকেল, সূঁচে সুতো পরানো আর ফুটবল ম্যাচ। সারা রাত ধরে চলে দাঁশাই, সাড়পা ও কাঠি নাচের অনুষ্ঠান। দলিত ও আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে আসা প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন তাঁদের প্রতি ব্রাহ্মণ্যবাদীদের অবিচার আর বঞ্চনার ইতিহাস। সেই আদি কালে দক্ষ সেনা হিসাবে আর্য দুর্গ পরিচালনা করেছিলেন বলেই নাকি দুর্গাদেবীর নাম হয়েছিল আর অন্যদিকে অনার্য আদিবাসী খেরোয়ালদের মুখ্য দুর্গ পরিচালক হিসাবে মহারাজা ঘোরাসুরকেও হুদুড় দুর্গা বলা হয়ে থাকে। যেমন শ্রেষ্ঠ নারীকে মহিয়সী বলা হয় তেমনি পুংলিঙ্গে শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসাবে মহারাজা ঘোরাসুরকে মহিষাসুর উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ওরা বিশ্বাস করে, তাদের আদিপুরুষ হুদুড় দুর্গা ঘোরাসুর অর্থাৎ মহান রাজা মহিষাসুরকে নীতিহীনভাবে ছলা-কলায় আর্য নারী দুর্গা হত্যা করে আর তারপরেই আর্যবর্তে আর্যসাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়। সেই বিজয়ক্ষণে সাঁওতাল, মুন্ডা, কোল, কুর্মি, মাহালী, কোড়া প্রভৃতি খেরোয়াল গোষ্ঠীর আদিবাসীরা তাদের বশ্যতা স্বীকার না করে নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নারীর ছদ্মবেশে দাঁশাই নাচ, কাঠি নাচের মাধ্যমে অন্তরের দুঃখ নিয়ে আনন্দের অভিনয় করতে করতে সিন্ধুপাড় ছেড়ে আসাম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বঙ্গদেশ ও দক্ষিণ ভারতের বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। মহান রাজা ও দেশ হারানোর ব্যথা নিয়ে সেই হুদুড় দুর্গা মহিষাসুরকে অন্যায় নিধনের দিন থেকে আদিবাসীরা তাদের পিতৃপুরুষের স্মরণে অতি করুণ সুরে ‘হায়রে হায়রে’ বলতে বলতে আজও এই দাঁশাই নাচ ও কাঠি নাচ পালন করে চলেছে। সেইসব বিষয়-আশয় নিয়ে ২০১৬ সালে সাঁওতাল-খেরোয়াল আদিবাসী অ্যাক্টিভিস্ট অজিত প্রসাদ হেমব্রমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন পশ্চিম কলকাতা থেকে প্রকাশিত লিটল ম্যগাজিন ‘আয়নানগর’-এর প্রতিনিধিরা। আর সেই সাক্ষাৎকারটি aainanagar.com-এ প্রকাশিত হয় ২০ মে ২০১৭ সালে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কথাবলির পাঠকদের জন্য সেই সাক্ষাৎকারের বাংলায় ভাষান্তর করেছেন অজিত দাশ।]

 

পুরুলিয়ায় কবে থেকে অসুর উৎসব শুরু করেন?

২০১১ সালের ৫ অক্টোবর থেকে।

 

এই উৎসবের পিছনে যে-গল্পটি আছে সেটি জানতে চাই?

আমাদের একটি প্রধান উৎসব হলো দশানি। এটাকে দুঃখ উদযাপনের দিন বলা যেতে পারে। কেননা এই দিনে আমরা আমাদের সবকিছু হারিয়েছি। প্রাচীন কালে খেরোয়ালদের একজন মহান নেতা ছিলেন। যিনি বিদেশি আক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাকে বিদেশিরা নানা ছলাকলায় যুদ্ধে পরাজিত করে। আমরা তার মতো এমন নেতৃত্ব আর পাইনি। তাই আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি এবং হুদুড় দুর্গা বলে ডাকি। দশানি তার স্মরণেই পালন করা হয়ে থাকে।

 

