জাক দেরিদা

ফরাসি দর্শনিক, ১৫ জুলাই, ১৯৩০-এ তৎকালীন ফ্রান্স অধ্যুষিত আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স নগরীর এল বিয়ার শহরতলিতে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কেটেছিল মুসলিম-প্রধান আলজিরিয়ায়। সেখানে শৈশবেই সাম্প্রদায়িকতার শিকার হতে হয়েছে, স্কুলে ভর্তি করে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয় সাতশতাংশের বেশি ইহুদি ছাত্র নেয়া যাবে না এই সূত্র প্রয়োগ করে। অন্য দলে গিয়েও টিকতে পারেননি অসহনীয় জাতি-বিদ্বেষের জন্য। তিনি ডিকন্সট্রাকসন বা বিনির্মাণ নামে সেমিওটিক বিশ্লষণের একটি নতুন ধারা তৈরি করার জন্য বেশি খ্যাতি লাভ করেছেন। তার চিন্তা ও বিশ্লেষণ উত্তরাধুনিক দর্শনের সঙ্গে জড়িত এবং দার্শনিক অভিমুখ উত্তর কাঠামোবাদী (post-structuralist) কাজ হিশেবে পরিগণিত। দেরিদা তার বিভিন্ন বক্তৃতায় ও লেখায় কাঠামোবাদের (structuralism) নানা দুর্বলতা, অসঙ্গতি ও অপর্যাপ্ততা চিহ্নিত করেছেন। মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার প্রভাব রয়েছে। দর্শন, সাহিত্য ছাড়াও আইন নৃতত্ত্ব, ইতিহাস-রচনা, ভাষাতত্ত্ব, সামাজিক-ভাষাতত্ত্ব, মনোঃসমীক্ষণ, রাজনৈতিক তত্ত্ব, ধর্মগবেষণা, নারীবাদ, সমকামিতা গবেষণায়ও তার প্রভাব আছে। বিশেষ করে তার শেষের দিকের দর্শনে নৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয় বেশি এসেছে। কিছু সমালোচকের মতে Speech and Phenomena (1967) তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ।  অন্যান্য কাজের মধ্যে Of Grammatology, Writing and Difference, and Margins of Philosophy তার উল্লেখযোগ্য কাজ। দর্শন বিষয়ে তার ধারণা আর জটিল কাজগুলির জন্য যখন তিনি বির্তকিত হয়ে পড়েন তখনই তিনি বিখ্যাত আর প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ত্ব হয়ে উঠেন। দেরিদা বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছেন বিশ্লষণাত্নক দার্শনিকদের থেকে। সব থেকে বড় আক্রমণ হয় যখন ১৯৯২ এ তারা  কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দেরিদাকে অনারারি ডক্টরেট দেয়াটা বন্ধ করার চেষ্টা করেন।  দেরিদা ২০০৪ সালে ৯ অক্টোবর, ৭৪ বছর বয়সে প্যারিসে মারা যান।