তাহলে অসুরদের জন্য দশানি হলো শহিদ দিবস? বিষয়ে আরো কিছু ইতিহাস জানতে চাই

আসলে আমরা আমাদের নিজস্ব ভূখণ্ডেরর কথা স্মরণ করি। যেটির নাম ছিলো চাইচম্পা। এটি ছিলো সুখের দেশ। সেইসময়ে আমাদের পিতৃপুরুষরা শিক্ষিত ছিলেন এবং তারা বড় বড় বাড়িঘরে বসবাস করতেন। তারা ছিলেন ব্যবসায়ী। কোনো দারিদ্র ছিলো না। আর এই গল্পগুলোই আমরা আমাদের গানে বলে থাকি।  আমাদের সেই নেতৃত্বদানকারী পুরুষটিই হলো মহিষাসুর যাকে আমরা হুদুড় দুর্গা  বলে ডাকি। সেই সময়ে আর্যরা এই ভূখণ্ড আক্রমণ করে। মহিষাসুর আমাদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক পরে আমরা জানতে পারি আমাদের নেতা হুদুড়দুর্গাকে হিন্দুরা মহিষাসুর নামে জানে। যেহতু আর্যরা এই ভূখণ্ডে নতুন ছিলেন তাই তারা কোনোভাবেই মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারছিল না। তারা খুঁজে বের করে আমাদের পিতৃপুরুষরা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতেন। যেমন কখনোই তারা নারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতেন না। আর্যরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হুদুড় দুর্গাকে আর্য নারীর সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দেন।  যখন হুদুড় দুর্গাকে তাঁর নববধূর সহায়তায় হত্যা করা হয়—তখন আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের একমাত্র নেতাকে হারিয়েছিল। আর আর্যদের পরবর্তী লক্ষ্য হয়ে উঠেছিলেন। যখনি তারা বুঝতে পারলেন যে আর্যদের আক্রমণে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আর নেই তখনি তারা চাইচম্পা থেকে পালাতে শুরু করেন এবং নানাদিকে ছড়িয়ে পড়েন। এমনকি পালিয়ে যাওয়ার সময়ও তাদের বিশ্বাস ছিলো যে পুরুষরা নারীর বিরুদ্ধে কখনোই যুদ্ধ করতে পারে না। তাই তারা নারীর পোশাক পরেছিলো। দশানি উৎসবটি হুদুড়দুর্গার সময়কালেও ছিলো কিন্তু তখন ছিলো সেটি আনন্দের উৎসব। কিন্তু হুদুড় দুর্গার মৃত্যুর পর সেটি শোক পালনের উৎসব হিসেবেই পালন করা হয় এবং গানের মধ্যে ‘হায় হায়’ ব্যবহার করা হয়। আমাদের পূর্ব পুরুষরা নারীর পোশাক পড়ে হায় হায় করতে করতে গঙ্গা নদীর উপর দিয়ে পালিয়েছিলেন। 

 

কেন দিনটিকে শহিদ দিবস হিসেবেই পালন করা হয়? কেন মহিষাসুরের পূজা করা হয় না?

হুদুড় দুর্গা কোনো ঈশ্বর নন যে আমরা তাঁর পূজা করব। তিনি ছিলেন আমাদের রাজা। আমরা পাঁচদিন ধরে তাঁর জন্য শোক পালন করি। আমরা তাকে বলি হোড়। হোড় মানে হলো মানুষ। আদিম মানুষ। তাঁর রাজ্য ছিলো স্বর্গের মতো। যা আমরা এখনো কামনা করি। এমনকি আমাদের মধ্য থেকে কোনো সাঁওতাল যদি কোটিপতিও হয় তাহলে সেও সম্মত হবে যে তাঁর সুখ অনন্ত সুখের সেই ভূখণ্ডে বসবাসকারী সাঁওতালদের তুলনায় অনেক কম। আর্যদের আক্রমণের ফলে আমরা সেই সুখ হারিয়েছি। আমাদের রাজাকে হারিয়েছি যা ভুলবার নয়। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বিরল কোনো ব্যক্তিত্ব না হলে খুব কমই কাউকে গৌরবান্বিত করা হয়। হুদুড় দুর্গা ও সেই বিরলদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি অবিস্মরনীয়ভাবে আমাদের মধ্যে বেঁচে আছেন।

 

মহালয়া থেকে শুরু করে প্রথম দশদিন দুর্গাকে অশুভ শক্তি হিসেবেই দেখে অসুররাএছাড়া বিষয়ে আপনার কোনো মতামত আছে?

আপনারা দেখেছেন নিশ্চয়ই শত্রুকে মানুষ সবসময় শয়তান বলে আখ্যা দেয়। এটা ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। ব্রিটিশদের কাছে ভারতের মুক্তি যোদ্ধারা ছিলো শয়তানের মত।

 

তার মানে আপনি আর্যদের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবছেন...

অবশ্যই। সেই সময়ে ভারতবর্ষে আগত আর্যদের কাছে এখানকার আদিবাসীরা শত্রু ছিলো। আর একারণেই তাদের রচিত ইতিহাসে তারা নিজেদের মহৎ হিসেবেই দেখিয়েছে। খেরোয়াল আদিবাসী গোষ্ঠীদের মধ্যে সাঁওতালসহ আরো অনেক উপজাতিই নামের শেষে অসুর পদবি ব্যবহার করেন। আমাদের অন্য আরেকটি পদবি হলো মুরমু। এই অসুররা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যেমন উত্তর-দক্ষিণ দিনাজপুর, ঝাড়খন্ডসহ আরো নানা জায়গায় বসবাস করছে। তারাও আমাদের মতোই। এটা দুঃখের বিষয় যে এই আদিবাসীরা তাদের পূর্ব পুরুষদের শয়তান হিসেবে জানছে। 

 

পুরুলিয়ায় উৎসব চলাকালীন আপনি বলেছেন যে দুর্গাপ্রতিমায় মহিষাসুরকে দুর্গার পায়ের নিচে রাখা হয় সেটিকে পরিবর্তন করতে হবেকেন? 

কেননা হুদুড় দুর্গা আমাদের পিতৃপুরুষ। এটা আমাদের দুঃখ দেয়। তাঁকে দুর্গার পায়ের নিচে বসানো হয়েছে। দশানি চলাকালে আমরা আমাদের ইতিহাস এবং হুদুড়দুর্গা কে স্মরণ করে থাকি। সে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে সত্য কিন্তু শতাব্দী ধরে তাঁকে যেভাবে ভুলভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে সেটি অত্যন্ত নীচ, যা ঠিক নয়।  

 

পুরুলিয়ায় কি এটি প্রথম শুরু হয়?

আমার জানা মতে এটিই প্রথম, তবে নাও হতে পারে। এ বছর প্রায় পাঁচশ জায়গায় এই উৎসবটি হয়েছে। জহুরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়েছে। আমি কিছু ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে যা মনে হলো ২০১১ সালেই এটি প্রথম শুরু হয়।

 

কেন ২০১১ সালে ? তার আগে শুরু হয়নি কেন?

এই গল্প যে আগে থেকে জানি না তা কিন্তু নয়। আমরা বুঝতে পারিনি আসলে কী করতে হবে। যখন ঝাড়খন্ড আন্দোলন এবং  আদিবাসী ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যখন যুক্ত হয়েছি তখন থেকে আমরা আমাদের আত্ম পরিচয় নিয়ে সচেতন হতে শুরু করেছি। আমরা জানতে পারি যে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী আমরা আসলে হিন্দু নই। আমাদের পূর্ব পুরুষদের হিন্দুরা অসুর, দানব এবং রাক্ষস বলেই জানে। ২০১১ সালের দিকে বিজেপি ক্ষমতা আসার পূর্বে বাবা রামদেব ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতবর্ষকে পূনরায় তিনি রামরাজ্য, কৃষ্ণরাজ্যে পরিণত করতে চান। যখন আমি টিভিতে বাবা রামদেবের নির্বাচনী প্রচারণা দেখছিলাম তখন মনে হলো যদি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে খুব দ্রুত আমাদের জাতিসত্তা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখজনক বিজেপি আবার ক্ষমতায় চলে আসেন। তখনো আমি এ রকমভাবে এই উৎসব উদযাপনের কথা চিন্তা করিনি। আমাদের গ্রামে নানা উপজাতি এবং সম্প্রদায়ের লোকজন আছে। আমরা সাঁওতালরা হিন্দুদের মন্দিরে কখনো যাই না। আমরা তাদের রীতিনীতিও অনুসরন করি না। কিন্তু আমাদের স্ত্রীরা দুর্গাপূজা করেন। তবে সেদিন আমি বাড়িতেই থাকি এবং আমার কাছে এই বিষয়গুলো ভেবে অদ্ভুত লাগে। আসলে আমাদের লোকজন তাদের আত্মপরিচয় এবং ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। যারা অল্প বিস্তর জানে তারাও দেখা যায় অন্যান্যদের মধ্যে সেটির কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। আমি একটা উপায় খুঁজছিলাম। অনেক আগে পরিমল হেমব্রমের লেখা একটি বই পড়ে মহিষাসুর সম্পর্কে জানতে পারি যে, মূলত দুর্গা  ছিলেন আর্য শক্তি। তারপরেই আমি এই উৎসবটির কথা ভাবি। মূলত অসুর এবং দেবতা কী? ইতিহাসের কোথায় তারা মিথ্যে কথা বলেছে? অসুর এবং দেবতার বংশধর কিন্তু এখনো রয়েছে। তাহলে তারা কারা? আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারিনি।  এই দশানি আমাদের ইতিহাসকে জানার একটি বড় উপায় তাই আমি এটি শুরু করি।

 

এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে আপনার কী মনে হয় হিন্দু ঐতিহ্যের প্রভাব আপনার সম্প্রদায় হতে কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে?

আপনারা দেখেছেন নিশ্চই, আমাদের অঞ্চলে যেখানে আমরা বসবাস করি সেখানে অন্যান্যরা আমাদের উপজাতিদের উপর বিশেষ নজর রাখে। আমার ধারণা এটার তাদের দুর্বলতা থেকেই শুরু হয়েছে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস- আমরা সবকিছুই খেয়ে থাকি যেমন গরু এবং শুকর। এটা তাদেরকে বিরক্ত করে। কিন্তু এটাতো আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং প্রথা, এতে অন্য কারো বিরক্ত হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। যখন থেকে আমরা এই অনুষ্ঠানটি শুরু করেছিলাম, এটি ধর্মাচারের পরিবর্তে আমাদের নিজস্ব ইতিহাস এবং সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটিয়েছিল। আমাদের ধর্মীয় কাহিনিগুলো সামাজিক অধ্যয়নের আওতায় এসেছে। ফলে ধীরে ধীরে যারা আমাদের প্রতি বিরক্ত হতো তারাও আমাদের প্রতি বিবেচনা করতে শুরু করেন। এখন আমাদের কথা শোনার অনেক লোকজন আছে।

 

আপনার গোত্রের বাইরে অন্য কারো প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন কি কখনো?

তেমন কিছু ঘটেনি। আমাদের অঞ্চলে দুর্গা পুজা যেখানে হয়ে থাকে সেখান থেকে দুশ মিটারের ভিতরেই আমরা আমাদের উৎসব পালন করি। আমরা গ্রামের উচু জায়গাতে সেটি পালন করি। আর দুর্গা পুজা সাধারণ নিচু জায়গায় হয়ে থাকে।

 

কারা সেটি আয়োজন করে?

সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে হিন্দুরাই সেটি করে থাকে।

 

আপনার গোত্রের লোকজন কি দুর্গা পুজায় অংশগ্রহণ করে?

আপনারা কী জানেন, এখানে মুসলিমরাও হিন্দুদের মন্দিরে আসে নানা রোগব্যাধি থেকে নিরাময় পাওয়ার জন্য। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুর্গা পুজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফলে সেখানে বসবাস করা অনেকেই দুর্গা পুজায় অংশগ্রহণ করে। দুর্গা পুজার প্রথম দিন থেকেই আমরা হুদুড় দুর্গাকে স্মরণ করি। আমাদের মধ্যে কেউ যখন দুর্গাপূজার মন্ডপে প্রবেশ করে প্রথমেই তারা হুদূর দুর্গাকে শ্রদ্ধা জানায়। যদিও তারা তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে তেমন কিছু জানেনা তবে এখন অনেকেই দুঃখ অনুভব করে ।  

 

তাহলে তারা অন্তত ইতিহাস পুনূরুদ্ধার করছে?

শুধুমাত্র খেরোয়ালরাই নয়। অন্যান্য অনেকেই এখন এ বিষয়ে আগ্রহ পোষণ করছে। আমাদের কোনো লিখিত ইতিহাস নেই। দাঁশাই গানগুলোই আমাদের ইতিহাস গাথা।

 

গানগুলো আবার প্রকাশ হচ্ছে?

লেখক এবং লোকশিল্পীরা আমাদের গানগুলো সংগ্রহ করছে। তারা এগুলো সম্পর্কে জানছে- যদিও পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছেনা তবে আমরা যতটুকুই করছি সেখান থেকে তারা শিখছে। অনেকেই এখন আমাদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং নানা গল্প জানতে চায়।

 

কোন মাসে এই অনুষ্ঠানটি করে থাকেন?

আশ্বিন মাসে। পুরো আশ্বিন মাস জুড়েই দাঁশাই গান হয়ে থাকে। এটা আমাদের শোকের মাস।